০/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৬ - সত্য কথা নবীর নামে নয়
হাদীসের সানাদ বর্ণনা করা দীনের অন্তর্ভুক্ত, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ছাড়া রিওয়ায়াত গ্রহণ করা উচিত নয়; বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরা শুধু জায়িয নয়, বরং ওয়াজিব; ওটা গীবাত নয়- যা শারী‘আতের দৃষ্টিতে হারাম; ক্ষতিকারক জিনিসগুলো দূর করে শারী‘আতের বিধানসমূহ নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত করা অতীব প্রয়োজন
সত্য কথা হলেও নবী صلى الله عليه وسلم-এর নামে বলা যাবে না
সহীহ মুসলিম : ৬৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৬
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ رَقَبَةَ، أَنَّ أَبَا جَعْفَرِ الْهَاشِمِيُّ الْمَدَنِيَّ، كَانَ يَضَعُ أَحَادِيثَ كَلَامَ حَقٌّ وَلَيْت مِنْ أَحَادِيثِ النَّبِي وَكَ يَرْوِيهَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ
রাকাবাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ জা'ফার আল হাশিমী আল মাদানী (রহঃ) সর্বমহল পরীক্ষিত কথাকে রসূলের হাদীস বলে প্রচার করতেন। সেগুলো প্রকৃতপক্ষে নবী-এর হাদীস নয়।
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবূ জা'ফার আল হাশিমী আল মাদানীর ব্যাপারে বলা হয়েছে, তিনি পরীক্ষিত ও সত্যধর্মী কিছু কথা রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর হাদিস বলে প্রচার করতেন, অথচ সেগুলো প্রকৃতপক্ষে নবী صلى الله عليه وسلم-এর হাদিস ছিল না। এখানে হাদিস বর্ণনায় খুব সূক্ষ্ম কিন্তু বড় শিক্ষা আছে। কোনো কথা ভালো, সত্য বা উপকারী মনে হলেই তা রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর নামে বলা যায় না। হাদিস হিসেবে বলার জন্য তা সত্যিই নবী صلى الله عليه وسلم থেকে প্রমাণিত হওয়া দরকার। জাল হাদিস থেকে সতর্কতা মানে শুধু খারাপ কথা বর্জন নয়; ভালো কথা হলেও ভুলভাবে নবীর নামে চালানো থেকে বাঁচা। এভাবেই হাদিসের সত্যতা রক্ষা হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সত্য কথা হলেও প্রমাণ ছাড়া নবী صلى الله عليه وسلم-এর নামে বলা যায় না।
- হাদিস হিসেবে বলার আগে উৎস যাচাই দরকার।
- ভালো কথা আর প্রমাণিত হাদিস এক বিষয় নয়।
- জাল হাদিস থেকে সতর্ক থাকা ইলমের আমানত।
