৩৫/১২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৯৫৬ - জীবন্ত প্রাণীকে লক্ষ্য বানানোর লা‘নত
জীব-জন্তু বেঁধে তীরের লক্ষ্যবস্তু বানানোর নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে
জীবন্ত প্রাণীকে লক্ষ্য বানানো গুরুতর নিষেধ
সহীহ মুসলিম : ৪৯৫৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৯৫৬
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ مَرَّ ابْنُ عُمَرَ بِفِتْيَانٍ مِنْ قُرَيْشٍ قَدْ نَصَبُوا طَيْرًا وَهُمْ يَرْمُونَهُ وَقَدْ جَعَلُوا لِصَاحِبِ الطَّيْرِ كُلَّ خَاطِئَةٍ مِنْ نَبْلِهِمْ فَلَمَّا رَأَوُا ابْنَ عُمَرَ تَفَرَّقُوا فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ مَنْ فَعَلَ هَذَا لَعَنَ اللَّهُ مَنْ فَعَلَ هَذَا إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ لَعَنَ مَنِ اتَّخَذَ شَيْئًا فِيهِ الرُّوحُ غَرَضًا .
সা’ঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু ‘উমর (রাঃ) কতিপয় কুরায়শ যুবকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা একটি পাখি বেঁধে সেটির দিকে তীর নিক্ষেপ করছিল। আর প্রত্যেকটি নিশানা ব্যর্থ হওয়ার কারণে তারা পাখির মালিকের জন্য একটি করে তীর নির্ধারণ করছিল। তারপর তারা ইবনু ‘উমর (রাঃ)-কে দেখে আলাদা হয়ে গেল। ইবনু ‘উমর (রাঃ) বললেন, কে এ কাজ করলো? যে ব্যক্তি এরূপ করেছে তার প্রতি আল্লাহর লানত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লানত করেছেন, যে কোন জীব-জন্তুকে লক্ষ্যস্থল বানায়।
ই.ফা. ৪৯০২, ই.সে. ৪৯০৬
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৯৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু উমর (রাঃ) কুরাইশের কিছু যুবককে দেখেন, তারা একটি পাখি বেঁধে তীর ছুঁড়ছিল। যারা লক্ষ্যভ্রষ্ট হচ্ছিল, তাদের তীর পাখির মালিকের জন্য ধরা হচ্ছিল। ইবনু উমর (রাঃ)-কে দেখে তারা ছড়িয়ে যায়। তিনি বলেন, যে এমন কাজ করেছে, তার প্রতি আল্লাহর লা‘নত। এরপর তিনি জানান, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) লা‘নত করেছেন, যে প্রাণ আছে এমন কিছুকে লক্ষ্যস্থল বানায়। এই হাদিসে প্রাণীকে কষ্ট দেওয়ার নিষেধ খুব জোরালোভাবে এসেছে। বিনোদন, পরীক্ষা বা প্রতিযোগিতার নামে কোনো জীবন্ত প্রাণীকে আঘাত করা ইসলামের দয়ার শিক্ষার সঙ্গে যায় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জীবন্ত পাখি বা প্রাণীকে তীরের লক্ষ্য বানানো নিষিদ্ধ।
- প্রাণীকে কষ্ট দিয়ে খেলা বা প্রতিযোগিতা করা উচিত নয়।
- এই ধরনের কাজের প্রতি হাদিসে কঠোর সতর্কতা এসেছে।
- প্রাণীর জীবনকে অবহেলা করা মুসলিমের আচরণ নয়।
