৩১/৩৯. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৫০ - সক্ষম ব্যক্তির তালবাহানা
ঋণ এবং হাওল বা হাওয়ালা [১] -এর বিধান
[১] একজনের ঋণ পরিশোধের দায়-দায়িত্ব জিম্মায় ঋণ রয়েছে তাকে ব্যতীত অন্য ব্যক্তির হাওয়ালা বা সোপর্দ করা। -আওজায
সক্ষম ব্যক্তির ঋণ আদায়ে দেরি: হাওয়ালার সহজ শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩৫০
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩৫০
حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَطْلُ الْغَنِيِّ ظُلْمٌ وَإِذَا أُتْبِعَ أَحَدُكُمْ عَلَى مَلِيءٍ فَلْيَتْبَعْ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন (হক আদায় করতে) সক্ষম ব্যক্তির তালবাহানা অন্যায় বটে, আর তোমাদের কাউকেও যদি ধনবান ব্যক্তির হাওয়ালা করা হয় তবে সেই হাওয়ালা গ্রহণ করিও। [১]
[১] হক ও ঋণ ইত্যাদির ব্যাপারে হাওয়ালা করা হলে উহা কবূল করা মুস্তাহাব। -আওজায (বুখারী ২২৮৭, মুসলিম ১৫৬৪)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৫০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সক্ষম ব্যক্তির তালবাহানা অন্যায়। অর্থাৎ কারও কাছে পাওনা আছে এবং সে দিতে সক্ষম, তবুও দেরি করে, অজুহাত করে বা পাওনাদারকে ঘুরায়—এটি অন্যায় আচরণ। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, যদি তোমাদের কাউকে ধনবান ব্যক্তির দিকে হাওয়ালা করা হয়, তবে সে হাওয়ালা গ্রহণ করবে। এর অর্থ, পাওনা আদায়ের একটি গ্রহণযোগ্য পথ হলো দায়িত্ব এমন ব্যক্তির দিকে স্থানান্তর করা, যে আদায় করতে সক্ষম। এই শিক্ষা ঋণ, পাওনা এবং ব্যবসায়িক লেনদেনে দায়িত্বশীলতার কথা বলে। নিজের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পাওনা আটকে রাখা মানুষের অধিকার নষ্ট করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সক্ষম হয়েও ঋণ বা পাওনা আদায়ে দেরি করা অন্যায়।
- হাওয়ালা গ্রহণযোগ্য হতে পারে যখন যার উপর হাওয়ালা করা হয় সে সচ্ছল।
- পাওনাদারের অধিকার সময়মতো আদায় করা নৈতিক দায়িত্ব।
- লেনদেনে অজুহাত ও তালবাহানা অন্যের ক্ষতির কারণ হয়।
