৫৪/১০. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ৭১৭১ - রোমীয়দের সংখ্যা ও গুণাবলি

রোমীয়রা সংখ্যাধিক্য হলে কিয়ামত সংঘটিত হবে

রোমীয়দের সংখ্যা বেশি হবে: হাদিসের শিক্ষা

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭১৭১

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ، بْنُ سَعْدٍ حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عُلَىٍّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ الْمُسْتَوْرِدُ الْقُرَشِيُّ عِنْدَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " تَقُومُ السَّاعَةُ وَالرُّومُ أَكْثَرُ النَّاسِ " .فَقَالَ لَهُ عَمْرٌو أَبْصِرْ مَا تَقُولُ. قَالَ أَقُولُ مَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ لَئِنْ قُلْتَ ذَلِكَ إِنَّ فِيهِمْ لَخِصَالاً أَرْبَعًا إِنَّهُمْ لأَحْلَمُ النَّاسِ عِنْدَ فِتْنَةٍ وَأَسْرَعُهُمْ إِفَاقَةً بَعْدَ مُصِيبَةٍ وَأَوْشَكُهُمْ كَرَّةً بَعْدَ فَرَّةٍ وَخَيْرُهُمْ لِمِسْكِينٍ وَيَتِيمٍ وَضَعِيفٍ وَخَامِسَةٌ حَسَنَةٌ جَمِيلَةٌ وَأَمْنَعُهُمْ مِنْ ظُلْمِ الْمُلُوكِ.

মুসতাওরিদ আল কুরাশী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি ‘আম্‌র ইবনুল ‘আস (রাঃ)-এর নিকট বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, রোমীয়দের সংখ্যা যখন সবচেয়ে বেশী হবে তখন কেয়ামত সংঘটিত হবে। এ কথা শুনা মাত্র ‘আম্‌র ইবনুল ‘আস (রাঃ) তাঁকে বললেন, কি বলছ, চিন্তা-ভাবনা করে বলো। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে যা শুনেছি আমি তাই বর্ণনা করছি।তারপর ‘আম্‌র ইবনুল ‘আস (রাঃ) বললেন, তুমি যদি বলো, তবে সত্যই বলছ। কেননা তাদের মধ্যে চারটি গুণ আছে। প্রথমতঃ ফিত্‌নার সময় তারা সবচেয়ে বেশী ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে থাকে। দ্বিতীয়তঃ মুসীবাতের পর দ্রুত তাদের মধ্যে স্বাভাবিকতা ফিরে আসে। তৃতীয়তঃ যুদ্ধ থেকে পলায়নের পর সর্বপ্রথম তারা আক্রমণ করতে সক্ষম হয় এবং, চতুর্থতঃ মিস্‌কীন, ইয়াতীম ও দুর্বলের জন্য তারা সবচেয়ে বেশী শুভাকাঙ্ক্ষী। অতঃপর পঞ্চমতঃ সুন্দর গুণটি হলো এই যে, তারা শাসকবর্গের অত্যাচারকে অধিক প্রতিহত করে।

ই.ফা. ৭০১৫, ই.সে. ৭০৭২

সহীহ মুসলিম হাদিস ৭১৭১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মুস্তাওরিদ আল-কুরাশী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم থেকে শুনেছেন যে, রোমীয়দের সংখ্যা যখন বেশি হবে তখন কেয়ামত সংঘটিত হবে। আমর ইবনুল আস (রাঃ) তাকে সতর্ক হয়ে বলতে বলেন। মুস্তাওরিদ (রাঃ) জানান, তিনি যা শুনেছেন তাই বলছেন। তখন আমর (রাঃ) রোমীয়দের কিছু গুণের কথা বলেন: ফিতনার সময় ধৈর্য, বিপদের পর দ্রুত ফিরে আসা, পিছু হটার পর আবার আক্রমণে ফেরা, মিসকিন-ইয়াতিম-দুর্বলের প্রতি শুভাকাঙ্ক্ষা, এবং শাসকদের জুলুম প্রতিহত করার প্রবণতা। এই হাদিসে কেয়ামতের আলামতের সঙ্গে মানুষের জাতিগত বা সামাজিক আচরণের কিছু দিক এসেছে। তবে এখানে বাড়তি দাবি না করে, টেক্সটের মধ্যেই থাকা কথাগুলো বোঝা উচিত।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • হাদিস বর্ণনায় সতর্কতা ও শোনা কথার প্রতি আমানত জরুরি।
  • ফিতনার সময় ধৈর্য একটি বড় গুণ হিসেবে এসেছে।
  • দুর্বল, ইয়াতিম ও মিসকিনের প্রতি সদিচ্ছা প্রশংসনীয় গুণ।
  • জুলুম প্রতিহত করার মানসিকতা ভালো গুণ হিসেবে উল্লেখ হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন