২৯/৮. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৬১ - যিহারের কাফফারা ও দাস মুক্তির বিধান
আযাদ ব্যক্তির যিহার
যিহারের কাফফারা: কথার দায় ও দাস মুক্তির শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১১৬১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১১৬১
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ أَنَّهُ سَمِعَ رَجُلًا يَسْأَلُ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ عَنْ رَجُلٍ قَالَ لِامْرَأَتِهِ كُلُّ امْرَأَةٍ أَنْكِحُهَا عَلَيْكِ مَا عِشْتِ فَهِيَ عَلَيَّ كَظَهْرِ أُمِّي فَقَالَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ يُجْزِيهِ عَنْ ذَلِكَ عِتْقُ رَقَبَةٍ.
হিশাম ইবনু উরওয়াহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি জনৈক লোককে উরওয়া ইবনু যুবায়র (রহঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করতে শুনেছেন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে নিজের স্ত্রীকে বলেছে “তুমি বেঁচে থাকা পর্যন্ত তোমার উপর যে কোন স্ত্রীলোককে আমি বিবাহ করি, সে আমার জন্য আমার জননীর পিঠের তুল্য।” উরওয়া ইবনু যুবায়র (রহঃ) বললেন : এই উক্তির জন্য একটি ক্রীতদাসকে আযাদ করলেই যথেষ্ট হবে।
(হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১১৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যিহার সম্পর্কিত একটি বিশেষ প্রশ্ন এসেছে। এক ব্যক্তি বলেছে, তার স্ত্রী জীবিত থাকা পর্যন্ত সে যে নারীকে বিবাহ করবে, সে তার জন্য মায়ের পিঠের মতো। উরওয়া ইবনু যুবায়র (র) এই কথার জবাবে বলেন, এমন উক্তির জন্য একজন ক্রীতদাস আযাদ করাই যথেষ্ট। এখানে মূল শিক্ষা হলো, দাম্পত্য সম্পর্কে মুখের কথা হালকা বিষয় নয়। যিহার জাতীয় কথা শরিয়তের দৃষ্টিতে গুরুতর, তাই এর জন্য কাফফারা রয়েছে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, রাগ, আবেগ বা অভ্যাসের বশে এমন কথা বলা ঠিক নয়, যার ফলে শরিয়তসম্মত দায়িত্ব তৈরি হয়। যিহারের কাফফারা, দাস মুক্তি, স্ত্রী সম্পর্কিত শপথ এবং বিবাহের দায়িত্ব—এসব বিষয় এই বর্ণনায় সরাসরি এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাম্পত্য জীবনে এমন কথা বলা থেকে বাঁচতে হবে, যা যিহারের অর্থ বহন করে।
- যিহার জাতীয় কথার জন্য শরিয়তে কাফফারার বিধান রয়েছে।
- এই বর্ণনায় কাফফারা হিসেবে একজন ক্রীতদাস আযাদ করাকে যথেষ্ট বলা হয়েছে।
- মুখের কথা দায়িত্ব তৈরি করতে পারে, তাই বিবাহিত জীবনে কথা বলার সময় সাবধানতা দরকার।
