৩৭/৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫১০৩ - পাত্র নয়, নেশাজাতীয় জিনিস হারাম
মুযাফ্ফাত, দুব্বা, হানতাম ও নাকীর [৫] ইত্যাদিতে নাবীয তৈরি করার নিষেধাজ্ঞা (এবং এ হুকুম রহিত হওয়া আর নেশা সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এগুলো বৈধ) হওয়ার বর্ণনা
পাত্র নয়, নেশাজাতীয় পানীয়ই হারাম
সহীহ মুসলিম : ৫১০৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫১০৩
وَحَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا ضَحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ، مَرْثَدٍ عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «نَهَيْتُكُمْ عَنِ الظُّرُوفِ وَإِنَّ الظُّرُوفَ - أَوْ ظَرْفًا - لاَ يُحِلُّ شَيْئًا وَلاَ يُحَرِّمُهُ وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ».
বুরায়দাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে নাবীয তৈরি করতে সব রকম পাত্র (ব্যবহার করা) হতে বারণ করেছিলাম। পাত্রগুলো অথবা (তিনি বলেছেন,) কোন পাত্র কোন জিনিসকে হালাল করতে পারে না হারাম করতে পারে না। তবে সব ধরনের নেশা জাতীয় জিনিসই নিষিদ্ধ।
ই. ফা. ৫০৩৮, ই. সে. ৫০৪৮
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫১০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তিনি আগে নাবীয তৈরির পাত্রগুলো ব্যবহার করতে বারণ করেছিলেন। এরপর তিনি বলেন, পাত্র কোনো জিনিসকে হালাল করতে পারে না, হারামও করতে পারে না। বরং সব ধরনের নেশাজাতীয় জিনিসই হারাম। এই বর্ণনায় নাবীযের পাত্রের আলোচনার মূল শিক্ষা আরও পরিষ্কার হয়ে যায়। প্রথমে কিছু পাত্রের বিষয়ে নিষেধ ছিল, কিন্তু এখানে বলা হচ্ছে, আসল বিষয় পাত্র নয়; পানীয় নেশা সৃষ্টি করে কি না সেটাই বড় বিষয়। তাই নাবীয, মদ, মুস্কির বা নেশাজাতীয় পানীয় সম্পর্কে ইসলামের মূল সতর্কতা হলো নেশা থেকে দূরে থাকা। হাদিসের ভাষা সরাসরি এবং খুব শক্ত: সব নেশাজাতীয় জিনিস হারাম। তাই এ বর্ণনা নাবীযের পাত্রের বিধান ও নেশার বিধান—দুই বিষয়ই বুঝতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পাত্র নিজে কোনো জিনিসকে হালাল বা হারাম করে না।
- সব ধরনের নেশাজাতীয় জিনিস হারাম বলা হয়েছে।
- নাবীযের ক্ষেত্রে মূল সতর্কতা হলো তা নেশা সৃষ্টি করছে কি না।
- ধর্মীয় বিধানে মূল কারণ বুঝে চলা জরুরি।
