২৮/১২. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১১০ - আযাদ স্ত্রীর অনুমতি ও দাসী বিবাহ
আযাদ স্ত্রীর উপর দাসীকে বিবাহ করা
আযাদ স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দাসী বিবাহের বিধান
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১১০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১১০
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ لَا تُنْكَحُ الْأَمَةُ عَلَى الْحُرَّةِ إِلَّا أَنْ تَشَاءَ الْحُرَّةُ فَإِنْ طَاعَتْ الْحُرَّةُ فَلَهَا الثُّلُثَانِ مِنْ الْقَسْمِ ১৯৬৬-قَالَ مَالِك وَلَا يَنْبَغِي لِحُرٍّ أَنْ يَتَزَوَّجَ أَمَةً وَهُوَ يَجِدُ طَوْلًا لِحُرَّةٍ وَلَا يَتَزَوَّجَ أَمَةً إِذَا لَمْ يَجِدْ طَوْلًا لِحُرَّةٍ إِلَّا أَنْ يَخْشَى الْعَنَتَ وَذَلِكَ أَنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَالَ فِي كِتَابِهِ ﴾ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ مِنْكُمْ طَوْلًا أَنْ يَنْكِحَ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ فَمِمَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ مِنْ فَتَيَاتِكُمْ الْمُؤْمِنَاتِ ﴿ وَقَالَ ﴾ ذَلِكَ لِمَنْ خَشِيَ الْعَنَتَ مِنْكُمْ ﴿ قَالَ مَالِك وَالْعَنَتُ هُوَ الزِّنَا.
সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলতেন, আযাদ স্ত্রী থাকতে তাহার অনুমতি ব্যতীত দাসী বিবাহ করা যাবে না, আযাদ স্ত্রী অনুমতি দিলে তিনি বন্টনে দুই-তৃতীয়াংশের অধিকার লাভ করবেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (রহঃ) বলেন : কোন আযাদ ব্যক্তির উচিত নয় ক্রীত দাসীকে বিবাহ করা, যদি আযাদ মহিলাকে বিবাহ করার সামর্থ্য সে ব্যক্তির থাকে। আর সামর্থ্য না থাকলেও ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা না হলে দাসী মহিলাকে বিবাহ করবে না।ইহা এইজন্য যে, কোরআনুল করীমে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেনঃ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ مِنْكُمْ طَوْلًا أَنْ يَنْكِحَ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ فَمِمَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ مِنْ فَتَيَاتِكُمْ الْمُؤْمِنَاتِ “তোমাদের মধ্যে কারো স্বাধীনা বিশ্বাসী নারী বিবাহের সামর্থ্য না থাকলে তোমরা তোমাদের অধিকারভুক্ত বিশ্বাসী যুবতী বিবাহ করবে।” (সূরা: আন-নিসা, ২৫)আরও ইরশাদ করেছেন ذَلِكَ لِمَنْ خَشِيَ الْعَنَتَ مِنْكُمْ “তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারকে ভয় করে ইহা তাদের জন্য।” (সূরা: আন-নিসা, ২৫)মালিক (রহঃ) বলেন, ‘আনাতের অর্থ ব্যভিচার।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১১০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (র) বলেন, আযাদ স্ত্রী থাকা অবস্থায় তার অনুমতি ছাড়া দাসীকে বিবাহ করা যাবে না। যদি আযাদ স্ত্রী অনুমতি দেয়, তবে বণ্টনে সে দুই-তৃতীয়াংশ অধিকার পাবে। এরপর ইমাম মালিক (র) বলেন, কোনো আযাদ ব্যক্তির উচিত নয় দাসীকে বিবাহ করা, যদি আযাদ নারীকে বিবাহ করার সামর্থ্য থাকে। সামর্থ্য না থাকলেও ব্যভিচারে পড়ার আশংকা না থাকলে দাসীকে বিবাহ করবে না। তিনি সূরা আন-নিসার আয়াত উল্লেখ করে বলেন, এ বিধান তাদের জন্য, যারা সামর্থ্যহীন এবং ব্যভিচারের ভয় করে। এখানে মূল বিষয় হলো ‘দাসী বিবাহের শর্ত’, ‘আযাদ স্ত্রীর অনুমতি’ এবং ‘বিবাহে বণ্টনের অধিকার’। ব্যাখ্যা হাদিসের কথার বাইরে বাড়ানো হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আযাদ স্ত্রী থাকলে তার অনুমতি ছাড়া দাসী বিবাহের কথা বলা হয়নি।
- অনুমতি দিলে বণ্টনে আযাদ স্ত্রীর দুই-তৃতীয়াংশ অধিকার উল্লেখ হয়েছে।
- সামর্থ্য থাকলে আযাদ নারীকে বিবাহ করার কথা ইমাম মালিক বলেছেন।
- ব্যভিচারের আশংকা না থাকলে দাসী বিবাহে না যাওয়ার কথা এসেছে।
