৩৬/১৮. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪১১ - তাওবার সুযোগ ও বিচারিক সতর্কতা
ইসলাম ত্যাগ করলে তার হুকুম
তাওবার সুযোগ: উমার (রা)-এর বিচারিক সতর্কতার শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৪১১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৪১১
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ قَدِمَ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَجُلٌ مِنْ قِبَلِ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ فَسَأَلَهُ عَنْ النَّاسِ فَأَخْبَرَهُ ثُمَّ قَالَ لَهُ عُمَرُ هَلْ كَانَ فِيكُمْ مِنْ مُغَرِّبَةِ خَبَرٍ فَقَالَ نَعَمْ رَجُلٌ كَفَرَ بَعْدَ إِسْلَامِهِ قَالَ فَمَا فَعَلْتُمْ بِهِ قَالَ قَرَّبْنَاهُ فَضَرَبْنَا عُنُقَهُفَقَالَ عُمَرُ أَفَلَا حَبَسْتُمُوهُ ثَلَاثًا وَأَطْعَمْتُمُوهُ كُلَّ يَوْمٍ رَغِيفًا وَاسْتَتَبْتُمُوهُ لَعَلَّهُ يَتُوبُ وَيُرَاجِعُ أَمْرَ اللهِ ثُمَّ قَالَ عُمَرُ اللهُمَّ إِنِّي لَمْ أَحْضُرْ وَلَمْ آمُرْ وَلَمْ أَرْضَ إِذْ بَلَغَنِي
মুহাম্মাদ ইব্নু আবদুল্লাহ (রহঃ) তার পিতা হতে বর্ণিতঃ
আবূ মূসা আশ‘আরী (রা)-এর নিকট হতে এক ব্যক্তি উমর (রা)-এর নিকট এল। উমর (রা) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, সেখানের লোকের কি অবস্থা? সে সেখানের অবস্থা বর্ণনা করল। অতঃপর উমর (রা) বললেন, সেখানের কোন অভিনব সংবাদ আছে কি? লোকটি বলল, হ্যাঁ, আছে এক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করার পর আবার কাফের হয়ে গেছে। উমর (রা) বললেন, তোমরা তাকে কি করেছ? সে বলল, তাকে বন্দী করে শিরশ্ছেদ করেছি।উমর (রা) বললেন, তোমরা যদি তাকে তিন দিন পর্যন্ত বন্দী করে রাখতে আর শুধু ১টি রুটি খেতে দিতে এবং তাওবা করাতে তবে হয়ত সে তাওবা করত এবং আল্লাহর দ্বীনের দিকে এসে যেত। অতঃপর উমর (রা) বললেন, হে আল্লাহ্, আমি ঐ কাজে শামিল ছিলাম না, মারার হুকুমও দেইনি, কিংবা তার খবর শুনেও খুশী হইনি।(হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৪১১-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবূ মূসা আশআরী (রা)-এর পক্ষ থেকে এক ব্যক্তি উমার (রা)-এর কাছে এসে সংবাদ দেন যে, একজন ইসলাম গ্রহণের পর আবার কাফের হয়ে গেছে এবং তাকে হত্যা করা হয়েছে। উমার (রা) এতে খুশি হননি। তিনি বলেন, যদি তাকে তিন দিন বন্দী রাখা হতো, প্রতিদিন একটি রুটি দেওয়া হতো এবং তাওবা করতে বলা হতো, তাহলে হয়তো সে তাওবা করে আল্লাহর দ্বীনে ফিরে আসত। এরপর উমার (রা) আল্লাহর কাছে ঘোষণা করেন যে, তিনি সেই কাজে উপস্থিত ছিলেন না, আদেশ দেননি এবং শুনেও খুশি হননি। এই বর্ণনায় কঠোর বিষয়ে তাড়াহুড়া না করে তাওবার সুযোগ ও বিচারিক সতর্কতার গুরুত্ব এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুতর বিষয়ে তাড়াহুড়া করে ফয়সালা করা উচিত নয়।
- তাওবার সুযোগ দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে এসেছে।
- উমার (রা) অন্যায়ের আশঙ্কা হলে নিজের দায় থেকে মুক্তি ঘোষণা করেছেন।
- বিচারিক সিদ্ধান্তে দয়া, সতর্কতা ও নিয়মের জায়গা আছে।
