৫৪/২৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭২৭৭ - তাইবাহ ও তামীম দারীর বর্ণনা
‘জাসসা-সাহ্’ জন্তুর ঘটনা
তাইবাহ অর্থ মদিনা: দাজ্জাল ঘটনার শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৭২৭৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭২৭৭
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ الْهُجَيْمِيُّ أَبُو عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا قُرَّةُ، حَدَّثَنَا سَيَّارٌ أَبُو الْحَكَمِ، حَدَّثَنَا الشَّعْبِيُّ، قَالَ دَخَلْنَا عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ فَأَتْحَفَتْنَا بِرُطَبٍ يُقَالُ لَهُ رُطَبُ ابْنِ طَابٍ وَأَسْقَتْنَا سَوِيقَ سُلْتٍ فَسَأَلْتُهَا عَنِ الْمُطَلَّقَةِ، ثَلاَثًا أَيْنَ تَعْتَدُّ قَالَتْ طَلَّقَنِي بَعْلِي ثَلاَثًا فَأَذِنَ لِيَ النَّبِيُّ ﷺ أَنْ أَعْتَدَّ فِي أَهْلِي - قَالَتْ - فَنُودِيَ فِي النَّاسِ إِنَّ الصَّلاَةَ جِامِعَةً - قَالَتْ - فَانْطَلَقْتُ فِيمَنِ انْطَلَقَ مِنَ النَّاسِ - قَالَتْ - فَكُنْتُ فِي الصَّفِّ الْمُقَدَّمِ مِنَ النِّسَاءِ وَهُوَ يَلِي الْمُؤَخَّرَ مِنَ الرِّجَالِ - قَالَتْ - فَسَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَخْطُبُ فَقَالَ " إِنَّ بَنِي عَمٍّ لِتَمِيمٍ الدَّارِيِّ رَكِبُوا فِي الْبَحْرِ» .وَسَاقَ الْحَدِيثَ وَزَادَ فِيهِ قَالَتْ فَكَأَنَّمَا أَنْظُرُ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ وَأَهْوَى بِمِخْصَرَتِهِ إِلَى الأَرْضِ وَقَالَ «هَذِهِ طَيْبَةُ» . يَعْنِي الْمَدِينَةَ .
শা’বী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা আমি ফাতিমাহ্ বিনতু কায়স (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তারপর তিনি আমাকে সতেজ খেজুর দ্বারা মেহমানদারী করলেন। এ খেজুরকে رُطَبُ ابْنِ طَابٍ (রুত্বাব ইবনু ত্বাব) বলা হয় এবং যবের ছাতু পান করালেন। এরপর আমি তাঁকে তিন তালাকপ্রাপ্তা মহিলার বিষয়ে প্রশ্ন করলাম যে, সে কোথায় ইদ্দত পালন করবে? উত্তরে তিনি বললেন, আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দেয়ার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে আমার পিতার বাড়ীতে ইদ্দত পালনের অনুমতি দিয়েছিলেন।ফাতিমাহ্ বিনতু কায়স (রাঃ) বলেন, তখন লোকদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা দেয়া হলো, সালাতের উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়ে যাও তারপর এ ঘোষণা শুনে যারা সমবেত হলেন তাদের সাথে আমিও গেলাম এবং পুরুষের কাতারের পেছনে মহিলাদের কাতারের প্রথম সারিতে আমি দাঁড়ালাম। সালাতান্তে নবী (ﷺ)-কে মিম্বারে খুৎবারত অবস্থায় এ কথা বলতে শুনেছি যে, তামীম আদ্ দারীর চাচাতো ভাই একবার সমুদ্রে নৌকায় সফর করেছিল।অত:পর তিনি হাদীসটি অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এতে এ কথা বর্ধিত বর্ণিত আছে যে, ফাতিমাহ্ বলেন, আমি যেন এখনো দেখতে পাচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ছড়ি দ্বারা মাটিতে আঘাত করে বলেছেন, এ হচ্ছে তাইবাহ্ অর্থ মাদীনাহ্।
ই.ফা. ৭১২০, ই.সে. ৭১৭৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭২৭৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফাতিমা বিনতু কায়স (রাঃ)-এর কাছে যাওয়ার ঘটনা দিয়ে বর্ণনা শুরু হয়েছে। তাঁকে তিন তালাকপ্রাপ্তা মহিলার ইদ্দত কোথায় হবে—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি নিজের ঘটনার কথা বলেন এবং জানান, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে তাঁর পিতার বাড়িতে ইদ্দত পালনের অনুমতি দিয়েছিলেন। এরপর সালাতের জন্য সবাইকে একত্র হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। ফাতিমা (রাঃ) মসজিদে গিয়ে নারীদের কাতারে দাঁড়ান। সালাতের পর নবী (صلى الله عليه وسلم) মিম্বারে খুতবা দেন এবং তামীম আদ-দারীর সামুদ্রিক ঘটনার কথা বলেন। এই বর্ণনায় আগের দাজ্জাল ঘটনার সারমর্ম আছে। বিশেষভাবে বলা হয়েছে, ফাতিমা (রাঃ) যেন এখনও দেখতে পাচ্ছেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ছড়ি দিয়ে মাটিতে আঘাত করে বলেছেন, এ হচ্ছে তাইবাহ—অর্থাৎ মদিনা। তাই এই হাদিসে দাজ্জাল সতর্কতার সঙ্গে মদিনার পরিচয়ও স্পষ্ট হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবি নারীরাও নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর খুতবা শুনে হাদিস সংরক্ষণ করেছেন।
- তাইবাহ নামে মদিনাকে এই বর্ণনায় স্পষ্ট করা হয়েছে।
- তামীম দারীর ঘটনা দাজ্জাল বিষয়ে নবীজির বর্ণনার সঙ্গে যুক্ত।
- ইদ্দত ও দাজ্জাল—দুটি আলাদা বিষয় একই বর্ণনায় এসেছে, তাই অর্থ আলাদা করে বোঝা দরকার।
