৫৩/৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭০৪১ - প্রথম জান্নাতী দলের বৈশিষ্ট্য
পূর্ণিমার রাতের চাঁদের ন্যায় যে দলটি সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মুখমণ্ডল দীপ্তিমান হবে এবং তাঁদের গুণাবলী ও সহধর্মিণীগণের বর্ণনা
প্রথম জান্নাতী দলের সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য
সহীহ মুসলিম : ৭০৪১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭০৪১
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، - يَعْنِي ابْنَ زِيَادٍ - عَنْ عُمَارَةَ بْنِ، الْقَعْقَاعِ حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " أَوَّلُ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ ". حوَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، - وَاللَّفْظُ لِقُتَيْبَةَ - قَالاَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنَّ أَوَّلَ زُمْرَةٍ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ وَالَّذِينَ يَلُونَهُمْ عَلَى أَشَدِّ كَوْكَبٍ دُرِّيٍّ فِي السَّمَاءِ إِضَاءَةً لاَ يَبُولُونَ وَلاَ يَتَغَوَّطُونَ وَلاَ يَمْتَخِطُونَ وَلاَ يَتْفُلُونَ أَمْشَاطُهُمُ الذَّهَبُ وَرَشْحُهُمُ الْمِسْكُ وَمَجَامِرُهُمُ الأَلُوَّةُ وَأَزْوَاجُهُمُ الْحُورُ الْعِينُ أَخْلاَقُهُمْ عَلَى خُلُقِ رَجُلٍ وَاحِدٍ عَلَى صُورَةِ أَبِيهِمْ آدَمَ سِتُّونَ ذِرَاعًا فِي السَّمَاءِ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক সর্বপ্রথমে জান্নাতে প্রবেশ করবে। কুতাইবাহ্ ও যুহায়র ইবনু হার্ব (রহঃ) ….. আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সর্বপ্রথম যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মুখমণ্ডল পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে। তাদের পর যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মুখমণ্ডল আকাশে উদিত আলোকোজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো হবে।তারা প্রস্রাব-পায়খানা করবে না, থু-থু ফেলবে না এবং নাক ঝাড়বে না। তাদের চিরুনী হবে স্বর্ণের। তাদের গায়ের ঘাম হতে মিশকের ঘ্রাণ আসবে এবং তাদের ধূপদানী হবে ‘আলূওয়াহ্’ নামে এক ধরণের সুগন্ধি কাষ্ঠের তৈরি। তাদের স্ত্রীগণ হবে ডাগর চক্ষু বিশিষ্ট। তাদের চরিত্র হবে একই লোকের চরিত্রের মতো। আদি পিতা আদাম (আঃ)-এর আকৃতির মতো হবে তাদের আকৃতি। যা ষাট হাত দীর্ঘ আকৃতি বিশিষ্ট।
ই.ফা. ৬৮৮৬, ই.সে. ৬৯৪৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭০৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জান্নাতে প্রথম প্রবেশকারী দলের বৈশিষ্ট্য বিস্তারিতভাবে এসেছে। তাদের মুখমণ্ডল পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে। এরপর যারা প্রবেশ করবে, তারা আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো হবে। তারা প্রস্রাব-পায়খানা করবে না, থুথু ফেলবে না, নাক ঝাড়বে না। তাদের চিরুনি হবে স্বর্ণের, ঘাম হবে মিশকের মতো সুগন্ধি, আর ধূপদানী হবে সুগন্ধি কাঠের। তাদের চরিত্র একই রকম হবে এবং আকৃতি হবে আদম আ.-এর আকৃতির মতো। হাদিসটি জান্নাতীদের পবিত্রতা, সৌন্দর্য ও সম্মানের বর্ণনা দেয়। এটি জান্নাতের নিয়ামত সম্পর্কে আশা জাগায়, তবে সব কথা হাদিসের বর্ণনার সীমাতেই রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রথম জান্নাতী দল বিশেষ উজ্জ্বল রূপে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
- জান্নাতে দুনিয়ার অপবিত্রতা থাকবে না বলে বর্ণনায় এসেছে।
- জান্নাতীদের ঘামও মিশকের মতো সুগন্ধি হবে।
- জান্নাতীদের চরিত্রে একতা ও সুন্দর অবস্থা থাকবে।
