২৩/৪. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০২৪ - কুরবানীর গোশত সংরক্ষণের কারণ
কুরবানীর গোশত রেখে দেয়া
কুরবানীর গোশত তিন দিনের বেশি রাখার বিধান
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০২৪
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১০২৪
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ وَاقِدٍ أَنَّهُ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَكْلِ لُحُومِ الضَّحَايَا بَعْدَ ثَلَاثٍ.قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَقَالَتْ صَدَقَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَقُولُ دَفَّ نَاسٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ حَضْرَةَ الْأَضْحَى فِي زَمَانِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ادَّخِرُوا لِثَلَاثٍ وَتَصَدَّقُوا بِمَا بَقِيَ قَالَتْ فَلَمَّا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ قِيلَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَدْ كَانَ النَّاسُ يَنْتَفِعُونَ بِضَحَايَاهُمْ وَيَجْمُلُونَ مِنْهَا الْوَدَكَ وَيَتَّخِذُونَ مِنْهَا الْأَسْقِيَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا ذَلِكَ أَوْ كَمَا قَالَ قَالُوا نَهَيْتَ عَنْ لُحُومِ الضَّحَايَا بَعْدَ ثَلَاثٍ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا نَهَيْتُكُمْ مِنْ أَجْلِ الدَّافَّةِ الَّتِي دَفَّتْ عَلَيْكُمْ فَكُلُوا وَتَصَدَّقُوا وَادَّخِرُوا يَعْنِي بِالدَّافَّةِ قَوْمًا مَسَاكِينَ قَدِمُوا الْمَدِيْنَةَ.
আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াকিদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিন দিনের পর কুরবানীর গোশত খেতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু আবূ বাকর (রহঃ) বলেন : এই কথা আমি ‘আমরা বিন্ত আবদুর রহমানকে গিয়ে শুনালাম। তিনি বললেন : ‘আবদুল্লাহ সত্য বলেছেন। নাবী (ﷺ)-এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে শুনেছি : রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময় একবার ঈদুল আযহার দিন কিছু সংখ্যক বেদুঈন আসেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : তিন দিনের মতো গোশত রেখে বাকীটা খয়রাত করে দাও।এর পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে বলা হল, পূর্বে লোকেরা কুরবানীর পশু দ্বারা ফায়দা লাভ করত। এর চর্বি রেখে দিত এবং চামড়া দ্বারা মশক বানিয়ে রাখত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : তোমরা কি বলতে চাও? বলা হল : আপনি তিন দিনের অতিরিক্ত কুরবানীর গোশত রাখতে নিষেধ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : কিছু অভাবী লোক গ্রাম হতে এসে পড়েছিল, তাই তিন দিনের অতিরিক্ত গোশত রাখতে আমি নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা তা খাও, খয়রাত কর এবং জমা করে রেখে দাও।
(সহীহ, মুসলিম ১৯৭১)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রা)-এর বর্ণনায় কুরবানীর গোশত তিন দিনের বেশি রাখার বিষয়ে কারণসহ শিক্ষা এসেছে। একবার ঈদুল আযহার সময় কিছু বেদুঈন ও অভাবী লোক মদীনায় আসে। তখন রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন দিনের মতো গোশত রেখে বাকিটা খয়রাত করতে বলেন। পরে সাহাবীরা বলেন, মানুষ কুরবানীর পশুর চর্বি রাখত এবং চামড়া দিয়ে মশক বানাত। তখন তিনি জানান, আগের নিষেধ ছিল সেই অভাবী লোকদের কারণে। এরপর তিনি বলেন, এখন তোমরা খাও, খয়রাত কর এবং জমা করে রেখে দাও। তাই হাদিসটি কুরবানীর গোশত সংরক্ষণ, দান এবং প্রয়োজনমতো ব্যবহার—এই তিনটি বিষয়কে ভারসাম্যপূর্ণভাবে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অভাবী মানুষের প্রয়োজনের কারণে গোশত বিলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
- পরে কুরবানীর গোশত খাওয়া, দান করা ও জমা রাখার অনুমতি এসেছে।
- হুকুমের কারণ বুঝলে আমল পরিষ্কার হয়।
- কুরবানীর গোশতে নিজের প্রয়োজন ও অন্যের হক দুটোই বিবেচনায় রাখা উচিত।
