২৯/২. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৪৪ - ‘তুমি আমার জন্য হারাম’ কথার বিধান
খালিয়্যা, বারিয়্যা এবং অনুরূপ অন্যান্য কিনায়া তালাকের জন্য প্রযোজ্য শব্দসমূহের বর্ণনা
স্ত্রীকে ‘তুমি আমার জন্য হারাম’ বলা: তালাকের গুরুতর শব্দ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৪৪
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১৪৪
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ كَانَ يَقُولُ فِي الرَّجُلِ يَقُولُ لِامْرَأَتِهِ أَنْتِ عَلَيَّ حَرَامٌ إِنَّهَا ثَلَاثُ تَطْلِيقَاتٍ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ.
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁর কাছে রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে “তুমি আমার জন্য হারাম” এরূপ বলেছে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আলী ইবনু আবি তালিব (রাঃ) বলেছেন যে, উহা তিন তালাক গণ্য হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (রহঃ) বলেন : এ বিষয়ে আমি যা শুনেছি তন্মধ্যে এটাই উত্তম।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি স্ত্রীকে বলে ‘তুমি আমার জন্য হারাম’, আলী ইবনু আবি তালিব (রা) এটিকে তিন তালাক গণ্য করেছেন। ইমাম মালিক (র) বলেন, এ বিষয়ে তিনি যা শুনেছেন তার মধ্যে এটাই উত্তম। এখানে মূল বিষয় হলো কথার শক্তি। একজন স্বামী যখন স্ত্রী সম্পর্কে এমন শব্দ ব্যবহার করে, যা সম্পর্ক ছিন্ন করার অর্থ বহন করে, তখন সেটি সাধারণ রাগের বাক্য হিসেবে দেখা হয়নি। তালাকের শব্দ, হারাম বলা, বায়েন বিচ্ছেদ—এসব বিষয় মানুষের অধিকার ও সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত। তাই দাম্পত্য জীবনে এমন কথা বলার আগে ভয় ও দায়িত্ববোধ থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্ত্রীকে ‘হারাম’ বলা এই বর্ণনায় গুরুতর তালাকের শব্দ হিসেবে এসেছে।
- দাম্পত্য সম্পর্কে রাগের সময় কঠিন ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার থেকে বাঁচা দরকার।
- তালাকের বিষয়ে সাহাবিদের ফয়সালা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত।
- মুখের কথা পরিবার ও অধিকার—দুই ক্ষেত্রেই বড় ফল আনতে পারে।
