৩৫/২. অধ্যায়ঃ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৯৫ - সীমা নির্ধারণের পর শুফ‘আ নেই

যে সকল জিনিসের মধ্যে শুফ‘আ চলে না

শুফ‘আর সীমা: কখন অধিকার থাকে, কখন থাকে না

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৩৯৫

قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَارَةَ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ قَالَ إِذَا وَقَعَتْ الْحُدُودُ فِي الْأَرْضِ فَلَا شُفْعَةَ فِيهَا وَلَا شُفْعَةَ فِي بِئْرٍ وَلَا فِي فَحْلِ النَّخْلِ قَالَ مَالِك وَعَلَى هَذَا الْأَمْرُ عِنْدَنَاقَالَ مَالِك وَلَا شُفْعَةَ فِي طَرِيقٍ صَلُحَ الْقَسْمُ فِيهَا أَوْ لَمْ يَصْلُحْقَالَ مَالِك وَالْأَمْرُ عِنْدَنَا أَنَّهُ لَا شُفْعَةَ فِي عَرْصَةِ دَارٍ صَلُحَ الْقَسْمُ فِيهَا أَوْ لَمْ يَصْلُحْقَالَ مَالِك فِي رَجُلٍ اشْتَرَى شِقْصًا مِنْ أَرْضٍ مُشْتَرَكَةٍ عَلَى أَنَّهُ فِيهَا بِالْخِيَارِ فَأَرَادَ شُرَكَاءُ الْبَائِعِ أَنْ يَأْخُذُوا مَا بَاعَ شَرِيكُهُمْ بِالشُّفْعَةِ قَبْلَ أَنْ يَخْتَارَ الْمُشْتَرِي إِنَّ ذَلِكَ لَا يَكُونُ لَهُمْ حَتَّى يَأْخُذَ الْمُشْتَرِي وَيَثْبُتَ لَهُ الْبَيْعُ فَإِذَا وَجَبَ لَهُ الْبَيْعُ فَلَهُمْ الشُّفْعَةُو قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يَشْتَرِي أَرْضًا فَتَمْكُثُ فِي يَدَيْهِ حِينًا ثُمَّ يَأْتِي رَجُلٌ فَيُدْرِكُ فِيهَا حَقًّا بِمِيرَاثٍ إِنَّ لَهُ الشُّفْعَةَ إِنْ ثَبَتَ حَقُّهُ وَإِنَّ مَا أَغَلَّتْ الْأَرْضُ مِنْ غَلَّةٍ فَهِيَ لِلْمُشْتَرِي الْأَوَّلِ إِلَى يَوْمِ يَثْبُتُ حَقُّ الْآخَرِ لِأَنَّهُ قَدْ كَانَ ضَمِنَهَا لَوْ هَلَكَ مَا كَانَ فِيهَا مِنْ غِرَاسٍ أَوْ ذَهَبَ بِهِ سَيْلٌقَالَ فَإِنْ طَالَ الزَّمَانُ أَوْ هَلَكَ الشُّهُودُ أَوْ مَاتَ الْبَائِعُ أَوْ الْمُشْتَرِي أَوْ هُمَا حَيَّانِ فَنُسِيَ أَصْلُ الْبَيْعِ وَالِاشْتِرَاءِ لِطُولِ الزَّمَانِ فَإِنَّ الشُّفْعَةَ تَنْقَطِعُ وَيَأْخُذُ حَقَّهُ الَّذِي ثَبَتَ لَهُ وَإِنْ كَانَ أَمْرُهُ عَلَى غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ فِي حَدَاثَةِ الْعَهْدِ وَقُرْبِهِ وَأَنَّهُ يَرَى أَنَّ الْبَائِعَ غَيَّبَ الثَّمَنَ وَأَخْفَاهُ لِيَقْطَعَ بِذَلِكَ حَقَّ صَاحِبِ الشُّفْعَةِ قُوِّمَتْ الْأَرْضُ عَلَى قَدْرِ مَا يُرَى أَنَّهُ ثَمَنُهَا فَيَصِيرُ ثَمَنُهَا إِلَى ذَلِكَ ثُمَّ يُنْظَرُ إِلَى مَا زَادَ فِي الْأَرْضِ مِنْ بِنَاءٍ أَوْ غِرَاسٍ أَوْ عِمَارَةٍ فَيَكُونُ عَلَى مَا يَكُونُ عَلَيْهِ مَنْ ابْتَاعَ الْأَرْضَ بِثَمَنٍ مَعْلُومٍ ثُمَّ بَنَى فِيهَا وَغَرَسَ ثُمَّ أَخَذَهَا صَاحِبُ الشُّفْعَةِ بَعْدَ ذَلِكَقَالَ مَالِك وَالشُّفْعَةُ ثَابِتَةٌ فِي مَالِ الْمَيِّتِ كَمَا هِيَ فِي مَالِ الْحَيِّ فَإِنْ خَشِيَ أَهْلُ الْمَيِّتِ أَنْ يَنْكَسِرَ مَالُ الْمَيِّتِ قَسَمُوهُ ثُمَّ بَاعُوهُ فَلَيْسَ عَلَيْهِمْ فِيهِ شُفْعَةٌقَالَ مَالِك وَلَا شُفْعَةَ عِنْدَنَا فِي عَبْدٍ وَلَا وَلِيدَةٍ وَلَا بَعِيرٍ وَلَا بَقَرَةٍ وَلَا شَاةٍ وَلَا فِي شَيْءٍ مِنْ الْحَيَوَانِ وَلَا فِي ثَوْبٍ وَلَا فِي بِئْرٍ لَيْسَ لَهَا بَيَاضٌ إِنَّمَا الشُّفْعَةُ فِيمَا يَصْلُحُ أَنَّهُ يَنْقَسِمُ وَتَقَعُ فِيهِ الْحُدُودُ مِنْ الْأَرْضِ فَأَمَّا مَا لَا يَصْلُحُ فِيهِ الْقَسْمُ فَلَا شُفْعَةَ فِيهِقَالَ مَالِك وَمَنْ اشْتَرَى أَرْضًا فِيهَا شُفْعَةٌ لِنَاسٍ حُضُورٍ فَلْيَرْفَعْهُمْ إِلَى السُّلْطَانِ فَإِمَّا أَنْ يَسْتَحِقُّوا وَإِمَّا أَنْ يُسَلِّمَ لَهُ السُّلْطَانُ فَإِنْ تَرَكَهُمْ فَلَمْ يَرْفَعْ أَمْرَهُمْ إِلَى السُّلْطَانِ وَقَدْ عَلِمُوا بِاشْتِرَائِهِ فَتَرَكُوا ذَلِكَ حَتَّى طَالَ زَمَانُهُ ثُمَّ جَاءُوا يَطْلُبُونَ شُفْعَتَهُمْ فَلَا أَرَى ذَلِكَ لَهُمْ

