৩১/৯. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২৭৯ - আরিয়্যার পরিমাণ ও খরস
আরিয়্যা [১] বিক্রয়
[১] বাগানের মালিক কয়েকটি খেজুর বা অন্য ফলের বৃক্ষ কাউকেও দান করলেন। দানগ্রহীতা গাছ দেখাশোনার জন্য বাগানে যাতায়াত করে থাকেন, এতে বাগানের মালিকের অসুবিধা হলে তিনি শুষ্ক ফলের বিনিময়ে দানগ্রহীতা হতে সেই বৃক্ষগুলোর ফল নিজের কর্তৃত্বে এনে পূর্ণ বাগানের কর্তৃত্ব নিজে গ্রহণ করেন। একে আরিয়্যাঃ এর বিক্রয় বলা হয়।
আরিয়্যা ও পাঁচ ওয়াসক: খরসের ভিত্তিতে বিক্রয়ের বিধান
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১২৭৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১২৭৯
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ مَوْلَى ابْنِ أَبِي أَحْمَدَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْخَصَ فِي بَيْعِ الْعَرَايَا بِخَرْصِهَا فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ أَوْ فِي خَمْسَةِ أَوْسُقٍ يَشُكُّ دَاوُدُ قَالَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ أَوْ دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ ২২৯৮-قَالَ مَالِك وَإِنَّمَا تُبَاعُ الْعَرَايَا بِخَرْصِهَا مِنْ التَّمْرِ يُتَحَرَّى ذَلِكَ وَيُخْرَصُ فِي رُءُوسِ النَّخْلِ وَإِنَّمَا أُرْخِصَ فِيهِ لِأَنَّهُ أُنْزِلَ بِمَنْزِلَةِ التَّوْلِيَةِ وَالْإِقَالَةِ وَالشِّرْكِ وَلَوْ كَانَ بِمَنْزِلَةِ غَيْرِهِ مِنْ الْبُيُوعِ مَا أَشْرَكَ أَحَدٌ أَحَدًا فِي طَعَامِهِ حَتَّى يَسْتَوْفِيَهُ وَلَا أَقَالَهُ مِنْهُ وَلَا وَلَّاهُ أَحَدًا حَتَّى يَقْبِضَهُ الْمُبْتَاعُ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আরিয়্যা স্বরূপ দেয়া হয়েছে এরূপ বৃক্ষের খেজুর অনুমান করে বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন পাঁচ ওয়াসকের [১] কম কিংবা (পূর্ণ) পাঁচ ওয়াসকের মধ্যে। দাউদ (রাবী) সন্দেহ প্রকাশ করেছেন; (তাঁর শায়খ আবূ সূফিয়ান) পাঁচ ওয়াসক বলেছেন না পাঁচ ওয়াসকের কম বলেছেন। (বুখারী ২১৯০, মুসলিম ২৫৪৯)মালিক (রহঃ) বলেনঃ আরিয়্যা পন্থায় প্রদত্ত বৃক্ষসমূহের ফল খেজুরের বিনিময়ে আন্দাজ করে বিক্রয় করা যায়। চিন্তা-ভাবনা করে উহার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে এবং গাছে থাকতে উহার আন্দাজ করা হবে। উহার জন্য ওজন করার প্রয়োজন নাই। এইরূপ করার অনুমতি এই জন্য দেয়া হয়েছে যে, ইহা খরিদ দামে বিক্রয়, খরিদ বাতিলকরণ এবং খরিদকৃত বস্তুতে অন্যকে শরীক নেওয়ার মতো। এটা যদি অন্যান্য বিক্রয়ের মতো হতো তবে খাদ্যদ্রব্যে অধিকার প্রাপ্ত হওয়ার পূর্বে কাউকেও শরীক করা জায়েয হত না এবং অধিকার প্রাপ্ত হওয়ার পূর্বে খরিদ বাতিলকরণও জায়েয হত না এবং অধিকারে আসার পূর্বে খরিদমূল্যে ক্রয় করাও জায়েয হত না।
[১] ষাট সা’তে এক ওয়াসক হয়।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১২৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আরিয়্যার বিক্রয় আরও বিস্তারিতভাবে এসেছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরিয়্যা হিসেবে দেওয়া গাছের খেজুর অনুমান করে বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন—পাঁচ ওয়াসকের কম বা পাঁচ ওয়াসকের মধ্যে। রাবী দাউদ এখানে পাঁচ ওয়াসক না পাঁচ ওয়াসকের কম—এ বিষয়ে সন্দেহের কথা উল্লেখ করেছেন। ইমাম মালিক (রহঃ) ব্যাখ্যা করেন, আরিয়্যা পদ্ধতিতে গাছে থাকা ফল খেজুরের বিনিময়ে আন্দাজ করে বিক্রি করা যায়। ওজন না করে গাছেই তার পরিমাণ অনুমান করা হবে। তিনি বলেন, এই অনুমতি বিশেষ ধরনের লেনদেনের মতো, সাধারণ বিক্রয়ের মতো নয়। তাই মূল শিক্ষা হলো, আরিয়্যা বিক্রয় একটি নির্দিষ্ট ছাড়, যা নির্দিষ্ট সীমা ও প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আরিয়্যা বিক্রয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণের সীমা উল্লেখ হয়েছে।
- গাছে থাকা ফলের পরিমাণ আন্দাজ করে নির্ধারণ করা যেতে পারে।
- এই অনুমতি সাধারণ সব বিক্রয়ের নিয়ম নয়।
