৪৭/১. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৬১৫ - সৎ চরিত্রের উচ্চ মর্যাদা
সৎস্বভাব প্রসঙ্গ
সৎ চরিত্রের মর্যাদা: ইবাদতের সৌন্দর্য আচরণে
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৬১৫
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৬১৫
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ الْمَرْءَ لَيُدْرِكُ بِحُسْنِ خُلُقِهِ دَرَجَةَ الْقَائِمِ بِاللَّيْلِ الظَّامِي بِالْهَوَاجِرِ
ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেছেন, আমার কাছে এই রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, মানুষ তার সৎ চরিত্রের জন্য সারা রাত্রি ইবাদতকারী ও সর্বদা রোজা রাখে, এমন ব্যক্তির মর্যাদা লাভ করে থাকে। [১]
[১] অর্থাৎ যদি লোকে তার প্রশংসা করে তবে বুঝবে যে, এই ব্যক্তি আল্লাহ্র কাছেও ভাল, আর যদি লোকে তাকে মন্দ ধারণা করে থাকে, তবে বুঝবে আল্লাহ্র কাছেও এই ব্যক্তি মন্দ। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৬১৫-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, একজন মানুষ সৎ চরিত্রের কারণে এমন মর্যাদা পেতে পারে, যা রাতভর ইবাদতকারী এবং দিনের গরমে রোযা রাখা ব্যক্তির মর্যাদার মতো। এখানে সৎ চরিত্রের বড় মূল্য বুঝানো হয়েছে। ইসলামে ইবাদত শুধু নামায-রোযার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সাথে ব্যবহার, কোমলতা, ধৈর্য, ভদ্রতা ও ক্ষতি না করা—এসবও দ্বীনের বড় অংশ। হাদিসটি ইবাদতের গুরুত্ব কমায় না; বরং দেখায়, ভালো আখলাক আল্লাহর কাছে মূল্যবান। কেউ যদি মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করে, অথচ ইবাদত নিয়ে গর্ব করে, তবে এই শিক্ষা তাকে ভাবতে বাধ্য করে। সুন্দর চরিত্র মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যের পথে সাহায্য করতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সৎ চরিত্রের মর্যাদা অনেক বড়।
- ইবাদতের পাশাপাশি মানুষের সাথে ভালো আচরণ জরুরি।
- ভদ্রতা, ধৈর্য ও নরম ব্যবহার দ্বীনের সৌন্দর্য প্রকাশ করে।
- ইবাদত নিয়ে অহংকার নয়; চরিত্রও ঠিক করা দরকার।
