৩২/৬. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৭৪ - পণ্য দিয়ে মুযারাবার ঝুঁকি
পণ্যদ্রব্য ইত্যাদিতে শরীকী কারবার
পণ্যসামগ্রী দিয়ে মুযারাবা কেন ঝুঁকিপূর্ণ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩৭৪
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩৭৪
قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك لَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يُقَارِضَ أَحَدًا إِلَّا فِي الْعَيْنِ لِأَنَّهُ لَا تَنْبَغِي الْمُقَارَضَةُ فِي الْعُرُوضِ لِأَنَّ الْمُقَارَضَةَ فِي الْعُرُوضِ إِنَّمَا تَكُونُ عَلَى أَحَدِ وَجْهَيْنِ إِمَّا أَنْ يَقُولَ لَهُ صَاحِبُ الْعَرْضِ خُذْ هَذَا الْعَرْضَ فَبِعْهُ فَمَا خَرَجَ مِنْ ثَمَنِهِ فَاشْتَرِ بِهِ وَبِعْ عَلَى وَجْهِ الْقِرَاضِ فَقَدْ اشْتَرَطَ صَاحِبُ الْمَالِ فَضْلًا لِنَفْسِهِ مِنْ بَيْعِ سِلْعَتِهِ وَمَا يَكْفِيهِ مِنْ مَئُونَتِهَا أَوْ يَقُولَ اشْتَرِ بِهَذِهِ السِّلْعَةِ وَبِعْ فَإِذَا فَرَغْتَ فَابْتَعْ لِي مِثْلَ عَرْضِي الَّذِي دَفَعْتُ إِلَيْكَ فَإِنْ فَضَلَ شَيْءٌ فَهُوَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ وَلَعَلَّ صَاحِبَ الْعَرْضِ أَنْ يَدْفَعَهُ إِلَى الْعَامِلِ فِي زَمَنٍ هُوَ فِيهِ نَافِقٌ كَثِيرُ الثَّمَنِ ثُمَّ يَرُدَّهُ الْعَامِلُ حِينَ يَرُدُّهُ وَقَدْ رَخُصَ فَيَشْتَرِيَهُ بِثُلُثِ ثَمَنِهِ أَوْ أَقَلَّ مِنْ ذَلِكَ فَيَكُونُ الْعَامِلُ قَدْ رَبِحَ نِصْفَ مَا نَقَصَ مِنْ ثَمَنِ الْعَرْضِ فِي حِصَّتِهِ مِنْ الرِّبْحِ أَوْ يَأْخُذَ الْعَرْضَ فِي زَمَانٍ ثَمَنُهُ فِيهِ قَلِيلٌ فَيَعْمَلُ فِيهِ حَتَّى يَكْثُرَ الْمَالُ فِي يَدَيْهِ ثُمَّ يَغْلُو ذَلِكَ الْعَرْضُ وَيَرْتَفِعُ ثَمَنُهُ حِينَ يَرُدُّهُ فَيَشْتَرِيهِ بِكُلِّ مَا فِي يَدَيْهِ فَيَذْهَبُ عَمَلُهُ وَعِلَاجُهُ بَاطِلًا فَهَذَا غَرَرٌ لَا يَصْلُحُفَإِنْ جُهِلَ ذَلِكَ حَتَّى يَمْضِيَ نُظِرَ إِلَى قَدْرِ أَجْرِ الَّذِي دُفِعَ إِلَيْهِ الْقِرَاضُ فِي بَيْعِهِ إِيَّاهُ وَعِلَاجِهِ فَيُعْطَاهُ ثُمَّ يَكُونُ الْمَالُ قِرَاضًا مِنْ يَوْمَ نَضَّ الْمَالُ وَاجْتَمَعَ عَيْنًا وَيُرَدُّ إِلَى قِرَاضٍ مِثْلِهِ.
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
শরীকী কারবার শুধু সোনা চাঁদিতে হবে, পণ্যদ্রব্যে হবে না, কেননা পণ্য সামগ্রীতে শরীকী কারবার দুই প্রকারে হতে পারে; প্রথমত পুঁজি বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ীকে পণ্য সামগ্রী দিয়ে বলবে, ইহা বিক্রয় করে ঐ টাকা দিয়ে কারবার কর- ইহা বৈধ নয়। কেননা এতে অর্থ বিনিয়োগকারীর এক বিশেষ উপকার এই রয়েছে যে, তার মাল নির্বিঘ্নে বিক্রয় হয়ে গেল; দ্বিতীয়ত, অর্থ বিনিয়োগকারী পণ্যসামগ্রী দিয়ে বলে দিল এর বিনিময়ে অন্য সামগ্রী ক্রয় করে নাও এবং ব্যবসা করতে থাক, যখন লেনদেন শেষ করতে ইচ্ছা কর তখন এই সামগ্রী আমাকে বাজার হতে খরিদ করে দিও। আর যা অতিরিক্ত থাকে তা আমরা ভাগ করে নিব, তবে এটাও অবৈধ হবে।কেননা এতে ধোঁকার আশঙ্কা রয়েছে, হয়তো তখন এই মাল অধিক মূল্যে ক্রয় করতে হবে। আর সামগ্রী দেওয়ার সময় যে দাম ছিল সেই দাম হতে যদি এখন সস্তা হয়ে গিয়ে থাকে, তবে ব্যবসায়ীর সামগ্রীর মূল্যের হ্রাস অনুসারে লাভ করে যাবে বা আসল ও লাভ সমস্তই তা খরিদ করতে ব্যয় হয়ে যাবে, আর ব্যবসায়ীর মেহনত বৃথা যাবে।তবুও যদি কেউ এইরূপ লেনদেন করেই ফেলে তবে ব্যবসায়ীকে প্রথমে সামগ্রী বিক্রয়ের নিয়ম মতো পারিশ্রমিক দিতে হবে। আর যে দিন হতে মূলধন নগদ টাকা হল সেদিন হতে শরীকী কারবার শুরু হবে। অতঃপর কারবার শেষ হওয়ার সময় এই পরিমাণ মূলধনই ধরা হবে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, মুযারাবা মূলত নগদ সোনা-চাঁদির মতো মূলধনে হবে, পণ্যদ্রব্যে নয়। কারণ পণ্য দিয়ে মুযারাবা করলে দুটি সমস্যা হতে পারে। কেউ যদি পণ্য দিয়ে বলে, এটা বিক্রি করে টাকা দিয়ে ব্যবসা করো, তাহলে পুঁজি বিনিয়োগকারী নিজের পণ্য বিক্রির সুবিধা পেয়ে যায়। আবার কেউ পণ্য দিয়ে বলে, শেষে এমন পণ্য কিনে আমাকে ফেরত দেবে—তখন বাজারদামের ওঠানামায় ধোঁকার আশঙ্কা তৈরি হয়। দাম কমলে এক পক্ষ লাভবান হতে পারে, দাম বাড়লে শ্রমিকের পরিশ্রম নষ্ট হতে পারে। তাই মালিক রাহিমাহুল্লাহ এটিকে গরর বা অনিশ্চয়তার কারণ বলেছেন। যদি এমন লেনদেন হয়ে যায়, তাহলে আগে শ্রমিকের বিক্রয় ও পরিশ্রমের পারিশ্রমিক দেখা হবে, তারপর নগদ মূলধন তৈরি হওয়ার দিন থেকে মুযারাবা ধরা হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পণ্য দিয়ে মুযারাবা করলে মূল্য ওঠানামার ঝুঁকি থাকে।
- মুযারাবার মূলধন পরিষ্কার ও নগদ হওয়া নিরাপদ।
- ধোঁকা বা অনিশ্চয়তা তৈরি করে এমন শর্ত এড়ানো উচিত।
- ভুল লেনদেন হলে শ্রমের পারিশ্রমিক ন্যায্যভাবে দেখা দরকার।