উসমান ইব্নু আফ্ফান (রা) হতে বর্ণিতঃ

জমির সীমানা নির্ধারিত হয়ে গেলে তখন আর উহাতে শুফ‘আ চলে না এবং কূপের মধ্যেও শুফ‘আ চলে না, আর চলবে না নর খেজুর গাছেও। মালিক (র) বলেন যে, আমাদের নিকট এই হুকুমই গ্রহণযোগ্য। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (র) বলেন পথের মধ্যে শুফ‘আ চলবে না, তা বন্টনের যোগ্য হোক অথবা বন্টনের যোগ্য নাই হোক। মালিক (র) বলেন আমাদের কাছে ঘরের বারান্দায়ও শুফ‘আ চলবে না, তা বন্টনের উপযোগী হোক বা না হোক।মালিক (র) বলেন, যদি কেউ অনেকে মালিক এমন কোন জমির কোন অংশ খেয়ারের শর্তে খরিদ করে এবং বিক্রেতার শরীকদারগণ ইচ্ছা করল যে, তাদের শরীকদার যা বিক্রয় করেছে তা শুফ‘আর মাধ্যমে নিয়ে নিবে, খরিদ্দারের ইখতিয়ার পূর্ণ হবার পূর্বে এইরূপ ক্ষেত্রে তাদের জন্য শুফ‘আ জায়েয হবে না। যতক্ষণ খরিদ্দারের খরিদ পাকাপোক্ত না হয়, অতঃপর যদি তার খরিদ পাকাপোক্ত হয় তবেই তাদের জন্য শুফ‘আ জায়েয হবে।মালিক (র) বলেন যদি এক ব্যক্তি একটি জমি খরিদ করে অনেক দিন পর্যন্ত নিজ দখলে রাখে। অতঃপর এক ব্যক্তি এসে তার মীরাসের দাবি করে শুফ‘আর অধিকার দাবি করল। যদি তার মীরাসের হক প্রমাণিত হয় তবে তার জন্য শুফ‘আর দাবি থাকবে। এই সময় যা উৎপন্ন হয়েছে তা খরিদ্দারের থাকবে, যে দিন হতে দ্বিতীয় জনের হক প্রতিষ্ঠিত হয় সেই দিন পর্যন্ত। কেননা যদি জমি বন্যায় নষ্ট হয়ে যেতে তবে সে তারই অধীনে থাকব।আর যদি অনেক দিন চলে যায় অথবা সাক্ষী কিংবা বিক্রেতা ও ক্রেতা মারা যায় অথবা তারা জীবিতই, কিন্তু বেচাকেনার মূল্য অনেক দিন অতিবাহিত হওয়ার কারণে ভুলে গিয়েছে এই অবস্থায় তার শুফ‘আ চলবে না। কিন্তু তার (মীরাসের) হক পাবে যা প্রমাণিত হয়। আর যদি ব্যাপার অন্য রকম হয় যেমন বেশি দিন অতিবাহিত হয়নি কিন্তু বিক্রেতা বিক্রয়কে এইজন্য গোপন করিতেছে যেন প্রতিবেশী শুফ‘আর দাবি না করতে পারে; তবে আসল জমির দাম যাচাই করে দেখতে হবে, তার দাম কত। অতঃপর জমি যদি আরো বেড়ে থাকে- যেমন ঘরবাড়ি বাগ-বাগিচা তবে তার মূল্য আদায় করে প্রতিবেশী শুফ‘আর দাবিতে নিয়ে নিবে।মালিক (র) বলেন শুধু জীবিতদের সম্পত্তিতেই নয়, মৃত ব্যক্তিদের সম্পত্তিতেও শুফ‘আ চলবে। কিন্তু যদি অংশীদাররা অংশ বন্টন করে নেয় এবং বিক্রয় করে ফেলে তবে আর শুফ‘আ চলবে না। মালিক (র) বলেন আমার মতে গোলাম, বাঁদী, উট, গরু, বকরী ও জীব-জন্তুতে এবং কাপড়-চোপড় ও কূপে যার আশেপাশে জমি নাই শুফ‘আর দাবি চলবে না, কেননা শুফ‘আ তো ঐখানেই হয়ে থাকে যেখানে সীমানা নির্ধারিত করা যায়। সুতরাং যেখানে ভাগবাটোয়ারা চলে না সেখানে শুফ‘আও চলবে না।মালিক (র) বলেন যদি কেউ এমন জমি খরিদ করে যেখানে মানুষের শুফ‘আর অধিকার চলে, তবে তার উচিত সে যেন সমস্ত প্রতিবেশীকে বিচারকের নিকট নিয়ে যায় এবং বলে যে, হয়তো তোমরা নিয়ে যাও অথবা শুফ‘আর দাবি পরিত্যাগ কর। আর সে যদি সকল প্রতিবেশীকে নিয়ে যায়নি কিন্তু বেচাকেনার বিষয় (সময় মতো) সকল প্রতিবেশীই খবর পেয়েছিল এবং এতদসত্ত্বেও অনেক দিন পর্যন্ত শুফ‘আর দাবি করেনি, অতঃপর শুফ‘আর দাবি করলে তাদের দাবি অগ্রাহ্য হবে।

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৩৯৫-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় শুফ‘আর সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করা হয়েছে। জমির সীমানা নির্ধারিত হলে আর শুফ‘আ চলে না। কূপ, নর খেজুর গাছ, পথ, বারান্দা, পশু, কাপড় বা এমন জিনিসে শুফ‘আর অধিকার নেই, যেখানে ভাগবাটোয়ারা ও সীমা নির্ধারণের বিষয় নেই। আবার খেয়ারের শর্তে কেনা সম্পত্তিতে ক্রয় পাকাপোক্ত হওয়ার আগে শুফ‘আ দাবি করা যায় না। কেউ দীর্ঘদিন জানার পরও দাবি না করলে তার দাবি অগ্রাহ্য হতে পারে। এই বর্ণনা শেখায়, শুফ‘আ একটি সীমিত অধিকার; এটি সব সম্পদে নয়, বরং নির্দিষ্ট অবস্থায় কার্যকর।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সীমা নির্ধারণের পর শুফ‘আর অধিকার থাকে না।
  • যে জিনিস ভাগযোগ্য নয়, তাতে শুফ‘আ সাধারণত প্রযোজ্য নয়।
  • অধিকার জানার পর দীর্ঘ দেরি করলে দাবি দুর্বল হতে পারে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন