৫৪/৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭১৪২ - ফিতনায় অস্ত্র ভেঙে নিরাপদ থাকা
বৃষ্টি বর্ষণের মতো বিপদাপদ পতিত হওয়া
ফিতনার সময় অস্ত্র নয়, নিরাপত্তার পথ
সহীহ মুসলিম : ৭১৪২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭১৪২
حَدَّثَنِي أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، الشَّحَّامُ قَالَ انْطَلَقْتُ أَنَا وَفَرْقَدٌ السَّبَخِيُّ، إِلَى مُسْلِمِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ وَهُوَ فِي أَرْضِهِ فَدَخَلْنَا عَلَيْهِ فَقُلْنَا هَلْ سَمِعْتَ أَبَاكَ يُحَدِّثُ فِي الْفِتَنِ حَدِيثًا قَالَ نَعَمْ سَمِعْتُ أَبَا بَكْرَةَ يُحَدِّثُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنَّهَا سَتَكُونُ فِتَنٌ أَلاَ ثُمَّ تَكُونُ فِتْنَةٌ الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي فِيهَا وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي إِلَيْهَا أَلاَ فَإِذَا نَزَلَتْ أَوْ وَقَعَتْ فَمَنْ كَانَ لَهُ إِبِلٌ فَلْيَلْحَقْ بِإِبِلِهِ وَمَنْ كَانَتْ لَهُ غَنَمٌ فَلْيَلْحَقْ بِغَنَمِهِ وَمَنْ كَانَتْ لَهُ أَرْضٌ فَلْيَلْحَقْ بِأَرْضِهِ " . قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ مَنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ إِبِلٌ وَلاَ غَنَمٌ وَلاَ أَرْضٌ قَالَ " يَعْمِدُ إِلَى سَيْفِهِ فَيَدُقُّ عَلَى حَدِّهِ بِحَجَرٍ ثُمَّ لْيَنْجُ إِنِ اسْتَطَاعَ النَّجَاءَ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ " . قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ أُكْرِهْتُ حَتَّى يُنْطَلَقَ بِي إِلَى أَحَدِ الصَّفَّيْنِ أَوْ إِحْدَى الْفِئَتَيْنِ فَضَرَبَنِي رَجُلٌ بِسَيْفِهِ أَوْ يَجِيءُ سَهْمٌ فَيَقْتُلُنِي قَالَ " يَبُوءُ بِإِثْمِهِ وَإِثْمِكَ وَيَكُونُ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ " .
‘উসমান আশ্ শাহ্হাম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, মুসলিম ইবনু আবূ বকরাহ্ (রহঃ) তার স্বীয় ভূমিতে ছিলেন। এমতাবস্থায় আমি ও ফারকাদ সাবাখী তার নিকট গেলাম এবং তাকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কি আপনার আব্বাকে বিপদাপদ সম্পর্কে কোন হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ! আমি আবূ বকরাহ্ (রাঃ)-কে এ কথা বর্ণনা করতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই দুর্যোগ দেখা দিবে। সাবধান, সেখানে ফিতনা দেখা দিবে। তখন বসে থাকা লোক চলমান লোক থেকে নিরাপদ থাকবে। আর চলমান লোক তখন দ্রুতগামী লোক হতে ভাল থাকবে।সাবধান যখন ফিতনা আপতিত হবে অথবা সংঘটিত হবে, এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি উটের মালিক সে তার উট নিয়ে ব্যস্ত থাকুক। আর যার বকরী আছে সে তার বকরী নিয়ে ব্যস্ত থাকুক এবং যার জমিন আছে সে তার জমিন নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকুক। এ কথা শুনে তখন জনৈক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! যার উট, বকরী ও জমিন কিছুই নেই, সে কি করবে? জবাবে তিনি বললেন, সে তার তরবারি হাতে ধারণ করতঃ প্রস্তরাঘাতে সেটার ধারালো তীক্ষ্ণ অংশ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলবে। অতঃপর সে নিরাপদে থাকা সম্ভব হলে নিরাপদে থাকুক।অতঃপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছিয়ে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছিয়ে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছিয়ে দিয়েছি? এ সময় জনৈক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! যদি চাপ সৃষ্টি করে দু’সারির কোন একটিতে অথবা দু’দলের কোন এক দলে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়, আর কোন এক লোক তার তরবারি দিয়ে আমাকে আঘাত করে বা তীর এসে আমার গায়ে লাগে এবং আমাকে সে মেরে ফেলে, তবে আমার অবস্থা কি হবে? উত্তরে তিনি বললেন, তবে সে তার এবং তোমার পাপের বোঝা বহন করবে এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামে পতিত হবে।
ই.ফা. ৬৯৮৬, ই.সে. ৭০৪৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭১৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ফিতনার সময় করণীয় খুব স্পষ্টভাবে বলেছেন। তখন বসে থাকা চলমান ব্যক্তির চেয়ে নিরাপদ, আর চলমান ব্যক্তি দ্রুতগামী ব্যক্তির চেয়ে ভালো। ফিতনা নেমে এলে যার উট আছে সে উট নিয়ে, যার বকরী আছে সে বকরী নিয়ে, যার জমিন আছে সে জমিন নিয়ে ব্যস্ত থাকুক। যার এসব কিছু নেই, সে যেন নিজের তরবারির ধার পাথর দিয়ে ভেঙে ফেলে, তারপর নিরাপদ থাকা সম্ভব হলে নিরাপদ থাকে। এখানে মূল শিক্ষা হলো—ফিতনার আগুনে অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপানো নয়, বরং দূরে থাকা। জোর করে কাউকে এক দলে নেওয়া হলে এবং সে নিহত হলে হত্যাকারী নিজের ও নিহতের পাপের বোঝা বহন করবে—এ কথাও এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফিতনার সময় সংঘাতে না জড়িয়ে নিরাপদ থাকার চেষ্টা করা উচিত।
- নিজের কাজ, পশু বা জমিনে ব্যস্ত থাকা ফিতনা থেকে দূরে থাকার পথ হতে পারে।
- অস্ত্রের ধার ভেঙে ফেলা এখানে সংঘাত এড়ানোর শক্ত নির্দেশ হিসেবে এসেছে।
- জোর করে নেওয়া নিরপরাধ ব্যক্তির হত্যার দায় হত্যাকারীর ওপর যাবে।
