৪৪/৩৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬০১৩ - প্রশ্নের আদব ও আখিরাতের ভয়
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে সম্মান প্রদর্শন করা এবং অকারণে বেশি প্রশ্ন করা বা কষ্ট দেয়া ও অবাঞ্চিত ইত্যাদি বিষয় থেকে বিরত থাকা
প্রশ্নের আদব ও জান্নাত-জাহান্নামের স্মরণ
সহীহ মুসলিম : ৬০১৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬০১৩
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ السُّلَمِيُّ، وَيَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ اللُّؤْلُؤِيُّ، - وَأَلْفَاظُهُمْ مُتَقَارِبَةٌ قَالَ مَحْمُودٌ حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، وَقَالَ الآخَرَانِ، أَخْبَرَنَا النَّضْرُ، - أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَنَسٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ بَلَغَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَصْحَابِهِ شَىْءٌ فَخَطَبَ فَقَالَ " عُرِضَتْ عَلَىَّ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَلَمْ أَرَ كَالْيَوْمِ فِي الْخَيْرِ وَالشَّرِّ وَلَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلاً وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا " . قَالَ فَمَا أَتَى عَلَى أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمٌ أَشَدُّ مِنْهُ - قَالَ - غَطَّوْا رُءُوسَهُمْ وَلَهُمْ خَنِينٌ - قَالَ - فَقَامَ عُمَرُ فَقَالَ رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا - قَالَ - فَقَامَ ذَاكَ الرَّجُلُ فَقَالَ مَنْ أَبِي قَالَ " أَبُوكَ فُلاَنٌ " . فَنَزَلَتْ { يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ}
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁর সাহাবীদের কোন কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট পৌঁছল। তখন তিনি এক বক্তৃতা দিলেন এবং বললেনঃ আমার সামনে জান্নাত ও জাহান্নাম উপস্থিত করা হয়। আজকের মতো ভাল এবং মন্দ আমি আর কখনো দেখিনি। আমি যা জানতে পেরেছি, তা যদি তোমরা জানতে, তবে তোমরা অবশ্যই খুবই কম হাসতে এবং বেশী কাঁদতে।আনাস (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীদের উপর এর চাইতে বিভীষিকাময় কোন দিন আর আসেনি। তাঁরা নিজেদের মাথা আবৃত করল এবং তাঁদের ভেতর হতে কান্নার আওয়াজ আসতে লাগল। আনাস (রাঃ) বলেন, তারপর ‘উমর (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, আমরা সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে নবী হিসেবে মেনে নিলাম। অতঃপর এক লোক দাঁড়িয়ে বলল, আমার পিতা কে? তিনি বললেনঃ তোমার পিতা অমুক।তখন এ আয়াত নাযিল হলোঃ “হে মু’মিনগণ! তোমরা সেসব ব্যাপারে জিজ্ঞেস করো না, যা উন্মোচিত হলে তোমরা বেদনার্ত হবে”- (সূরা আল মায়িদাহ্ ৫ : ১০১)।
ই.ফা. ৫৯০৭, ই.সে. ৫৯৪৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬০১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি গভীর ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের কিছু কথা শুনে খুতবা দিলেন। তিনি জানালেন, তাঁর সামনে জান্নাত ও জাহান্নাম উপস্থিত করা হয়েছে। তিনি আরও বললেন, তিনি যা জানেন তা যদি মানুষ জানত, তবে তারা কম হাসত এবং বেশি কাঁদত। এই কথা শুনে সাহাবীদের ওপর খুব গভীর প্রভাব পড়ে। তারা মাথা ঢেকে কান্না করছিলেন। উমর (রাঃ) দাঁড়িয়ে আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم-কে নবী হিসেবে মেনে নেওয়ার কথা বলেন। এরপর এক ব্যক্তি নিজের পিতা সম্পর্কে প্রশ্ন করে, আর এ ঘটনার সঙ্গে সূরা মায়িদার আয়াত নাজিলের কথা এসেছে। হাদিসটি প্রশ্নের আদব, আখিরাতের ভয় এবং ঈমানি দৃঢ়তার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জান্নাত ও জাহান্নামের কথা মানুষকে গভীরভাবে ভাবতে শেখায়।
- অকারণ বা কষ্টদায়ক প্রশ্ন থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
- সাহাবীদের মতো আখিরাতের ভয় অন্তরে রাখা দরকার।
- আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন ও রাসূল صلى الله عليه وسلم-কে নবী হিসেবে মেনে নেওয়া ঈমানের মূল কথা।
