১৩/১. অধ্যায়ঃ
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ أَنَّهُ سَمِعَ عَبَّادَ بْنَ تَمِيمٍ يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ زَيْدٍ الْمَازِنِيَّ يَقُولُ خَرَجَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْمُصَلَّى فَاسْتَسْقَى وَحَوَّلَ رِدَاءَهُ حِينَ اسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ৬৪৭-و سُئِلَ مَالِك عَنْ صَلَاةِ الْاسْتِسْقَاءِ كَمْ هِيَ فَقَالَ رَكْعَتَانِ وَلَكِنْ يَبْدَأُ الْإِمَامُ بِالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ يَخْطُبُ قَائِمًا وَيَدْعُو وَيَسْتَقْبِلُ الْقِبْلَةَ وَيُحَوِّلُ رِدَاءَهُ حِينَ يَسْتَقْبِلُ الْقِبْلَةَ وَيَجْهَرُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ بِالْقِرَاءَةِ وَإِذَا حَوَّلَ رِدَاءَهُ جَعَلَ الَّذِي عَلَى يَمِينِهِ عَلَى شِمَالِهِ وَالَّذِي عَلَى شِمَالِهِ عَلَى يَمِينِهِ وَيُحَوِّلُ النَّاسُ أَرْدِيَتَهُمْ إِذَا حَوَّلَ الْإِمَامُ رِدَاءَهُ وَيَسْتَقْبِلُونَ الْقِبْلَةَ وَهُمْ قُعُودٌ.
আবদুল্লাহ ইবনু যায়দুল মাযনী (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একবার মুসাল্লা-র (নামাযের স্থান ইদগাহ) দিকে বের হলেন, তারপর বৃষ্টি প্রার্থনা করলেন, আর কেবলামুখী হওয়ার সময় আপন চাদর ঘুরিয়ে দিলেন। (বুখারী ১০১২, মুসলিম ৮৯৪) ইয়াহিয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হল, ‘সালাতুল ইসতিসকা’ সম্পর্কে; উহা কত রাক’আত? তিনি (উত্তরে) বললেন, দু’ রাক’আত; কিন্তু ইমাম খুতবা পাঠের পূর্বে নামায আরম্ভ করবেন।অতঃপর দু’ রাক’আত আদায় করবেন, তারপর দাঁড়িয়ে খুতবা প্রদান করবেন, এবং দোয়া করবেন। আর কেবলার দিকে যখন মুখ করবেন, তখন আপন চাদর ঘুরাবেন। আর উভয় রাক’আতে কিরা’আত সরবে পড়িবেন, আর যখন চাদর ঘুরাবেন, তখন ডান কাঁধের চাদরকে বাম কাঁধে এবং বাঁ কাঁধের চাদরকে ডান কাঁধে করবেন। ইমাম যখন আপন চাদর ঘুরিয়ে নিবেন। লোকজনও তাদের স্ব-স্ব চাদর ঘুরাবেন, আর তারা কেবলামুখী হয়ে বসবেন।
১৩/২. অধ্যায়ঃ
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا اسْتَسْقَى قَالَ اللهُمَّ اسْقِ عِبَادَكَ وَبَهِيمَتَكَ وَانْشُرْ رَحْمَتَكَ وَأَحْيِ بَلَدَكَ الْمَيِّتَ.
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন বৃষ্টি প্রার্থনা করতেন, তখন বলতেন, اَللهُمَّ اسْقِ عِبَادَكَ وَبَهِيمَتَكَ وَانْشُرْ رَحْمَتَكَ وَاَحْىِ بلَدَكَ الْمَيَّتَ. হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ও জীব-জন্তুর পিপাসা নিবারণ করুন এবং আপনার রহমত বিস্তার করুন; আর পানির অভাবে মৃতপ্রায় শহরকে পুনরুজ্জীবিত করুন।
(হাসানঃ আবূ দাঊদ ১১৭৬, আলবানী হাদীসটি হাসান বলেছেন [সহীহুল জামে’ ৪৬৬৬] এবং ইমাম মালিক কর্তৃক হাদীসটি মুরসাল)
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ قَالَ، جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ هَلَكَتْ الْمَوَاشِي وَتَقَطَّعَتْ السُّبُلُ فَادْعُ اللهَ فَدَعَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمُطِرْنَا مِنْ الْجُمُعَةِ إِلَى الْجُمُعَةِ،قَالَ فَجَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ تَهَدَّمَتْ الْبُيُوتُ وَانْقَطَعَتْ السُّبُلُ وَهَلَكَتْ الْمَوَاشِي فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللهُمَّ ظُهُورَ الْجِبَالِ وَالْآكَامِ وَبُطُونَ الْأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتَ الشَّجَرِ قَالَ فَانْجَابَتْ عَنْ الْمَدِينَةِ انْجِيَابَ الثَّوْبِ،৬৫১قَالَ مَالِك فِي رَجُلٍ فَاتَتْهُ صَلَاةُ الْاسْتِسْقَاءِ وَأَدْرَكَ الْخُطْبَةَ فَأَرَادَ أَنْ يُصَلِّيَهَا فِي الْمَسْجِدِ أَوْ فِي بَيْتِهِ إِذَا رَجَعَ قَالَ مَالِك هُوَ مِنْ ذَلِكَ فِي سَعَةٍ إِنْ شَاءَ فَعَلَ أَوْ تَرَكَ.
