৪/২১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৮৩০ - শেষ সোমবারে নবী صلى الله عليه وسلم-এর ইশারা
ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সফরে গেলে, অথবা অন্য কোন ওজর থাকলে তিনি তার প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন, কোন কারনে ইমাম যদি বসে সলাত আদায় করেন-সেক্ষেত্রে মুক্তাদীদের কোন অসুবিধা না থাকলে তারা দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করবে, কারন সক্ষম মুক্তাদীর বসে সলাত আদায় করার নির্দেশ (মানসুখ) রহিত হয়ে গেছে।
শেষ সোমবারে নবী صلى الله عليه وسلم-এর ইশারা ও সালাত পূর্ণ করার শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৮৩০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৮৩০
حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَحَسَنٌ الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، - قَالَ عَبْدٌ أَخْبَرَنِي وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ - وَحَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، كَانَ يُصَلِّي لَهُمْ فِي وَجَعِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ حَتَّى إِذَا كَانَ يَوْمُ الاِثْنَيْنِ - وَهُمْ صُفُوفٌ فِي الصَّلاَةِ - كَشَفَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ سِتْرَ الْحُجْرَةِ فَنَظَرَ إِلَيْنَا وَهُوَ قَائِمٌ كَأَنَّ وَجْهَهُ وَرَقَةُ مُصْحَفٍ . ثُمَّ تَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ضَاحِكًا - قَالَ - فَبُهِتْنَا وَنَحْنُ فِي الصَّلاَةِ مِنْ فَرَحٍ بِخُرُوجِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَنَكَصَ أَبُو بَكْرٍ عَلَى عَقِبَيْهِ لِيَصِلَ الصَّفَّ وَظَنَّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ خَارِجٌ لِلصَّلاَةِ فَأَشَارَ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِيَدِهِ أَنْ أَتِمُّوا صَلاَتَكُمْ - قَالَ - ثُمَّ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَأَرْخَى السِّتْرَ - قَالَ - فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مِنْ يَوْمِهِ ذَلِكَ .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে রোগে ইন্তিকাল করেন তাতে রোগাক্রান্ত হওয়াকালীন সময়ে আবূ বাকর (রাঃ) তাদের সালাতের ইমামতি করতেন। সোমবার দিন যখন লোকেরা সালাতের লাইনে দাঁড়ানো ছিল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ঘরের পর্দা সরিয়ে দিলেন। তিনি দাঁড়িয়ে আমাদের দিকে তাকালেন। তাঁর মুখমণ্ডল মুসহাফ তথা কোরআনের পাতার মতো জ্বলজ্বল করছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুচকি হাসলেন। আমরা সালাতের মধ্যে থেকেই নবী (ﷺ) এর আগমন অনুভব করে খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলাম।আবূ বকর (রাঃ) অনুমান করলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতের জন্য বের হচ্ছেন। তাই তিনি লাইনে মিলিত হওয়ার জন্য পিছনে সরে আসছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে বললেনঃ তোমরা তোমাদের সালাত পূর্ণ করো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (নিজের হুজরায়) প্রবেশ করে পর্দা ছেড়ে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঠিক এ দিন ইন্তিকাল করেন।
ই.ফা ৮২৭, ই.সে ৮৩৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৮৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم-এর শেষ অসুস্থতার একটি গভীর আবেগময় ঘটনা এসেছে। আবু বকর (রাঃ) তখন মুসল্লিদের সালাতের ইমামতি করতেন। সোমবার দিন লোকেরা সালাতের কাতারে দাঁড়ানো অবস্থায় রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁর ঘরের পর্দা সরালেন। তিনি দাঁড়িয়ে তাঁদের দিকে তাকালেন এবং তাঁর মুখমণ্ডল খুব উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। তাঁকে দেখে মুসল্লিরা সালাতের মধ্যেই আনন্দে ভরে ওঠে। আবু বকর (রাঃ) ধারণা করেন, নবী صلى الله عليه وسلم হয়তো সালাতের জন্য বের হবেন, তাই তিনি পিছনে সরে কাতারে যোগ দিতে চান। কিন্তু নবী صلى الله عليه وسلم হাতের ইশারায় তাঁদের সালাত পূর্ণ করতে বলেন। এরপর তিনি ঘরে ফিরে পর্দা ছেড়ে দেন। এই হাদিস সালাতের একাগ্রতা, ইমামের দায়িত্ব এবং নবী صلى الله عليه وسلم-এর সালাতপ্রেম বোঝায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাত শুরু হলে তা শৃঙ্খলার সঙ্গে পূর্ণ করা উচিত।
- নবী صلى الله عليه وسلم নিজে উপস্থিত হলেও তিনি মুসল্লিদের সালাত শেষ করতে ইশারা করেন।
- আবু বকর (রাঃ) নবী صلى الله عليه وسلم-এর প্রতি গভীর সম্মান দেখিয়েছেন।
- জামাতে সালাতের কাতার ও ইমামতি গুরুত্বসহকারে পালন করা হয়।
