৪৬/১. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৬০৪ - হিদায়াত ও পথভ্রষ্টতার মালিক আল্লাহ
তকদীরের ব্যাপারে বিতর্ক করা নিষেধ
হিদায়াত আল্লাহর হাতে: বান্দার জন্য বড় শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৬০৪
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৬০৪
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِإِنَّ اللهَ هُوَ الْهَادِي وَالْفَاتِنُ
‘আমর ইবনু দীনার (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আব্দুল্লাহ ইব্নু যুবাইর (রাঃ)-এর কাছে শুনেছি, তিনি স্বীয় খুৎবা দেয়ার সময় বলতেন, আল্লাহ্ তা‘আলাই মানুষকে সৎপথ প্রদর্শনকারী, আর তিনিই পথভ্রষ্টকারী। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) এককভাবে বর্ণনা করেছেন) (কোরআন মাজীদেও বলা হয়েছে, আল্লাহ্ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা হিদায়ত দান করেন, যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন। সুতরাং ভাল-মন্দ সমস্ত কাজ আল্লাহ্ই সৃষ্টি করে থাকেন, কিন্তু মানুষকে ভাল-মন্দ কাজ বলে দেয়া হয়েছে এবং উহা হতে বেছে নেয়ার ইখতিয়ার দেয়া হয়েছে। এই স্বাধীনতার উপরই তার সওয়াব ও আযাব হবে। কদরীয়া [১] ও শীয়া দলের মতে মানুষ নিজের কাজের নিজেই সৃষ্টিকর্তা। এই মতবাদ কোরআন ও হাদীসের বিপরীত)
[১] কদরীয়া একটি ভ্রষ্ট দল। তারা মানুষকে সর্বকাজের সৃষ্টিকর্তা এবং পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী মনে করে থাকে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৬০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর (র)-এর খুৎবার একটি কথা এসেছে। তিনি বলতেন, আল্লাহ্ তা‘আলাই মানুষকে সৎপথ দেখান, আর তিনিই পথভ্রষ্টকারী। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, হিদায়াত মানুষের নিজের শক্তির ফল নয়। আল্লাহ্ যাকে সঠিক পথ দেখান, সে পথ পায়। আবার কেউ পথ থেকে সরে গেলে সেটাও আল্লাহ্র ইচ্ছা ও জ্ঞানের বাইরে নয়। এই কথা বান্দাকে বিনয়ী করে। কেউ দ্বীনের পথে থাকলে নিজের যোগ্যতা নিয়ে অহংকার করার সুযোগ নেই; বরং আল্লাহর কাছে হিদায়াত ধরে রাখার দোয়া করা উচিত। একই সঙ্গে ভুল পথে থাকা মানুষকে ঘৃণা নয়, বরং তার জন্য সঠিক পথের দোয়া করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হিদায়াত আল্লাহ্র দান, মানুষের নিজস্ব ক্ষমতা নয়।
- সঠিক পথে থাকার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা দরকার।
- দ্বীনের কারণে অহংকার করা উচিত নয়।
- ভুল পথে থাকা মানুষের জন্য হিদায়াতের দোয়া করা ভালো।
