৫০/১০. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৯১৪ - ইফকের ঘটনায় বাড়তি বর্ণনা

মিথ্যা অপবাদ দেয়া এবং অপবাদ রটনাকারীর তাওবাহ্‌ গৃহীত হওয়া

ইফকের ঘটনায় গোত্রীয় রাগ ও সতর্কতা

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৯১৪

وَحَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ح وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، الْحُلْوَانِيُّ وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحِ، بْنِ كَيْسَانَ كِلاَهُمَا عَنِ الزُّهْرِيِّ، . بِمِثْلِ حَدِيثِ يُونُسَ وَمَعْمَرٍ بِإِسْنَادِهِمَا .وَفِي حَدِيثِ فُلَيْحٍ اجْتَهَلَتْهُ الْحَمِيَّةُ كَمَا قَالَ مَعْمَرٌ . وَفِي حَدِيثِ صَالِحٍ احْتَمَلَتْهُ الْحَمِيَّةُ . كَقَوْلِ يُونُسَ وَزَادَ فِي حَدِيثِ صَالِحٍ قَالَ عُرْوَةُ كَانَتْ عَائِشَةُ تَكْرَهُ أَنْ يُسَبَّ عِنْدَهَا حَسَّانُ وَتَقُولُ فَإِنَّهُ قَالَ فَإِنَّ أَبِي وَوَالِدَهُ وَعِرْضِي لِعِرْضِ مُحَمَّدٍ مِنْكُمْ وِقَاءُ وَزَادَ أَيْضًا قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ وَاللَّهِ إِنَّ الرَّجُلَ الَّذِي قِيلَ لَهُ مَا قِيلَ لَيَقُولُ سُبْحَانَ اللَّهِ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا كَشَفْتُ عَنْ كَنَفِ أُنْثَى قَطُّ . قَالَتْ ثُمَّ قُتِلَ بَعْدَ ذَلِكَ شَهِيدًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ .وَفِي حَدِيثِ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ مُوعِرِينَ فِي نَحْرِ الظَّهِيرَةِ وَقَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ مُوغِرِينَ . قَالَ عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ قُلْتُ لِعَبْدِ الرَّزَّاقِ مَا قَوْلُهُ مُوغِرِينَ قَالَ الْوَغْرَةُ شِدَّةُ الْحَرِّ .

যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

ইউনুস এবং মা‘মার-এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী ফুলায়হ্-এর হাদীসে রয়েছে, গোত্রীয় আত্মম্ভরিতা তাকে অজ্ঞতামূলক আচরণ করতে উত্তেজিত করেছিল। মা‘মার তাঁর বর্ণনায় যেমন বলেছেন। আর সালিহ-এর হাদীসের মধ্যে ইউনুসের বর্ণনার মতো এতে রয়েছে احْتَمَلَتْهُ الْحَمِيَّةُ অর্থাৎ- ‘গোত্রীয় আত্মম্ভরিতা তাকে উত্তেজিত করলো।’সালিহ-এর হাদীসে এটাও রয়েছে যে, ‘উরওয়াহ্ (রহঃ) বলেন, ‘আয়িশা (রাঃ) হাস্সান ইবনু সাবিত (রাঃ)-কে কটু বাক্য বলার বিষয়টিকে অপছন্দ করতেন। তিনি বলতেন, হাস্সান তো নিম্নোক্ত কবিতা রচনা করেছেন, “আমার পিতা-মাতা, আমার ইয্যত সবই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইয্যত-সম্মানের জন্যে রক্ষাকবচ।” এতে এটাও বর্ধিত রয়েছে যে, ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, যে লোকের ব্যাপারে দোষারোপ করা হয়েছে তিনি বলতেন, সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর কসম! আমি কক্ষনো কোন মহিলার-আবরণ খুলিনি। অতঃপর তিনি আল্লাহর পথে শাহীদ হন।ইয়া’কূব ইবনু ইব্রাহীম-এর হাদীসে রয়েছে مُوعِرِينَ فِي نَحْرِ الظَّهِيرَةِ কিন্তু ‘আবদুর রায্যাক (রহঃ) বলেন, مُوغِرِينَ ‘আব্দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) বলেন, আমি ‘আবদুর রায্যাককে مُوغِرِينَ শব্দের ব্যাখ্যা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, الْوَغْرَةُ অর্থ কঠিন গরম।

ই.ফা. ৬৭৬৪, ই.সে. ৬৮১৯

সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৯১৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আয়েশা রাঃ-এর ইফকের ঘটনার কিছু বাড়তি দিক এসেছে। এখানে বলা হয়েছে, গোত্রীয় আত্মমর্যাদা একজনকে অজ্ঞতামূলক আচরণে ঠেলে দিয়েছিল। আরও এসেছে, আয়েশা রাঃ হাসান ইবনু সাবিত রাঃ-কে তাঁর সামনে কটু কথা বলা অপছন্দ করতেন। কারণ তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সম্মান রক্ষায় কবিতা বলেছিলেন। যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপবাদ রটানো হয়েছিল, তিনি আল্লাহর কসম করে বলেন, তিনি কখনো কোনো নারীর আবরণ খুলেননি। পরে তিনি আল্লাহর পথে শহীদ হন। এই বর্ণনা আমাদের শেখায়, অপবাদ শুধু একজন মানুষকে নয়, সমাজকেও অস্থির করে। আবার একজনের ভুল বা জড়িয়ে পড়া থাকলেও তার ভালো দিক ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • গোত্রীয় রাগ মানুষকে ভুল আচরণে ঠেলে দিতে পারে।
  • অপবাদে জড়িত ঘটনা বিচার করতে সতর্কতা দরকার।
  • কোনো মানুষের ভালো কাজ একেবারে ভুলে যাওয়া ঠিক নয়।
  • অভিযোগের বিষয়ে সত্য জানা ছাড়া কথা বাড়ানো বিপজ্জনক।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন