৫৪/৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭১৬০ - পরিবার-সম্পদের ফিতনা ও কাফফারা
সমুদ্রের তরঙ্গের মতো যে ফিতনা তরঙ্গায়িত হবে
পরিবার-সম্পদের ফিতনা ও ঢেউয়ের মতো বড় ফিতনা
সহীহ মুসলিম : ৭১৬০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭১৬০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ أَبُو كُرَيْبٍ، جَمِيعًا عَنْ أَبِي، مُعَاوِيَةَ قَالَ ابْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ عُمَرَ فَقَالَ أَيُّكُمْ يَحْفَظُ حَدِيثَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي الْفِتْنَةِ كَمَا قَالَ قَالَ فَقُلْتُ أَنَا. قَالَ إِنَّكَ لَجَرِيءٌ وَكَيْفَ قَالَ قَالَ قُلْتُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَنَفْسِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ يُكَفِّرُهَا الصِّيَامُ وَالصَّلاَةُ وَالصَّدَقَةُ وَالأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْىُ عَنِ الْمُنْكَرِ».فَقَالَ عُمَرُ لَيْسَ هَذَا أُرِيدُ إِنَّمَا أُرِيدُ الَّتِي تَمُوجُ كَمَوْجِ الْبَحْرِ - قَالَ - فَقُلْتُ مَا لَكَ وَلَهَا يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّ بَيْنَكَ وَبَيْنَهَا بَابًا مُغْلَقًا قَالَ أَفَيُكْسَرُ الْبَابُ أَمْ يُفْتَحُ قَالَ قُلْتُ لاَ بَلْ يُكْسَرُ. قَالَ ذَلِكَ أَحْرَى أَنْ لاَ يُغْلَقَ أَبَدًا. قَالَ فَقُلْنَا لِحُذَيْفَةَ هَلْ كَانَ عُمَرُ يَعْلَمُ مَنِ الْبَابُ قَالَ نَعَمْ كَمَا يَعْلَمُ أَنَّ دُونَ غَدٍ اللَّيْلَةَ إِنِّي حَدَّثْتُهُ حَدِيثًا لَيْسَ بِالأَغَالِيطِ. قَالَ فَهِبْنَا أَنْ نَسْأَلَ حُذَيْفَةَ مَنِ الْبَابُ فَقُلْنَا لِمَسْرُوقٍ سَلْهُ فَسَأَلَهُ فَقَالَ عُمَرُ.
হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা ‘উমর (রাঃ)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় তিনি বললেন, ফিতনা বিষয়ক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী তোমাদের কার মনে আছে? আমি বললাম, আমার মনে আছে। এ কথা শুনে তিনি বললেন, ব্যস! তুমি তো খুব সাহসী। তিনি কি বলেছেন, বলো? তারপর আমি বললাম, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, স্বীয় নাফ্স, সন্তান-সন্ততি এবং প্রতিবেশীর ব্যাপারে মানুষ যে ফিতনায় জড়িত হয়, তার সিয়াম, সালাত, সদাকাহ্ এবং সৎকার্যের আদেশ ও অসৎকার্যে বাধা দানই হলো এগুলোর জন্য কাফ্ফারাহ্।এ কথা শুনে ‘উমর (রাঃ) বললেন, আমি তো এ ফিতনার ব্যাপারে শুনতে চাইনি। বরং সমুদ্রের তরঙ্গমালার মতো যে ফিতনা নিপতিত হতে থাকবে, আমি তো শুধু তাই শুনতে চেয়েছি। তখন আমি বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! এ ফিতনার সাথে আপনার কি সম্পর্ক, এতে আপনার উদ্দেশ্য কি? এ ফিতনা ও আপনার মধ্যে এক রুদ্ধদ্বার অন্তরায় রয়েছে। তিনি প্রশ্ন করলেন, এ দ্বার কি ভাঙ্গা হবে, না খোলা হবে? আমি বললাম, না, খোলা হবে না, বরং ভাঙ্গা হবে। এ কথা শুনে ‘উমর (রাঃ) বললেন, তবে তো তা আর কক্ষনো বন্ধ হবে না।বর্ণনাকারী শাকীক (রহঃ) বলেন, আমরা হুযাইফাহ্ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, কে সে দ্বার, ‘উমর (রাঃ) তা কি জানতেন? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ, আগামী দিনের পর রাত্র, এ কথাটি যেমন জানতেন, ঠিক তদ্রূপ ঐ বিষয়টিও তিনি জানতেন। হুযাইফাহ্ (রাঃ) বলনে, আমি তাঁকে ভুল হাদীস শুনাইনি। শাকীক (রহঃ) বলেন, কে সে দরজা, এ বিষয়ে হুযাইফাহ্ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করতে আমরা ভয় পাচ্ছিলাম। তাই আমরা মাসরূক (রহঃ)-কে বললাম, আপনি তাঁকে প্রশ্ন করুন। তিনি হুযাইফাহ্ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলেন। হুযাইফাহ্ (রাঃ) বললেন, এ দরজা হচ্ছে স্বয়ং ‘উমর (রাঃ)।
ই.ফা. ৭০০৪, ই.সে. ৭০৬১
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭১৬০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফিতনার দুই ধরনের আলোচনা এসেছে। উমর (রাঃ) ফিতনা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর বাণী জানতে চান। হুযাইফা (রাঃ) বলেন, পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, নিজের নফস, সন্তান ও প্রতিবেশীর ব্যাপারে মানুষ যে ফিতনায় পড়ে, তার কাফফারা হলো সাওম, সালাত, সদাকা, সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে বাধা দেওয়া। এরপর উমর (রাঃ) বলেন, তিনি এই ফিতনা জানতে চাননি; তিনি জানতে চান সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো বড় ফিতনা সম্পর্কে। তখন হুযাইফা (রাঃ) বলেন, তাঁর ও সেই ফিতনার মাঝে একটি বন্ধ দরজা আছে। পরে জানা যায়, সেই দরজা হলেন উমর (রাঃ)। এই হাদিস একদিকে দৈনন্দিন ফিতনার চিকিৎসা শেখায়, অন্যদিকে বড় সামাজিক ফিতনার গভীর সতর্কতাও দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পরিবার, সম্পদ, নফস, সন্তান ও প্রতিবেশীর বিষয়েও মানুষ ফিতনায় পড়তে পারে।
- সালাত, সাওম, সদাকা ও ভালো কাজের আদেশ ফিতনার কাফফারার কারণ হতে পারে।
- সব ফিতনা এক রকম নয়; কিছু ফিতনা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো বড়।
- উমর রা.-এর অবস্থানকে এই বর্ণনায় বন্ধ দরজার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
