২/৩০. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৪৭ - মসজিদের পবিত্রতা ও নববী শিক্ষা
মাসজিদে প্রস্রাব এবং অন্যান্য নাপাকী পড়লে তা ধুয়ে ফেলা জরুরী। আর পানি দ্বারাই মাটি পবিত্র হয়, কুঁড়ে ফেলার প্রয়োজন পড়ে না।
মসজিদের পবিত্রতা রক্ষায় নববী ধৈর্যের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৫৪৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫৪৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيِّ، ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، جَمِيعًا عَنِ الدَّرَاوَرْدِيِّ، - قَالَ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَدَنِيُّ، - عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَذْكُرُ أَنَّ أَعْرَابِيًّا، قَامَ إِلَى نَاحِيَةٍ فِي الْمَسْجِدِ فَبَالَ فِيهَا فَصَاحَ بِهِ النَّاسُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «دَعُوهُ». فَلَمَّا فَرَغَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِذَنُوبٍ فَصُبَّ عَلَى بَوْلِهِ .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা জনৈক বেদুঈন এসে মসজিদের এক কোণে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে থাকলে লোকজন চিৎকার করে তাকে বিরত রাখার চেষ্টা করল। তা দেখে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, থাম, তাকে বাধা দিওনা। তার প্রস্রাব করা শেষ হলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এক বালতি পানি আনতে আদেশ দিলেন এবং প্রস্রাবের উপর ঢেলে দিলেন।
ই.ফা. ৫৫১, ই.সে. ৫৬৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মসজিদের পবিত্রতা রক্ষার একটি সহজ কিন্তু গভীর শিক্ষা এসেছে। একজন বেদুঈন মসজিদের এক কোণে প্রস্রাব করতে শুরু করলে লোকেরা তাকে থামাতে চাইল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাদের থামিয়ে বললেন, তাকে বাধা দিও না। তিনি কাজটি শেষ করার পর এক বালতি পানি আনতে বললেন এবং প্রস্রাবের জায়গায় পানি ঢাললেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো—ভুল দেখলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোরতা নয়, বরং ধৈর্য ও সঠিক সমাধান দরকার। মসজিদ পবিত্র রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তবে মানুষকে সংশোধন করার পদ্ধতিও সুন্দর হওয়া চাই। এই হাদিসে মসজিদের আদব, পবিত্রতা, প্রস্রাব পরিষ্কার করার নিয়ম এবং নববী কোমল আচরণ একসাথে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মসজিদ পবিত্র রাখার জন্য নাপাকি দূর করা জরুরি।
- কারও ভুল দেখলে ধৈর্য ধরে সঠিকভাবে সংশোধন করা উচিত।
- নাপাক স্থানে পানি ঢেলে পরিষ্কার করার শিক্ষা এই হাদিসে পাওয়া যায়।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মানুষের সঙ্গে কোমল ও জ্ঞানভিত্তিক আচরণ করতেন।
