০/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৩ - না জেনে কথা না বলা
হাদীসের সানাদ বর্ণনা করা দীনের অন্তর্ভুক্ত, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ছাড়া রিওয়ায়াত গ্রহণ করা উচিত নয়; বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরা শুধু জায়িয নয়, বরং ওয়াজিব; ওটা গীবাত নয়- যা শারী‘আতের দৃষ্টিতে হারাম; ক্ষতিকারক জিনিসগুলো দূর করে শারী‘আতের বিধানসমূহ নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত করা অতীব প্রয়োজন
না জেনে কথা বলা নয়: দীনী উত্তরে সতর্কতার শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৩৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৩৩
وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ النَّضْرِ بْنِ أَبِي النَّضْرِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو النَّضْرِ، هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا أَبُو عَقِيلٍ، صَاحِبُ بَهِيَّةَ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ الْقَاسِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ فَقَالَ يَحْيَى لِلْقَاسِمِ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ إِنَّهُ قَبِيحٌ عَلَى مِثْلِكَ عَظِيمٌ أَنْ تُسْأَلَ عَنْ شَيْءٍ مِنْ أَمْرِ هَذَا الدِّينِ فَلَا يُوجَدَ عِنْدَكَ مِنْهُ عِلْمٌ وَلَا فَرَجٌ أَوْ عِلْمٌ وَلَا مَخْرَجٌ فَقَالَ لَهُ الْقَاسِمُ وَعَمَّ ذَاكَ قَالَ لِأَنَّكَ ابْنُ إِمَامَيْ هُدًى ابْنُ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ.قَالَ يَقُولُ لَهُ الْقَاسِمُ أَقْبَحُ مِنْ ذَاكَ عِنْدَ مَنْ عَقَلَ عَنِ اللهِ أَنْ أَقُولَ بِغَيْرِ عِلْمٍ أَوْ آخُذَ عَنْ غَيْرِ ثِقَةٍ. قَالَ فَسَكَتَ فَمَا أَجَابَهُ.
আবূ ‘আকীল (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা আমি কাসিম ইবনু ‘উবাইদুল্লাহ (রহঃ) ও ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা‘ঈদ (রহঃ)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) কাসিম (রহঃ)-কে বললেন, হে আবূ মুহাম্মাদ! আপনাকে দীন ও শারী‘আত সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন করে উত্তর ও ব্যাখ্যা না পাওয়া আপনার মতো ব্যক্তির পক্ষে শোভনীয় নয়। কাসিম (রহঃ) তাঁকে বললেন, কি কারণে? ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) বললেন, কেননা আপনি আবূ বাক্র (রাঃ) ও ‘উমার (রাঃ)-এর মত দু’জন সত্যপন্থী মহান খলীফার বংশধর।রাবী বলেন, এর জবাবে কাসিম (রহঃ) তাঁকে বললেন, যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা জ্ঞান দান করেছেন, তার দৃষ্টিতে এর চেয়েও জঘন্য হলো না জেনে কোন কথা বলা। কিংবা অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকে হাদীস গ্রহণ করা। আবূ ‘আকীল (রহঃ) বলেন, এ কথা শুনে ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) নীরব হয়ে গেলেন, আর কোন উত্তর দিলেন না।
সহীহ মুসলিম হাদিস ৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় কাসিম (রহঃ)-এর একটি সতর্ক ও বিনয়ী অবস্থান দেখা যায়। ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা‘ঈদ (রহঃ) তাঁকে বলেন, আপনার মতো ব্যক্তিকে দীন বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তর না পাওয়া শোভনীয় নয়, কারণ আপনি আবূ বাক্র ও ‘উমার (রাযিঃ)-এর বংশধর। কাসিম (রহঃ) জবাবে বলেন, আল্লাহ যাকে জ্ঞান দিয়েছেন, তার দৃষ্টিতে এর চেয়েও খারাপ হলো না জেনে কথা বলা, অথবা অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকে হাদীস গ্রহণ করা। এখানে “না জেনে ফতোয়া”, “দীনী জবাবে সতর্কতা” এবং “অনির্ভরযোগ্য সূত্র” প্রধান বিষয়। বংশ বা মর্যাদা নয়, জ্ঞান ও নির্ভরযোগ্যতাই এখানে আসল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দীনী বিষয়ে না জানলে চুপ থাকা নিরাপদ ও সম্মানজনক হতে পারে।
- বংশমর্যাদা জ্ঞানের বিকল্প নয়।
- অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকে হাদীস নেওয়া থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
