৩১/৩২. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৩৯ - নগদ কিনে ধারে ফেরত বিক্রির কৌশল
এক বিক্রয়ে দুই বিক্রয় ঢুকান নিষিদ্ধ
নগদ কিনে ধারে বিক্রির কৌশল সম্পর্কে ইবনু উমার (রাঃ)-এর সতর্কতা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩৩৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩৩৯
و حَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِرَجُلٍ ابْتَعْ لِي هَذَا الْبَعِيرَ بِنَقْدٍ حَتَّى أَبْتَاعَهُ مِنْكَ إِلَى أَجَلٍ فَسُئِلَ عَنْ ذَلِكَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ فَكَرِهَهُ وَنَهَى عَنْهُ.
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে বলল, “তুমি এই উটটি ক্রয় কর নগদ মূল্যে আমার উদ্দেশ্যে, আমি উহাকে তোমা হতে বাকী ক্রয় করব [অধিক মূল্যে] ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমর (রাঃ)-কে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হল। তিনি উহাকে মাকরূহ বললেন এবং এইরূপ করতে বারণ করলেন।
(হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৩৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় একজন ব্যক্তি আরেকজনকে বলল, তুমি আমার জন্য এই উটটি নগদে কিনে নাও, পরে আমি তোমার কাছ থেকে তা ধারে কিনব। এই ব্যাপারে আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি এটাকে মাকরূহ বলেন এবং এমন কাজ থেকে নিষেধ করেন। এখানে মূল বিষয় হলো এমন বেচাকেনা, যেখানে নগদ ক্রয় ও ধারে বিক্রি এক ধরনের কৌশল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এতে আসল উদ্দেশ্য সৎ বিক্রয় না হয়ে অতিরিক্ত দায় বা লাভের ব্যবস্থা হতে পারে। বর্ণনাটি আমাদের শেখায়, বেচাকেনার বাহ্যিক রূপ ঠিক দেখালেও ভেতরের শর্ত ও উদ্দেশ্য যদি সন্দেহজনক হয়, তাহলে সতর্ক হওয়া দরকার। ইসলামী মুআমালায় লেনদেন পরিষ্কার ও সোজাসাপটা হওয়া জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নগদে কিনে ধারে ফেরত বিক্রির কৌশল থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
- লেনদেনের বাহ্যিক রূপ নয়, শর্ত ও ফলও বিবেচ্য।
- মাকরূহ লেনদেন থেকে দূরে থাকা নিরাপদ।
- চুক্তিতে কৃত্রিম লাভ বা দায় তৈরির পথ এড়ানো উচিত।
