৪/৩৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৯২৭ - ইমামের কিরাআত সংক্ষিপ্ত রাখার শিক্ষা
‘ইশার সলাতের কিরাআত
ইমামের কিরাআত সংক্ষিপ্ত রাখার নববী নির্দেশ
সহীহ মুসলিম : ৯২৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৯২৭
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كَانَ مُعَاذٌ يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ ﷺ ثُمَّ يَأْتِي فَيَؤُمُّ قَوْمَهُ فَصَلَّى لَيْلَةً مَعَ النَّبِيِّ ﷺ الْعِشَاءَ ثُمَّ أَتَى قَوْمَهُ فَأَمَّهُمْ فَافْتَتَحَ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ فَانْحَرَفَ رَجُلٌ فَسَلَّمَ ثُمَّ صَلَّى وَحْدَهُ وَانْصَرَفَ فَقَالُوا لَهُ أَنَافَقْتَ يَا فُلاَنُ قَالَ لاَ وَاللَّهِ وَلآتِيَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَلأُخْبِرَنَّهُ .فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا أَصْحَابُ نَوَاضِحَ نَعْمَلُ بِالنَّهَارِ وَإِنَّ مُعَاذًا صَلَّى مَعَكَ الْعِشَاءَ ثُمَّ أَتَى فَافْتَتَحَ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ . فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَى مُعَاذٍ فَقَالَ «يَا مُعَاذُ أَفَتَّانٌ أَنْتَ اقْرَأْ بِكَذَا وَاقْرَأْ بِكَذَا».قَالَ سُفْيَانُ فَقُلْتُ لِعَمْرٍو إِنَّ أَبَا الزُّبَيْرِ حَدَّثَنَا عَنْ جَابِرٍ أَنَّهُ قَالَ «اقْرَأْ وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا . وَالضُّحَى . وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى . وَسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى». فَقَالَ عَمْرٌو نَحْوَ هَذَا .
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মু’আয (রাঃ) নবী (ﷺ) -এর সাথে সালাত আদায় করতেন, অতঃপর নিজের সম্প্রদায়ে ফিরে এসে তাদের সালাতে ইমামতি করতেন। এক রাতে তিনি নবী (ﷺ) -এর সাথে ‘ইশার সালাত আদায় করলেন, অতঃপর নিজের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে এসে তাদের সালাতে ইমাম হলেন। তিনি সূরা আল বাকারাহ্ পড়া শুরু করলেন। এক ব্যক্তি এতে বিরক্ত হয়ে পড়ল। সে সালাম ফিরিয়ে একাকী সালাত আদায় করে চলে গেল।লোকেরা তাকে বলল, হে অমুক! তুমি কি মুনাফিক হয়ে গেছ? সে বলল, আল্লাহর শপথ! আমি মুনাফিক হয়ে যাইনি। আমি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে যাব এবং তাঁকে এ সম্পর্কে অবহিত করব। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা উট চালক, দিনের বেলায় কঠোর পরিশ্রম করি। আর মু’আয (রাঃ) আপনার সাথে ‘ইশার সালাত আদায় করে ফিরে এসে আমাদের ইমামতি করলেন এবং সালাতে সূরা আল বাকারাহ্ পড়া শুরু করে দিলেন।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মু’আয-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, হে মু’আয! তুমি কি ফিত্নাহ্ সৃষ্টিকারী! তুমি এ রকম এ রকম সূরা পাঠ করবে। সুফ্ইয়ান বলেন, আমি ‘আম্রকে বললাম, আবূ যুবায়র জাবির-এর সূত্রে আমাদের বলেছেন যে, তিনি [নবী (ﷺ) ] বলেছেন, “তুমি সূরা আশ্ শামস্ সূরা আয্ যুহা সূরা আল লায়ল এবং সূরা আল আ’লা পাঠ করবে। ‘আম্র বললেন, হ্যাঁ, এ ধরনের সূরাই পাঠ করার কথা বলেছেন।
ই.ফা. ৯২২, ই.সে. ৯৩৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ৯২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইমামের কিরাআত সংক্ষিপ্ত রাখার শিক্ষা খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। মু‘আজ (রাঃ) নবী صلى الله عليه وسلم-এর সাথে ইশার সালাত আদায় করতেন, তারপর নিজের সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে তাদের ইমামতি করতেন। এক রাতে তিনি সালাতে সূরা আল বাকারা শুরু করলে একজন পরিশ্রমী মানুষ কষ্ট অনুভব করে আলাদা হয়ে একাকী সালাত পড়ে চলে যায়। পরে বিষয়টি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে পৌঁছালে তিনি মু‘আজ (রাঃ)-কে সতর্ক করেন এবং মানুষের ওপর কষ্ট না দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি ছোট ও সহজ সূরা পড়ার কথা বলেন, যেমন সূরা আশ শামস, যুহা, লাইল ও আ‘লা। এতে বোঝা যায়, জামাতে সালাতের কিরাআত মানুষের অবস্থা বুঝে হওয়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমামতি করলে মুসল্লিদের কাজ, কষ্ট ও সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করা উচিত।
- দীর্ঘ কিরাআত সবার জন্য সহজ নাও হতে পারে, তাই জামাতে সহজতা রাখা দরকার।
- কারও ওপর মুনাফিকের অভিযোগ করার আগে বিষয়টি যাচাই করা জরুরি।
- নবী صلى الله عليه وسلم ইমামদের এমন কিরাআতের দিকে নির্দেশ করেছেন যা মানুষের জন্য সহজ হয়।
