৫৬/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭৪২০ - ইয়াতীম মেয়েকে কষ্ট না দেওয়ার বিধান
মহান আল্লাহর বাণী : “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় ভক্তিতে বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি”
ইয়াতীম মেয়ের সম্পদ নয়, ইনসাফই মূল
সহীহ মুসলিম : ৭৪২০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭৪২০
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، فِي قَوْلِهِ { وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لاَ تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى} قَالَتْ أُنْزِلَتْ فِي الرَّجُلِ تَكُونُ لَهُ الْيَتِيمَةُ وَهُوَ وَلِيُّهَا وَوَارِثُهَا وَلَهَا مَالٌ وَلَيْسَ لَهَا أَحَدٌ يُخَاصِمُ دُونَهَا فَلاَ يُنْكِحُهَا لِمَالِهَا فَيَضُرُّ بِهَا وَيُسِيءُ صُحْبَتَهَا فَقَالَ { إِنْ خِفْتُمْ أَنْ لاَ تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ} يَقُولُ مَا أَحْلَلْتُ لَكُمْ وَدَعْ هَذِهِ الَّتِي تَضُرُّ بِهَا .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মহান আল্লাহ তা’আলার বাণী, “তোমরা যদি আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি ইনসাফ রক্ষা করতে পারবে না”- (সূরা আন্ নিসা ৪:৩) এর ব্যাখ্যায় বলেন, এ আয়াতটি ঐ পুরুষ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে; যার তত্ত্বাবধানে রয়েছে ইয়াতীম মহিলা এবং এ পুরুষই হচ্ছে তার ওলী ও অভিভাবক। আর এ মেয়েটির আছে কিছু ধন-সম্পদ। কিন্তু তার পক্ষ সমর্থন করার জন্য সে ব্যতীত আর কেউই নেই। ওলী এ ধরনের মেয়েকে তার সম্পদের উদ্দেশে বিয়ে করে তাকে কষ্ট দিতে এবং তার সাথে নিষ্ঠুরভাবে জীবন-যাপন করতে পারবে না।এ ব্যক্তি সম্পর্কেই আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ তোমরা যদি শঙ্কা করো যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি ইনসাফ রক্ষা করতে পারবে না তবে বিবাহ করবে নারীদের মাঝে যাকে তোমাদের পছন্দ হয় দু’, তিন অথবা চার। অর্থাৎ- যে মহিলাদেরকে আমি তোমাদের জন্য হালাল করেছি তাদেরকে বিবাহ করো এবং যে ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি তুমি নিষ্ঠুর আচরণ করছ তাদের থেকে দূরে থাকো।
ই.ফা. ৭২৪৯, ই.সে. ৭৩০৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭৪২০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা রাঃ সূরা আন-নিসার আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, আয়াতটি এমন পুরুষ সম্পর্কে নাজিল হয়েছে যার তত্ত্বাবধানে ইয়াতীম মহিলা আছে। সেই পুরুষই তার ওলী ও অভিভাবক, এবং মেয়েটির কিছু সম্পদ আছে। কিন্তু তার পক্ষে কথা বলার মতো অন্য কেউ নেই। এ অবস্থায় অভিভাবক যদি তার সম্পদের জন্য তাকে বিয়ে করে, তাকে কষ্ট দেয় এবং তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে, তবে এটি ইনসাফের পথ নয়। তাই আয়াতে বলা হয়েছে, যদি ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি ইনসাফ করতে না পারো, তবে অন্য নারীদের মধ্যে যাকে আল্লাহ হালাল করেছেন তাকে বিয়ে করো এবং যে ইয়াতীম মেয়েকে তুমি কষ্ট দিচ্ছ, তাকে ছেড়ে দাও। হাদিসটি অভিভাবকত্বের অপব্যবহার থেকে সতর্ক করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইয়াতীম মেয়ের সম্পদ দেখে তাকে বিয়ে করে কষ্ট দেওয়া অন্যায়।
- অভিভাবকের দায়িত্ব হলো রক্ষা করা, ক্ষতি করা নয়।
- যেখানে ইনসাফ করা যায় না, সেখানে দূরে থাকা নিরাপদ পথ।
- নারীর অধিকার রক্ষায় কুরআনের নির্দেশ স্পষ্ট।
