০/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৪ - মিথ্যা রাবী বিষয়ে কঠোর সতর্কতা
হাদীসের সানাদ বর্ণনা করা দীনের অন্তর্ভুক্ত, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ছাড়া রিওয়ায়াত গ্রহণ করা উচিত নয়; বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরা শুধু জায়িয নয়, বরং ওয়াজিব; ওটা গীবাত নয়- যা শারী‘আতের দৃষ্টিতে হারাম; ক্ষতিকারক জিনিসগুলো দূর করে শারী‘আতের বিধানসমূহ নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত করা অতীব প্রয়োজন
হাদিসে মিথ্যা বর্ণনাকারী থেকে সতর্ক থাকার শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৪৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৪
حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ عَبْدُ اللهِ بْنُ بَرَّادٍ الْأَشْعَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ مُفَضَّلٍ، عَنْ مُغِيرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ الشَّعْبِيَّ، يَقُولُ حَدَّثَنِي الْحَارِثُ الْأَعْوَرُ، وَهُوَ يَشْهَدُ أَنَّهُ أَحَدُ الْكَاذِبِينَ.
শা’বী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
হারিস আল আ‘ওযার আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছে। এরপর শা‘বী (রহঃ) শপথ করে বলেন, সে মিথ্যাবাদীদের অন্যতম।
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় শা‘বী (রহঃ) হারিস আল আ‘ওযার সম্পর্কে আরও কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, হারিস তার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছে, এরপর তিনি সাক্ষ্য দেন যে, সে মিথ্যাবাদীদের একজন। এখানে হাদিস বর্ণনায় রাবীর চরিত্র ও সত্যবাদিতার গুরুত্ব পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়। কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত হয়, তাহলে তার কাছ থেকে ধর্মীয় কথা গ্রহণ করা খুব ঝুঁকির বিষয়। হাদিসের নামে ভুল বা মিথ্যা কথা ছড়িয়ে পড়লে মানুষ ভুল শিক্ষা নিতে পারে। তাই মুহাদ্দিসগণ রাবীদের নিয়ে আলোচনা করতেন, যাতে সহিহ হাদিস ও দুর্বল বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য বোঝা যায়। এই বর্ণনা সাধারণ মুসলিমকেও শেখায়—ধর্মীয় কথা শুনলে উৎস যাচাই করতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত রাবীর বর্ণনা গ্রহণে সতর্ক থাকা দরকার।
- রাবীর সত্যবাদিতা হাদিস গ্রহণের বড় শর্তগুলোর একটি।
- হাদিসের নামে ভুল কথা ছড়ানো থেকে বাঁচতে যাচাই জরুরি।
- ইলমের নিরাপত্তার জন্য নির্ভরযোগ্য উৎস খোঁজা প্রয়োজন।
