০/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭৩ - সন্দেহজনক রাবী থেকে না লেখা
হাদীসের সানাদ বর্ণনা করা দীনের অন্তর্ভুক্ত, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ছাড়া রিওয়ায়াত গ্রহণ করা উচিত নয়; বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরা শুধু জায়িয নয়, বরং ওয়াজিব; ওটা গীবাত নয়- যা শারী‘আতের দৃষ্টিতে হারাম; ক্ষতিকারক জিনিসগুলো দূর করে শারী‘আতের বিধানসমূহ নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত করা অতীব প্রয়োজন
সন্দেহজনক রাবী থেকে হাদিস না লেখা: শু‘বার সতর্কতা
সহীহ মুসলিম : ৭৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭৩
حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، كَتَبْتُ إِلَى شُعْبَةَ أَسْأَلُهُ عَنْ أَبِي شَيْبَةَ، قَاضِي وَاسِطٍ فَكَتَبَ إِلَيَّ لَا تَكْتُبْ عَنْهُ شَيْئًا وَمَزِّقْ كِتَابِي.
‘উবাইদুল্লাহ ইবনু মু‘আয আল ‘আম্বারী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার পিতা বলেছেন, আমি ওয়াসিত শহরের কাজী আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে শু‘বার নিকট চিঠি লিখে পাঠালাম। জবাবে তিনি আমাকে লিখে পাঠালেন, তার কাছ থেকে কিছুই লিখবে না আর আমার এ চিঠিখানা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলবে।
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তি ওয়াসিত শহরের কাজী আবূ শাইবাহ সম্পর্কে জানতে শু‘বার কাছে চিঠি লেখেন। শু‘বা জবাবে লিখে দেন, তার কাছ থেকে কিছুই লিখবে না এবং আমার এ চিঠি ছিঁড়ে ফেলবে। এখানে হাদিস গ্রহণে সতর্কতার শক্ত দিক দেখা যায়। শুধু মুখে না বলা নয়, কখনো কখনো কোনো রাবী থেকে লিখিত বর্ণনাও নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। হাদিস সংরক্ষণের সময় মুহাদ্দিসরা উৎসের ব্যাপারে খুব সচেতন ছিলেন। যে ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি, তার কাছ থেকে কিছু না লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি শেখায়, দ্বীনের জ্ঞান লিখে রাখা মানে যাচাই ছাড়া সংগ্রহ করা নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্দেহজনক রাবী থেকে হাদিস লেখা উচিত নয়।
- ইলম সংগ্রহে উৎস যাচাই জরুরি।
- মুহাদ্দিসরা লিখিত বর্ণনাতেও সতর্ক ছিলেন।
- যা গ্রহণযোগ্য নয়, তা সংরক্ষণ না করাই নিরাপদ।
