৪৯/৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৭২৬ - তাওহীদ, নেকি ও আল্লাহর ক্ষমার আশা
যিকর, দু‘আ ও আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জন করার মর্যাদা
শির্কমুক্ত ঈমানে আল্লাহর ক্ষমার বড় আশা
সহীহ মুসলিম : ৬৭২৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৭২৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنِ الْمَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا وَأَزِيدُ وَمَنْ جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَجَزَاؤُهُ سَيِّئَةٌ مِثْلُهَا أَوْ أَغْفِرُ وَمَنْ تَقَرَّبَ مِنِّي شِبْرًا تَقَرَّبْتُ مِنْهُ ذِرَاعًا وَمَنْ تَقَرَّبَ مِنِّي ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ مِنْهُ بَاعًا وَمَنْ أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً وَمَنْ لَقِيَنِي بِقُرَابِ الأَرْضِ خَطِيئَةً لاَ يُشْرِكُ بِي شَيْئًا لَقِيتُهُ بِمِثْلِهَا مَغْفِرَةً» .قَالَ إِبْرَاهِيمُ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ بِشْرٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ بِهَذَا الْحَدِيثِ .
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেন, যে লোক একটি নেক কাজ করবে তার জন্য রয়েছে দশগুণ প্রতিদান; আর আমি তাকে আরও বৃদ্ধি করে দিব। আর যে লোক একটি খারাপ কর্ম করবে তার প্রতিদান সে কর্মের সমান অথবা আমি তাকে মাফ করে দিব। যে লোক আমার প্রতি এক বিঘত এগিয়ে আসে আমি তার প্রতি এক হাত অগ্রসর হই। আর যে লোক আমার প্রতি এক হাত এগিয়ে আসে আমি তার দিকে দু’হাত (এক গজ) অগ্রসর হই। যে লোক আমার নিকট পায়ে হেঁটে আসে আমি তার প্রতি দৌড়িয়ে আসি। যে লোক আমার সাথে কাউকে কোন বিষয়ে অংশীদার স্থাপন ব্যতীত পৃথিবী তুল্য গুনাহ নিয়েও আমার সাথে সাক্ষাৎ করে তাহলে আমি তার সাথে অনুরূপ পৃথিবী তুল্য মার্জনা নিয়ে সাক্ষাৎ করি।ইব্রাহীম বলেন, হাসান ইবনু বিশ্র হাদীসটি ওয়াকী‘ সানাদে অবিকল বর্ণনা করেছেন।
ই.ফা. ৬৫৮৯, ই.সে. ৬৬৪১
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৭২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আল্লাহর দয়া, নেক কাজের প্রতিদান, গুনাহের বিচার এবং শির্কমুক্ত অবস্থায় ক্ষমার আশা—সব একসঙ্গে এসেছে। আল্লাহ বলেন, কেউ একটি নেক কাজ করলে তার জন্য দশগুণ প্রতিদান আছে, আর তিনি আরও বাড়িয়ে দিতে পারেন। খারাপ কাজের প্রতিদান তার সমান, অথবা আল্লাহ মাফ করে দিতে পারেন। এরপর আল্লাহর দিকে এগিয়ে আসার ভাষা এসেছে—বান্দা এক বিঘত এগোলে আল্লাহ আরও বেশি এগিয়ে আসেন। শেষে বলা হয়েছে, কেউ যদি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করে পৃথিবী ভরা গুনাহ নিয়েও আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, আল্লাহ অনুরূপ ক্ষমা নিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এখানে তাওহীদ, আল্লাহর ক্ষমা এবং নেক কাজের আশা বড়ভাবে এসেছে। তবে হাদিসটি গুনাহকে হালকা করতে নয়; বরং শির্কমুক্ত ঈমান, তাওবা ও আল্লাহর রহমতের আশা জাগাতে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একটি নেক কাজের প্রতিদান দশগুণ এবং আরও বাড়তে পারে।
- খারাপ কাজের প্রতিদান সমান, আর আল্লাহ চাইলে মাফ করতে পারেন।
- আল্লাহর দিকে এগোনো বান্দার জন্য দয়ার আশা জাগায়।
- শির্ক থেকে বেঁচে থাকা ক্ষমার আশার বড় শর্ত হিসেবে এসেছে।
