৫২/১২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৯৮১ - দুনিয়ার সুখ-দুঃখের শেষ হিসাব
দুনিয়ার সর্বাধিক স্বাচ্ছন্দ্যভোগী ব্যক্তিকে জাহান্নামে অবগাহন এবং সবচেয়ে কঠিন দুরাবস্থাভোগী বাক্তিকে জান্নাতে অবগাহন করানো প্রসঙ্গ
জান্নাত-জাহান্নামের সামনে দুনিয়ার সুখ-দুঃখ
সহীহ মুসলিম : ৬৯৮১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৯৮১
حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، الْبُنَانِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «يُؤْتَى بِأَنْعَمِ أَهْلِ الدُّنْيَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُصْبَغُ فِي النَّارِ صَبْغَةً ثُمَّ يُقَالُ يَا ابْنَ آدَمَ هَلْ رَأَيْتَ خَيْرًا قَطُّ هَلْ مَرَّ بِكَ نَعِيمٌ قَطُّ فَيَقُولُ لاَ وَاللَّهِ يَا رَبِّ . وَيُؤْتَى بِأَشَدِّ النَّاسِ بُؤْسًا فِي الدُّنْيَا مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيُصْبَغُ صَبْغَةً فِي الْجَنَّةِ فَيُقَالُ لَهُ يَا ابْنَ آدَمَ هَلْ رَأَيْتَ بُؤْسًا قَطُّ هَلْ مَرَّ بِكَ شِدَّةٌ قَطُّ فَيَقُولُ لاَ وَاللَّهِ يَا رَبِّ مَا مَرَّ بِي بُؤُسٌ قَطُّ وَلاَ رَأَيْتُ شِدَّةً قَطُّ " .>
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ জাহান্নামের উপযোগী-দুনিয়ায় সর্বাধিক সচ্ছল ও ধন-সম্পদের অধিকারী লোককে কিয়ামাতের দিন উপস্থিত করা হবে। এরপর তাকে জাহান্নামের আগুনে একবার অবগাহন করিয়ে বলা হবে, হে আদাম সন্তান! দুনিয়াতে আরাম-আয়েশ কখনো তুমি ভোগ করেছো কি? কখনো তুমি স্বাচ্ছন্দ্য অবস্থায় দিন অতিবাহিত করেছো কি? সে বলবে, আল্লাহর শপথ! হে আমার প্রতিপালক! না, কক্ষনো করিনি।এরপর জান্নাতের উপযোগী দুনিয়ায় সর্বাধিক দুরাবস্থা সম্পন্ন লোককে আনা হবে। এরপর তাকে জান্নাতে একবার অবগাহন করিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে, হে আদাম সন্তান! কখনো তুমি কষ্টে দিনাতিপাত করেছো কি? হৃদয় বিদারক এবং ভয়াবহ অবস্থায় দিনাতিপাত করেছো কি? সে বলবে, আল্লাহর কসম, হে আমার প্রতিপালক! কক্ষনো আমি কষ্টের সাথে দিনাতিপাত করিনি এবং দুঃখ কক্ষনো দেখিনি।
ই.ফা. ৬৮২৯, ই.সে. ৬৮৮৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৯৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم দুনিয়া ও আখিরাতের পার্থক্য খুব শক্তভাবে বুঝিয়েছেন। দুনিয়ায় জাহান্নামের উপযোগী সবচেয়ে সুখী ও সচ্ছল ব্যক্তিকে কেয়ামতের দিন জাহান্নামে একবার ডুবানো হবে। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কি কখনো কোনো ভালো অবস্থা দেখেছ? সে বলবে, না। আবার জান্নাতের উপযোগী দুনিয়ার সবচেয়ে কষ্টে থাকা মানুষকে জান্নাতে একবার ডুবানো হবে। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কি কখনো কষ্ট দেখেছ? সে বলবে, না। এই হাদিস দুনিয়ার সুখ-দুঃখকে ছোট করে দেখায় না, বরং আখিরাতের বাস্তবতার সামনে দুনিয়ার সময় কত সীমিত তা বোঝায়। তাই সাময়িক আরাম দেখে গাফেল হওয়া ঠিক নয়, আবার কষ্টে থাকলেও আল্লাহর পথে ধৈর্য রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুনিয়ার সুখ আখিরাতের শাস্তির সামনে টিকবে না।
- দুনিয়ার কষ্ট জান্নাতের নেয়ামতের সামনে ভুলে যাবে।
- সাময়িক আরাম দেখে আখিরাত ভুলে যাওয়া ঠিক নয়।
- কষ্টের সময়ও আল্লাহর পথে ধৈর্য রাখা দরকার।
