৫৩/১৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭১০৫ - কবরের আজাব ও আশ্রয়ের দোয়া
মৃত ব্যক্তির কাছে জান্নাত কিংবা জাহান্নামের ঠিকানা উপস্থিত করা হয়, আর কবরের শাস্তি প্রমাণ করা এবং তাত্থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করা
কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাওয়ার নবীজি শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৭১০৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭১০৫
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ، قَالَ ابْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، قَالَ وَأَخْبَرَنَا سَعِيدٌ الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ أَبُو سَعِيدٍ وَلَمْ أَشْهَدْهُ مِنَ النَّبِيِّ ﷺ وَلَكِنْ حَدَّثَنِيهِ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍقَالَ بَيْنَمَا النَّبِيُّ ﷺ فِي حَائِطٍ لِبَنِي النَّجَّارِ عَلَى بَغْلَةٍ لَهُ وَنَحْنُ مَعَهُ إِذْ حَادَتْ بِهِ فَكَادَتْ تُلْقِيهِ وَإِذَا أَقْبُرٌ سِتَّةٌ أَوْ خَمْسَةٌ أَوْ أَرْبَعَةٌ - قَالَ كَذَا كَانَ يَقُولُ الْجُرَيْرِيُّ - فَقَالَ " مَنْ يَعْرِفُ أَصْحَابَ هَذِهِ الأَقْبُرِ " . فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا. قَالَ " فَمَتَى مَاتَ هَؤُلاَءِ " . قَالَ مَاتُوا فِي الإِشْرَاكِ. فَقَالَ " إِنَّ هَذِهِ الأُمَّةَ تُبْتَلَى فِي قُبُورِهَا فَلَوْلاَ أَنْ لاَ تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ الَّذِي أَسْمَعُ مِنْهُ " . ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ فَقَالَ " تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ النَّارِ " . قَالُوا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ النَّارِ فَقَالَ " تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ " . قَالُوا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ. قَالَ " تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنَ الْفِتَنِ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ " . قَالُوا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْفِتَنِ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ قَالَ " تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ " . قَالُوا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ .>
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর সূত্রে আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ সা‘ঈদ আল খুদ্রী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম না, বরং আমাকে যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নাজ্জার গোত্রের একটি প্রাচীর ঘেরা বাগানে তাঁর একটি খচ্চরের উপর আরোহী ছিলেন। এ সময় আমরা তাঁর সাথে ছিলাম। অকস্মাৎ তা লাফিয়ে উঠল এবং তাঁকে ফেলে দেয়ার উপক্রম করল। দেখা গেল, সেখানে ছয়টি কিংবা পাঁচটি অথবা চারটি কবর রয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, জুরাইরী এমনটিই বর্ণনা করতেন।অতঃপর তিনি প্রশ্ন করলেন, এ কবরবাসীদেরকে কে চিনে? তখন এক ব্যক্তি বললেন, আমি চিনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, তারা কখন মৃত্যুবরণ করেছে? তিনি বললেন, তারা শিরকের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ উম্মাতকে তাদের কবরের মধ্যে পরীক্ষা করা হবে। তোমরা মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা বর্জন করবে, এ আশঙ্কা না হলে আমি আল্লাহর নিকট দোয়া করতাম যেন তিনি তোমাদেরকেও কবরের ‘আযাব শুনান যা আমি শুনতে পাচ্ছি।তারপর তিনি আমাদের প্রতি মনোনিবেশ করে বললেন, তোমরা সবাই জাহান্নামের ‘আযাব হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। সাহাবীগণ বললেন, জাহান্নামের শাস্তি হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। তারপর তিনি বললেন, তোমরা সকলে কবরের শাস্তি হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। সাহাবীগণ বললেন, কবরের ‘আযাব হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার ফিতনা হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। তারা বললেন, প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার ফিতনা হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। তিনি আবারো বললেন, তোমরা দাজ্জালের ফিতনা হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। সাহাবীগণ বললেন, দাজ্জালের ফিতনা হতে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।
ই.ফা. ৬৯৪৯, ই.সে. ৭০০৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭১০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যাইদ ইবন সাবিত (রাঃ)-এর বর্ণনায় এসেছে, নবী (صلى الله عليه وسلم) একটি বাগানে ছিলেন। সেখানে কয়েকটি কবরের কথা উঠে আসে এবং জানা যায়, তারা শির্কের অবস্থায় মারা গেছে। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, এই উম্মতকে তাদের কবরের মধ্যে পরীক্ষা করা হবে। মানুষ মৃতদের দাফন করা বন্ধ করে দেবে—এই আশঙ্কা না থাকলে তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন, যেন মানুষও কবরের আজাব শুনতে পায়, যা তিনি শুনেছেন। এরপর তিনি সাহাবীদের জাহান্নামের আজাব, কবরের আজাব, প্রকাশ্য-গোপন ফিতনা এবং দাজ্জালের ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে বলেন। এই হাদিস কবরের আজাব থেকে আশ্রয়ের দোয়া ও আখিরাতের ভয়কে জীবন্ত করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কবরের পরীক্ষা ও আজাব বাস্তব সতর্কতার বিষয়।
- জাহান্নাম, কবরের আজাব ও ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হয়।
- দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাওয়া নবীজির শেখানো দোয়ার অংশ।
