২৮/৩. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০৯২ - মহরের শর্ত ও স্ত্রীর হক
মহর ও উপঢৌকন
মহরের শর্ত: স্ত্রী, পিতা ও স্বামীর দায়িত্ব
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৯২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১০৯২
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ كَتَبَ فِي خِلَافَتِهِ إِلَى بَعْضِ عُمَّالِهِ أَنَّ كُلَّ مَا اشْتَرَطَ الْمُنْكِحُ مَنْ كَانَ أَبًا أَوْ غَيْرَهُ مِنْ حِبَاءٍ أَوْ كَرَامَةٍ فَهُوَ لِلْمَرْأَةِ إِنْ ابْتَغَتْهُ১৯২৫-قَالَ مَالِك فِي الْمَرْأَةِ يُنْكِحُهَا أَبُوهَا وَيَشْتَرِطُ فِي صَدَاقِهَا الْحِبَاءَ يُحْبَى بِهِ إِنَّ مَا كَانَ مِنْ شَرْطٍ يَقَعُ بِهِ النِّكَاحُ فَهُوَ لِابْنَتِهِ إِنْ ابْتَغَتْهُ وَإِنْ فَارَقَهَا زَوْجُهَا قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا فَلِزَوْجِهَا شَطْرُ الْحِبَاءِ الَّذِي وَقَعَ بِهِ النِّكَاح.
মালিক (র) হতে বর্ণিতঃ
উমর ইব্নু আবদুল আযীয (র) তাঁর খিলাফতকালে জনৈক কর্মকর্তার নিকট এই মর্মে পত্র লিখলেন যে, বিবাহ প্রদানকারী তিনি পিতা হোক বা অন্য কেউ স্বামীর নিকট হতে কোন প্রকার উপঢৌকন বা সম্মানীর শর্ত করে থাকলে স্ত্রী দাবী করলে সে তা পাবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) সেই মহিলা সম্পর্কে বলেন, যে মহিলাকে তার পিতা বিবাহ দিয়েছে এবং কন্যার মোহরানাতে কন্যার পিতা নিজের জন্য কিছু উপঢৌকনের শর্ত করেছে। তবে যেসব শর্তে বিবাহ সংঘটিত হয়েছে, সেই সব প্রাপ্য হবে কন্যার, যদি সে দাবি করে। আর যদি তার স্বামী সহবাসের পূর্বে তাকে তালাক দেয় তবে শর্তকৃত উপঢৌকন -এর অর্ধেক স্বামী ফেরত পাবে।মালিক (র) বলেন : যে ব্যক্তি তার অপ্রাপ্ত বয়স্ক পুত্রকে বিবাহ দেয়, যে পুত্র কোন সম্পদের মালিক নয়। বিবাহ অনুষ্ঠানে যদি সে পুত্র সম্পদের মালিক না থাকে তবে মহর ওয়াজিব হবে তার পিতার উপর। আর যদি পুত্র সম্পদের মালিক থাকে তবে পিতা স্বয়ং মহর-এর দায়িত্ব গ্রহণ না করে থাকে তবে পুত্রের সম্পদ হতে মহর আদায় করতে হবে। কেননা পুত্র পিতার কর্তৃত্বাধীন থাকলে এবং পুত্র অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলে এই বিবাহ পুত্রের জন্য অপরিহার্য হবে। মালিক (র) বলেন : কোন ব্যক্তি সহবাসের পূর্বে তার কুমারী স্ত্রীকে তালাক দিল। কন্যার পিতা তার কন্যার অর্ধেক মহর মাফ করে দিল। কন্যার পিতা যে পরিমাণ মহর মাফ করে দিল সে পরিমাণ মহর না দেওয়া স্বামীর জন্য বৈধ হবে।