২৯/১. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৪২ - আল-বাত্তা ও তিন তালাকের ফয়সালা
আল-বাত্তা [১] তালাকের বর্ণনা
[১] স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটে এমন তালাক দেয়াকে তালাক-ই-আল-বাত্তা বলা হয়।
আল-বাত্তা তালাক: তিন তালাক হিসেবে গণনার আলোচনা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৪২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১৪২
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ كَانَ يَقْضِي فِي الَّذِي يُطَلِّقُ امْرَأَتَهُ الْبَتَّةَ أَنَّهَا ثَلَاثُ تَطْلِيقَاتٍ قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَيَّ فِي ذَلِكَ.
ইবনু শিহাব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
কেউ নিজের স্ত্রীকে তালাক-ই আল-বাত্তা দিলে মারওয়ান ইবনু হাকাম (রহঃ) উহাতে তিন তালাক হয়েছে বলে ফতওয়া দিতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (রহঃ) বলেন : এই বিষয়ে যা আমি শুনেছি তন্মধ্যে এটাই আমার কাছে পছন্দীয়।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় দেখা যায়, কেউ নিজের স্ত্রীকে তালাক-ই আল-বাত্তা দিলে মারওয়ান ইবনু হাকাম এটিকে তিন তালাক হিসেবে ফয়সালা দিতেন। ইমাম মালিক (র) বলেন, এ বিষয়ে তিনি যা শুনেছেন তার মধ্যে এ মতটিই তাঁর কাছে পছন্দনীয়। এখানে আলোচ্য বিষয় হলো তালাকের এমন শব্দ, যা বিচ্ছেদকে খুব স্পষ্ট ও শেষ পর্যায়ের অর্থে ব্যবহার করা হয়। তাই আল-বাত্তা তালাক, তিন তালাক, বায়েন তালাক—এসব শব্দের অর্থ বুঝে ব্যবহার করা দরকার। এই বর্ণনা কাউকে তালাক দিতে উৎসাহ দেয় না; বরং দেখায় যে তালাকের ভাষা খুব দায়িত্বের বিষয়। এক কথায় সংসার, অধিকার ও সম্পর্কের বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তালাকের স্পষ্ট ও কঠিন শব্দ বড় আইনি ফল তৈরি করতে পারে।
- আলেমদের ফয়সালায় ব্যবহৃত শব্দের অর্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- বিবাহিত জীবনে রাগের ভাষা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
- তালাকের বিষয়ে অনুমান নয়, জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে জিজ্ঞেস করা উচিত।
