০/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৯ - বাহ্যিক ভদ্রতা ও ভ্রান্ত মত
হাদীসের সানাদ বর্ণনা করা দীনের অন্তর্ভুক্ত, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ছাড়া রিওয়ায়াত গ্রহণ করা উচিত নয়; বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরা শুধু জায়িয নয়, বরং ওয়াজিব; ওটা গীবাত নয়- যা শারী‘আতের দৃষ্টিতে হারাম; ক্ষতিকারক জিনিসগুলো দূর করে শারী‘আতের বিধানসমূহ নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত করা অতীব প্রয়োজন
ভদ্র স্বভাব দেখেই রাবী গ্রহণ না করার শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৫৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৫৯
قَالَ مُسْلِمٌ وَسَمِعْتُ أَبَا غَسَّانَ، مُحَمَّدَ بْنَ عَمْرٍو الرَّازِيَّ قَالَ سَأَلْتُ جَرِيرَ بْنَ عَبْدِ الْحَمِيدِ فَقُلْتُ الْحَارِثُ بْنُ حَصِيرَةَ لَقِيتَهُ قَالَ نَعَمْ. شَيْخٌ طَوِيلُ السُّكُوتِ يُصِرُّ عَلَى أَمْرٍ عَظِيمٍ.
আবূ গাস্সান মুহাম্মাদ ইবনু ‘আম্র আর রাযী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি জারীর ইবনু ‘আবদুল হামীদকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি হারিস ইবনু হাসীরাহ তার সঙ্গে কখনো সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি একজন মিতভাষী প্রবীণ বৃদ্ধ। কিন্তু একটি গুরুতর কাজে বাড়াবাড়ি করেন। (রাফিযী বাতিল ‘আকীদাহ্ পোষণ করে।)
সহীহ মুসলিম হাদিস ৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় হারিস ইবনু হাসীরাহ সম্পর্কে জারীর ইবনু ‘আবদুল হামীদকে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি বলেন, তিনি একজন মিতভাষী প্রবীণ বৃদ্ধ। কিন্তু তিনি একটি গুরুতর কাজে বাড়াবাড়ি করেন। অনুবাদে বলা হয়েছে, তিনি রাফিযী বাতিল আকীদাহ পোষণ করতেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, বাহ্যিক ভদ্রতা বা কম কথা বলা কাউকে হাদিসের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ করে না। হাদিস গ্রহণে রাবীর আকীদাহ, সত্যবাদিতা ও অবস্থান দেখা জরুরি। কেউ শান্ত, বয়স্ক বা সম্মানিত মনে হলেও, যদি গুরুতর ভুল বিশ্বাসে অটল থাকে, তাহলে তার বর্ণনা নিয়ে সতর্কতা দরকার। ইসলামি জ্ঞান গ্রহণে ব্যক্তিত্ব নয়, নির্ভরযোগ্যতা ও সঠিক আকীদাহ গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাহ্যিক ভদ্রতা দেখে কারও বর্ণনা গ্রহণ করা ঠিক নয়।
- রাবীর আকীদাহ ও অবস্থান যাচাই করা দরকার।
- প্রবীণ বা মিতভাষী হওয়া একা গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ নয়।
- গুরুতর ভ্রান্তিতে অটল ব্যক্তির বর্ণনা নিয়ে সতর্কতা দরকার।
