৫৩/১১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭০৫৫ - আদম (আ.)-এর আকৃতি, সালাম ও জান্নাতী রূপ
পাখীর হৃদয়ের ন্যায় হৃদয় বিশিষ্ট কতিপয় লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে
আদম (আ.)-এর সৃষ্টি ও জান্নাতবাসীর রূপ
সহীহ মুসলিম : ৭০৫৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭০৫৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا بِهِ أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ .فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «خَلَقَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ آدَمَ عَلَى صُورَتِهِ طُولُهُ سِتُّونَ ذِرَاعًا فَلَمَّا خَلَقَهُ قَالَ اذْهَبْ فَسَلِّمْ عَلَى أُولَئِكَ النَّفَرِ وَهُمْ نَفَرٌ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ جُلُوسٌ فَاسْتَمِعْ مَا يُجِيبُونَكَ فَإِنَّهَا تَحِيَّتُكَ وَتَحِيَّةُ ذُرِّيَّتِكَ قَالَ فَذَهَبَ فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ فَقَالُوا السَّلاَمُ عَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللَّهِ - قَالَ - فَزَادُوهُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ - قَالَ - فَكُلُّ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ آدَمَ وَطُولُهُ سِتُّونَ ذِرَاعًا فَلَمْ يَزَلِ الْخَلْقُ يَنْقُصُ بَعْدَهُ حَتَّى الآنَ» .>
হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে কিছু হাদীস বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো এ-ই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা আদাম (আঃ)-কে তাঁর নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। তার দৈর্ঘ্য হলো ষাট হাত। সৃষ্টির পর তিনি তাঁকে বললেন, যাও এদেরকে সালাম করো। সেখানে একদল ফেরেশ্তারা বসা ছিলেন। সালামের জবাবে তাঁরা কি বলে তা খুব মনোযোগ সহকারে শুনো। কেননা তোমার এবং তোমার বংশধরদের অভিবাদন হবে এ-ই।বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি এগিয়ে গেলেন ও বললেন, “আস্সালামু ‘আলাইকুম”। জবাবে তাঁরা বললেন, “আস্সালামু ‘আলাইকা ওয়ারহমাতুল্লাহ্”। তাঁরা ওয়ারহমাতুল্লাহ্ বাড়িয়ে বলেছেনঃ। অবশেষে তিনি বললেন, যে লোক জান্নাতে যাবে সে আদাম (আঃ)-এর আকৃতি বিশিষ্ট হবে। তার দৈর্ঘ্য হবে ষাট হাত। [তিনি (ﷺ) বলেন,] তারপর আদাম (আঃ)-এর পর থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ ক্রমশই খাটো হয়ে আসছে।
ই.ফা. ৬৯০০, ই.সে. ৬৯৫৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭০৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আদম (আ.)-এর সৃষ্টি, সালাম এবং জান্নাতবাসীর রূপ সম্পর্কে কয়েকটি বিষয় এসেছে। আল্লাহ আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করার পর তাঁকে ফেরেশতাদের কাছে গিয়ে সালাম করতে বলেন। ফেরেশতারা উত্তরে বলেন, “আসসালামু আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ”, আর “ওয়া রহমাতুল্লাহ” বাড়িয়ে বলেন। হাদিসে বলা হয়েছে, এটাই আদম (আ.) ও তাঁর বংশধরদের অভিবাদন। আরও বলা হয়েছে, যে জান্নাতে যাবে সে আদম (আ.)-এর আকৃতি বিশিষ্ট হবে এবং তার দৈর্ঘ্য হবে ষাট হাত। শেষে মানুষের উচ্চতা ক্রমে কমে আসার কথা বলা হয়েছে। এই হাদিসে সালাম, আদম সৃষ্টি এবং জান্নাতী রূপ—সবই সরাসরি এসেছে। তাই এই হাদিসে সালাম শেখার আদব, ফেরেশতাদের জবাব এবং জান্নাতবাসীর রূপ—সব বিষয়কে একসঙ্গে সহজভাবে পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাম আদম (আ.) ও তাঁর বংশধরদের অভিবাদন হিসেবে শেখানো হয়েছে।
- ফেরেশতারা সালামের জবাবে রহমতের দোয়া বাড়িয়ে বলেছেন।
- জান্নাতবাসীর আদম (আ.)-এর আকৃতিতে প্রবেশের কথা হাদিসে এসেছে।
- মানুষের উচ্চতা আদম (আ.)-এর পর থেকে কমে আসার কথা উল্লেখ আছে।
