৫১/৪. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৭১৩ - জিনের অনিষ্ট থেকে আশ্রয়ের দোয়া
শোয়ার প্রাক্কালে শয়তান হতে আশ্রয় প্রার্থনা প্রসঙ্গে
জিনের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার দোয়া
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৭১৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৭১৩
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ قَالَ أُسْرِيَ بِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَأَى عِفْرِيتًا مِنْ الْجِنِّ يَطْلُبُهُ بِشُعْلَةٍ مِنْ نَارٍ كُلَّمَا الْتَفَتَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَآهُ فَقَالَ لَهُ جِبْرِيلُ أَفَلَا أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ تَقُولُهُنَّ إِذَا قُلْتَهُنَّ طَفِئَتْ شُعْلَتُهُ وَخَرَّ لِفِيهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَلَىفَقَالَ جِبْرِيلُ فَقُلْ أَعُوذُ بِوَجْهِ اللهِ الْكَرِيمِ وَبِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ اللَّاتِي لَا يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ وَلَا فَاجِرٌ مِنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنْ السَّمَاءِ وَشَرِّ مَا يَعْرُجُ فِيهَا وَشَرِّ مَا ذَرَأَ فِي الْأَرْضِ وَشَرِّ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمِنْ فِتَنِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمِنْ طَوَارِقِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ إِلَّا طَارِقًا يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا رَحْمَنُ
ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, মি‘রাজ রজনীতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একটি জ্বীন দেখতে পেলেন। তার হাতে আগুনের লেলিহান শিখা ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার দিকে দেখলে মনে হত যেন সে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর দিকে ছুটে আসছে। অতঃপর জিবরাঈল (আঃ) প্রিয় নবীকে বললেন, আমি আপনাকে এমন কতকগুলো শব্দ শিক্ষা দিব কি যা পাঠ করলে এই জ্বীনের আগুন নিভে যাবে এবং সে উপুড় হয়ে পড়ে যাবে? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, নিশ্চয়ই শিক্ষা দিবেন।অতঃপর জিবরাঈল (আঃ) বললেন, পড়ুনঃ أَعُوذُ بِوَجْهِ اللهِ الْكَرِيمِ وَبِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ اللَّاتِي لَا يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ وَلَا فَاجِرٌ مِنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنْ السَّمَاءِ وَشَرِّ مَا يَعْرُجُ فِيهَا وَشَرِّ مَا ذَرَأَ فِي الْأَرْضِ وَشَرِّ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمِنْ فِتَنِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمِنْ طَوَارِقِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ إِلَّا طَارِقًا يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا رَحْمَنُ আমি আসমান হতে আগত ও আসমানের দিকে ধাবিত বস্তুর অমঙ্গল হতে, মাটিতে সৃষ্ট ও মাটি হতে বহির্গত বস্তুর অমঙ্গল হতে, রাত্র-দিনের বালা-মুসিবত হতে ও রাত্র-দিনের ঘটনাপ্রবাহ হতে- তবে উত্তম ঘটনা হতে নয়- হে দয়াময়! (আমি) আল্লাহ্র সম্মানিত সত্তার ও তার সেই পূর্ণ কলেমাসমূহের আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যা পুণ্যবান ও পাপী কেহই অতিক্রম করতে পারে না। [১]
[১] নাসায়ী শরীফে আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এই দু‘আ পাঠ করলেন এবং সেই দৈত্য উপুড় হয়ে ভূলুণ্ঠিত হল এবং তার আগুন নিভে গেল। (সহীহ, আহমাদ ১৫৪৯৮, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন [সিলসিলা সহীহা ২৯৯৫] তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৭১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মি‘রাজ রজনীর একটি ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি জিন দেখতে পেলেন, যার হাতে আগুনের শিখা ছিল। তিনি তাকালে মনে হতো, জিনটি তাঁর দিকে ছুটে আসছে। তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম নবীজিকে কিছু শব্দ শেখাতে চান, যা পাঠ করলে জিনের আগুন নিভে যাবে এবং সে পড়ে যাবে। এরপর তিনি একটি দীর্ঘ দোয়া শিক্ষা দেন। দোয়ায় আসমান ও জমিনের বিভিন্ন অনিষ্ট, রাত-দিনের ফিতনা এবং অকল্যাণকর ঘটনার ক্ষতি থেকে আল্লাহর সম্মানিত সত্তা ও পূর্ণ কালিমার আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। জিন থেকে বাঁচার দোয়া, মি‘রাজের দোয়া, আশ্রয় প্রার্থনার দোয়া—এসব বিষয়ে এই বর্ণনা গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অদৃশ্য অনিষ্ট থেকে বাঁচতে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া উচিত।
- দোয়ায় আসমান, জমিন, রাত ও দিনের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।
- জিবরাঈল আলাইহিস সালাম নবীজিকে এই দোয়ার শব্দ শেখান।
