৩৩/১. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৮৪ - খায়বারের ফল বণ্টন ও মুসাকাত
ফলের বাগানে শরীকানার বর্ণনা [১]
[১] যদি কোন ব্যক্তি স্বীয় বাগানের রক্ষণাবেক্ষণ করার দায়িত্ব কারো প্রতি সোপর্দ করে দেয় এবং বিনিময়ে ফলের একাংশ তাকে দিয়ে দেয় একে ‘মুসাকাত’ বলা হয়। প্রায় সকল ইমামই একে জায়েয বলেন। কিন্তু ইমাম আবূ হানীফা (র) একে নাজায়েয (অবৈধ) বলেন।
খায়বারের মুসাকাত: ফল বণ্টনে ন্যায় ও স্পষ্ট চুক্তি
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৩৮৪
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩৮৪
حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِيَهُودِ خَيْبَرَ يَوْمَ افْتَتَحَ خَيْبَرَ أُقِرُّكُمْ فِيهَا مَا أَقَرَّكُمْ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى أَنَّ الثَّمَرَ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ قَالَ فَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَبْعَثُ عَبْدَ اللهِ بْنَ رَوَاحَةَ فَيَخْرُصُ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُمْ ثُمَّ يَقُولُ إِنْ شِئْتُمْ فَلَكُمْ وَإِنْ شِئْتُمْ فَلِيَ فَكَانُوا يَأْخُذُوْنَهُ.
সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
খায়বরের ইহুদীদের নিকট হতে যেদিন খায়বর বিজিত হল, সেদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আল্লাহ্ তা’আলা যতদিন তোমাদেরকে বহাল রাখেন ততদিনই আমি তোমাদেরকে উহাতে বহাল রাখব এই শর্তে যে, তাতে যে ফল উৎপন্ন হবে তা তোমাদের ও আমাদের উভয়ের মধ্যে বণ্টিত হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবদুল্লাহ্ ইব্নু রাওয়াহা (রাঃ)-কে বাগানে কি পরিমাণ ফল হয়েছে উহা নিরূপণ করার জন্য পাঠাতেন। তিনি তা নিরূপণ করে ইহুদীদেরকে বলতেন, (আমার মনে হয় পাঁচশত মণ ফল হবে) তোমরা ইচ্ছা করলে তোমাদের নিকট রাখতে পার (অর্ধেক আমাদেরকে দিয়ে দাও) অথবা এটা আমাদের নিকট থাকতে দাও (পাকলে আমরা তোমাদেরকে অর্ধেক দিয়ে দিব)। ইহুদীরা নিজেরাই ফল রেখে দিত। [১]
[১] আর ফল পাকলে মুসলমানদেরকে অর্ধেক দিয়ে দিত। ইহা দ্বারা মুসাকাত প্রথার বৈধতা বোঝা যায়। কেননা খায়বর বিজিত হওয়ায় উহা মুসলমানদের অধিকার এসে গিয়েছিল। তাঁরা নিজেদের পক্ষ হতে ইহুদীদেরকে ঠিক করল যে, তারা দেখাশোনা করবে, আরও পানি দেবে এবং অর্ধেক ফল নিজেরা নিবে আর অর্ধেক তাঁদেরকে দেবে।(হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খায়বার বিজয়ের পর ফল উৎপাদন ভাগাভাগির একটি ঘটনা এসেছে। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের লোকদের সেখানে থাকতে দেন এই শর্তে যে, উৎপন্ন ফল মুসলিমদের ও তাদের মধ্যে ভাগ হবে। এরপর আবদুল্লাহ ইব্নু রাওয়াহা (রা)-কে ফলের পরিমাণ নিরূপণ করতে পাঠানো হতো। তিনি অনুমান করে দুই পক্ষকে বিকল্প দিতেন—তোমরা রাখতে পারো, অথবা আমাদের কাছে থাকতে দাও। তারা নিজেরাই ফল রেখে দিত। এতে মুসাকাত, ফল বণ্টন, অনুমানভিত্তিক হিসাব এবং পক্ষগুলোর সম্মতির গুরুত্ব বোঝা যায়। চুক্তি স্পষ্ট হলে বিরোধ কমে এবং অধিকার রক্ষা সহজ হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফল বণ্টনের চুক্তি শুরুতেই স্পষ্ট হওয়া দরকার।
- ফসলের হিসাব নিরূপণে দায়িত্বশীল লোক নিয়োগ করা যায়।
- দুই পক্ষের সম্মতি ন্যায্য লেনদেনের বড় ভিত্তি।