মালিক (র) বলেন, উপরিউক্ত মাস‘আলার দলীল এই যে, আল্লাহ তা’আলা কোরআনুল করীমে ইরশাদ করেছে, إِلَّا أَنْ يَعْفُوْنَ “যদি না স্ত্রী মাফ করে দেয়।” এতে ঐ সকল স্ত্রীলোকের কথা বলা হয়েছে যাদের সাথে তাদের স্বামীগণ সহবাস করেছে। أَوْ يَعْفُوَ الَّذِي بِيَدِهِ عُقْدَةُ النِّكَاحِ. “অথবা যার হাতে বিবাহ বন্ধন রয়েছে সে মাফ করে দেয়।” [১] আয়াতে উল্লেখিত, “যার হাতে বিবাহ বন্ধন রয়েছে” দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, কুমারী কন্যার পিতা এবং ক্রীতদাসীর মালিক যাদের হাতে বিবাহ বন্ধনের অধিকার রয়েছে।” মালিক (র) বলেন : এই বিষয়ে আমি এইরূপই শুনেছি এবং আমাদের মদীনাবাসীর আমলও অনুরূপ।মালিক (র) বলেন, ইহুদী অথবা খ্রিস্টান মহিলা ইহুদী অথবা খ্রিস্টান স্বামীর বিবাহ বন্ধনে থাকলে এবং ইহুদী অথবা খ্রিস্টান মহিলা স্বামীর সহিত সহবাসের পূর্বে মুসলমান হলে তবে মহর তাদের প্রাপ্য হবে না। মালিক (র) বলেন : দীনার-এর এক-চতুর্থাংশের কম পরিমাণ মহর-এর বিনিময়ে মহিলাকে বিবাহ দেওয়া আমি বৈধ মনে করি না। এই পরিমাণই হচ্ছে সর্বনিম্ন পরিমাণ যাতে চোরের হাত কাটা হয়।
[১] পূর্ণ আয়াতটি এই, তোমরা যদি তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দাও অথচ মহর ধার্য করে থাক তবে যা তোমরা ধার্য করেছ তার অর্ধেক যদি না স্ত্রী অথবা যার হাতে বিবাহ বন্ধন রয়েছে সে মাফ করে দেয়; এবং মাফ দেওয়াই তাকওয়ার নিকটতর। তোমরা নিজেদের মধ্যে সদাশয়তার কথা বিস্মৃত হইও না। তোমরা যা কর আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১০৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ বর্ণনায় মহর ও বিবাহের শর্ত নিয়ে একাধিক বিষয় এসেছে। উমার ইবনু আবদুল আযীয (র) লিখেছিলেন, বিবাহদানকারী ব্যক্তি পিতা হোক বা অন্য কেউ, স্বামীর কাছ থেকে উপঢৌকন বা সম্মানীর শর্ত করলে স্ত্রী দাবি করলে সেটি স্ত্রী পাবে। ইমাম মালিক (র) বলেন, কন্যার মহরে পিতা নিজের জন্য কিছু শর্ত করলেও, যে শর্তে বিবাহ হয়েছে তা কন্যার হবে, যদি সে দাবি করে। আবার সহবাসের আগে তালাক হলে ওই উপঢৌকন স্বামীর উপর থাকবে না। অপ্রাপ্ত বয়স্ক পুত্র সম্পদহীন হলে তার মহর পিতার উপর, আর সম্পদ থাকলে তার সম্পদ থেকে মহর আদায় হবে—যদি পিতা নিজে দায়িত্ব না নেয়। কুমারী স্ত্রীর অর্ধেক মহর পিতা মাফ করলে স্বামীর জন্য সে পরিমাণ না দেওয়া বৈধ বলা হয়েছে। শেষে ন্যূনতম মহর হিসেবে এক-চতুর্থাংশ দীনারের কমকে বৈধ মনে না করার কথা এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিবাহে শর্তকৃত উপঢৌকন স্ত্রী দাবি করলে তার হক বলা হয়েছে।
- অপ্রাপ্ত বয়স্ক পুত্রের মহর দায়িত্ব তার সম্পদের অবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
- সহবাসের আগে তালাক হলে অর্ধেক মহর ও মাফের আলোচনা এসেছে।
- ন্যূনতম মহরের পরিমাণ সম্পর্কে ইমাম মালিক (র)-এর মত উল্লেখ হয়েছে।
