৩২/৩. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৭১ - ঋণকে মুযারাবা বানানো ও সুদের আশঙ্কা
অবৈধ মুযারাবা
ঋণ থেকে মুযারাবা: সুদের আশঙ্কা থেকে সতর্কতা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩৭১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩৭১
قَالَ مَالِك إِذَا كَانَ لِرَجُلٍ عَلَى رَجُلٍ دَيْنٌ فَسَأَلَهُ أَنْ يُقِرَّهُ عِنْدَهُ قِرَاضًا إِنَّ ذَلِكَ يُكْرَهُ حَتَّى يَقْبِضَ مَالَهُ ثُمَّ يُقَارِضُهُ بَعْدُ أَوْ يُمْسِكُ وَإِنَّمَا ذَلِكَ مَخَافَةَ أَنْ يَكُونَ أَعْسَرَ بِمَالِهِ فَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يُؤَخِّرَ ذَلِكَ عَلَى أَنْ يَزِيدَهُ فِيْهِ ২৫৪৩-قَالَ مَالِك فِي رَجُلٍ دَفَعَ إِلَى رَجُلٍ مَالًا قِرَاضًا فَهَلَكَ بَعْضُهُ قَبْلَ أَنْ يَعْمَلَ فِيهِ ثُمَّ عَمِلَ فِيهِ فَرَبِحَ فَأَرَادَ أَنْ يَجْعَلَ رَأْسَ الْمَالِ بَقِيَّةَ الْمَالِ بَعْدَ الَّذِي هَلَكَ مِنْهُ قَبْلَ أَنْ يَعْمَلَ فِيهِ قَالَ مَالِك لَا يُقْبَلُ قَوْلُهُ وَيُجْبَرُ رَأْسُ الْمَالِ مِنْ رِبْحِهِ ثُمَّ يَقْتَسِمَانِ مَا بَقِيَ بَعْدَ رَأْسِ الْمَالِ عَلَى شَرْطِهِمَا مِنْ الْقِرَاضِ.قَالَ مَالِك لَا يَصْلُحُ الْقِرَاضُ إِلَّا فِي الْعَيْنِ مِنْ الذَّهَبِ أَوْ الْوَرِقِ وَلَا يَكُونُ فِي شَيْءٍ مِنْ الْعُرُوضِ وَالسِّلَعِ وَمِنْ الْبُيُوعِ مَا يَجُوزُ إِذَا تَفَاوَتَ أَمْرُهُ وَتَفَاحَشَ رَدُّهُ فَأَمَّا الرِّبَا فَإِنَّهُ لَا يَكُونُ فِيهِ إِلَّا الرَّدُّ أَبَدًا وَلَا يَجُوزُ مِنْهُ قَلِيلٌ وَلَا كَثِيرٌ وَلَا يَجُوزُ فِيهِ مَا يَجُوزُ فِي غَيْرِهِ لِأَنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَالَ فِي كِتَابِهِ ﴾ وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ ﴿.
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
যদি কেউ কারো নিকট করযের টাকা পাওনা থাকে আর যার নিকট টাকা পাওনা রয়েছে সে বলল, তোমার যে টাকা আমার নিকট রয়েছে, তা আমার নিকট শরীকী কারবারে থাকতে দাও ইহা অবৈধ বরং প্রথমে টাকা উসুল করে নেয়া উচিত, পরে তার ইচ্ছা হলে শরীকী কারবারে ঐ টাকা দিতেও পারে, নাও দিতে পারে। কেননা টাকা উসুল করার পূর্বে উহাকে শরীকী কারবারে দিলে উহাতে সুদ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যেমন দাতা তাকে সময় দেয়ার পরিবর্তে ঋণ বাড়িয়ে দিল।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কেউ কাউকেও শরীকী কারবারের জন্য টাকা দেয় এবং ব্যবসা আরম্ভ করবার পূর্বেই কিছু টাকা নষ্ট হয়ে যায়, অতঃপর বাকি টাকা দ্বারা ব্যবসা করে ঐ অবশিষ্ট টাকাকেই মূলধন ধরে লভ্যাংশের আধা-আধি ভাগ করে নেয়, তবে ইহা অবৈধ বরং প্রথমে সম্পূর্ণ মূলধন তার পরিশোধ করতে হবে, পরে যদি কিছু টাকা অবশিষ্ট থাকে উহাকে মুনাফা ধরে ভাগ করে নিবে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ শরীকী কারবার স্বর্ণ, রৌপ্য ইত্যাদিতে জায়েয, অন্য আসবাব বৈধ নয়, কিন্তু যদি কারবারে বা ক্রয়-বিক্রয়ে কিছু অসুবিধা দেখা দেয় যা শোধরান কষ্টকর হয়, তবে বৈধ হবে, কিন্তু সুদ এর ব্যতিক্রম, কেননা উহার কম-বেশি সবই হারাম, কোন প্রকারেই জায়েয নয় আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেনঃ অর্থাৎ যদি তোমরা সুদের কারবার হতে তওবা কর, তবে তোমাদের জন্য মূলধন রয়েছে। না তোমরা কারো উপর জুলুম করবে, আর না কেউ তোমাদের উপর জুলুম করবে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৭১-এর সারসংক্ষেপ
এই অংশে বলা হয়েছে, কারও কাছে যদি করযের টাকা পাওনা থাকে, আর দেনাদার বলে যে, সেই টাকা তার কাছেই শরীকী কারবারে থাকুক—এটি অপছন্দনীয় বা অবৈধ ধরনের লেনদেন। আগে টাকা উশুল করতে হবে; এরপর ইচ্ছা হলে নতুন করে মুযারাবা চুক্তি করা যেতে পারে। কারণ টাকা হাতে নেওয়ার আগে সেটিকে ব্যবসার পুঁজি বানালে সুদের আশঙ্কা থাকে, যেমন সময় দেওয়ার বিনিময়ে ঋণ বাড়িয়ে দেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হতে পারে। আরও বলা হয়েছে, ব্যবসা শুরুর আগে মূলধনের কিছু নষ্ট হলে লাভের আগে মূলধন পূরণ করতে হবে। এই বর্ণনায় সুদের বিষয়ে কঠোর সতর্কতা আছে: সুদে কম-বেশি কোনো ছাড় নেই, মূলধনই প্রকৃত অধিকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পাওনা টাকা আগে উশুল না করে মুযারাবা করা ঝুঁকিপূর্ণ।
- সময়ের বিনিময়ে ঋণ বাড়ানো সুদের আশঙ্কা তৈরি করে।
- মুনাফা ভাগের আগে মূলধন পূরণ করা দরকার।
- সুদের লেনদেনে কম-বেশির ছাড় নেই।
