৪৬/২০. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৪৮৭ - গীবত ও অপবাদের পার্থক্য
গীবাত করা হারাম
গীবত কী এবং অপবাদ থেকে এর পার্থক্য
সহীহ মুসলিম : ৬৪৮৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৪৮৭
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ " أَتَدْرُونَ مَا الْغِيبَةُ " . قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ " ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ " . قِيلَ أَفَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ فِي أَخِي مَا أَقُولُ قَالَ " إِنْ كَانَ فِيهِ مَا تَقُولُ فَقَدِ اغْتَبْتَهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهِ فَقَدْ بَهَتَّهُ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কি জান, গীবত কি জিনিস? তাঁরা বললেন, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন, (গীবত হলো) তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে এমন কিছু আলোচনা করা, যা সে অপছন্দ করে। প্রশ্ন করা হলো, আমি যা বলছি তা যদি আমার ভাই-এর মধ্যে বাস্তবিকই থেকে থাকে তবে আপনি কি বলেন? তিনি বললেন, তুমি তার সম্পর্কে যা বলছ তা যদি তার মধ্যে প্রকৃতই থেকে থাকে তাহলেই তুমি তার গীবত করলে। আর যদি তা তার মধ্যে না থাকে তাহলে তো তুমি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করলে।
ই.ফা. ৬৩৫৭, ই.সে. ৬৪০৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৪৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) খুব পরিষ্কারভাবে গীবত কী তা বুঝিয়েছেন। মানুষ অনেক সময় মনে করে, কারও দোষ সত্য হলে তা বলা দোষের নয়। কিন্তু হাদিসে বলা হয়েছে, তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে এমন কথা বলা যা সে অপছন্দ করে—এটাই গীবত। আর যদি বলা কথা তার মধ্যে না থাকে, তাহলে তা আরও গুরুতর বিষয়, অর্থাৎ অপবাদ। তাই গীবত কী, অপবাদ কী এবং জবান কীভাবে রক্ষা করতে হয়—এই হাদিসে তা সহজভাবে শেখানো হয়েছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, অন্যের অনুপস্থিতিতে তার অপছন্দনীয় বিষয় আলোচনা করা থেকে বাঁচা। কথা সত্য হলেও তা সবসময় বলা ঠিক নয়। মুসলিমের সম্মান রক্ষা করা ইসলামী চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারও অপছন্দের কথা তার অনুপস্থিতিতে বলা গীবতের অন্তর্ভুক্ত।
- কথা সত্য হলেও তা অন্যের মানহানি করলে গীবত হতে পারে।
- মিথ্যা দোষারোপ গীবতের চেয়েও কঠিন অপবাদে পরিণত হয়।