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খেদমতে হাজির হয়ে বলল, গৃহপালিত পশু ধ্বংস হয়েছে এবং পথঘাট বিনষ্ট হয়েছে, অতএব আপনি আল্লাহর নিকট দোয়া করুন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দোয়া করলেন, এতে জুম’আর দিন হতে আমাদের উপর বৃষ্টি হল। আনাস (রাঃ) বলেন, অতঃপর এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খেদমতে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, পথ-ঘাট রুদ্ধ হয়েছে এবং গৃহপালিত পশু মারা যাচ্ছে।তারপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দোয়া করলেন আল্লাহ! পাহাড় ও টিলার পৃষ্ঠদেশ, উপত্যকার মধ্যভাগে এবং বৃক্ষের গোড়ায় বৃষ্টি হোক। আনাস (রাঃ) বলেন, (দোয়ার পর) মদীনার আকাশ হতে মেঘ চতুর্দিকে সরে গেল; যেমন পুরাতন কাপড় ছিড়ে বিভক্ত হয়ে যায়। (বুখারী ৯৩২, মুসলিম ৮৯৭) ইয়াহিয়া (রহঃ) বলেন, ইসতিসকার নামাজ যে ব্যক্তি পায়নি, অথচ সে খুতবায় শরীক হয়েছে, অতঃপর সে (ঈদগাহ হতে) প্রত্যাবর্তন করার পর তার গৃহে অথবা মসজিদে নামাজ আদায়ের ইচ্ছা করলে তার সম্পর্কে কি হুকুম? এই মর্মে আমি প্রশ্ন করলে পর মালিক (রহঃ) বলেন, তার ইখতিয়ার রয়েছে, ইচ্ছা করলে আদায় করতে পারে, ইচ্ছা করলে নাও আদায় করতে পারে।
১৩/৩. অধ্যায়ঃ
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ أَنَّهُ قَالَ، صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الصُّبْحِ بِالْحُدَيْبِيَةِ عَلَى إِثْرِ سَمَاءٍ كَانَتْ مِنْ اللَّيْلِ فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ أَتَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ قَالُوا اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ قَالَ أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ بِي فَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللهِ وَرَحْمَتِهِ فَذَلِكَ مُؤْمِنٌ بِي كَافِرٌ بِالْكَوْكَبِ وَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا فَذَلِكَ كَافِرٌ بِي مُؤْمِنٌ بِالْكَوْكَبِ.
হুদায়বিয়ায় রাত্রে বৃষ্টি হয়েছিল ও এর চিহ্ন সকালেও বিদ্যমান ছিল, সে অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে ফজরের নামাজ পড়ালেন। যখন নামাজ সমাপ্ত করলেন, তখন পবিত্র মুখমণ্ডল লোকের দিকে করলেন এবং বললেন, তোমরা অবগত আছ কি তোমাদের প্রভু কি বলেছেন? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক অবগত।রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, (আল্লাহ) বলেছেন, আমার বান্দাদের মধ্য হতে কিছুসংখ্যক লোক প্রভাত করেছে আমার প্রতি ঈমান (বিশ্বাস) রেখে, আর (কিছুসংখ্যক) প্রভাত করেছে আমার সাথে কুফরী করে। যে বলেছে, আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে আমাদের প্রতি বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে, সে আমার প্রতি মু’মিন রয়েছে, আর নক্ষত্রের প্রতি অস্বীকারী হয়েছে। আর যে বলেছে, অমুক নক্ষত্রের দ্বারা বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে, সে আমার প্রতি অস্বীকারকারী হয়েছে এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী হয়েছে।
(বুখারী ৮৪৬, মুসলিম ৭১)
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ إِذَا أَنْشَأَتْ بَحْرِيَّةً ثُمَّ تَشَاءَمَتْ فَتِلْكَ عَيْنٌ غُدَيْقَة.
সমুদ্রের দিক হতে মেঘ উঠিয়া শাম অভিমুখে গমন করল, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলতেন عَيْنٌ غُدَيْقَة এটি ‘বর্ষণপূর্ণ প্রস্রবণ’।
(হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ كَانَ يَقُولُ إِذَا أَصْبَحَ وَقَدْ مُطِرَ النَّاسُ مُطِرْنَا بِنَوْءِ الْفَتْحِ ثُمَّ يَتْلُو هَذِهِ الْآيَةَ ﴾ مَا يَفْتَحْ اللهُ لِلنَّاسِ مِنْ رَحْمَةٍ فَلَا مُمْسِكَ لَهَا وَمَا يُمْسِكْ فَلَا مُرْسِلَ لَهُ مِنْ بَعْدِهِ ﴿.
তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, যখন ফজর হয়, আর লোকের প্রতি বৃষ্টি বর্ষিত হয়, তখন আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলতেন, আল্লাহর রহমতে আমাদের প্রতি বৃষ্টি বর্ষিত হল।অতঃপর এই আয়াতটি তিলাওয়াত করতেন- مَايَفْتَحِ اللهِ لِلنَّاسِ مِنْ رَحْمَةٍ فَلاَ مُمْسِكَ لَهَا. আল্লাহ মানুষের প্রতি কোন অনুগ্রহ অবারিত করলে কেহ নিবারণ করতে পারে না। (সূরা: আন-নজম, ২)
(হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)