৫২/২. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৭২৬ - দাবা ও অনর্থক খেলার সতর্কতা
শতরঞ্জ (দাবা) খেলা প্রসঙ্গে
দাবা খেলার হাদিস: অনর্থক খেলা থেকে সতর্ক থাকার শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৭২৬
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৭২৬
حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ مُوسَى بْنِ مَيْسَرَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدِ فَقَدْ عَصَى اللهَ وَرَسُولَهُو حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ أَبِي عَلْقَمَةَ عَنْ أُمِّهِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ بَلَغَهَا أَنَّ أَهْلَ بَيْتٍ فِي دَارِهَا كَانُوا سُكَّانًا فِيهَا وَعِنْدَهُمْ نَرْدٌ فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِمْ لَئِنْ لَمْ تُخْرِجُوهَا لَأُخْرِجَنَّكُمْ مِنْ دَارِي وَأَنْكَرَتْ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ
আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি দাবা খেলা খেললো, সে আল্লাহ্ ও আল্লাহ্র রাসূলের নাফরমানী করল (অবাধ্য হল)। [১] (হাসান, আবূ দাঊদ ৪৯৩৮, ইবনু মাজাহ ৩৭৬২, আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন [সহীহ আল জামে ৬৫২৯]) নবী করীম (ﷺ)-এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত; তাঁর বাড়ির একটি ঘরে কিছুসংখ্যক লোক বাস করত। তিনি শুনেছেন যে, উহাদের নিকট শতরঞ্জ রয়েছে। অতঃপর তিনি তাদের নিকট বলে পাঠালেন, তোমরা উহা (শতরঞ্জ) দূর কর। অন্যথায় আমি তোমাদেরকে আমার ঘর হতে বাহির করে দিব। তিনি উহাকে অত্যন্ত খারাপ মনে করেছেন।
[১] শতরঞ্জ বলতে শুধু ছক্কা খেলাকেই বোঝায় না, বরং আমাদের দেশে প্রচলিত দাবা খেলা, তাস খেলা, বাঘ-গুটি খেলা ইত্যাদি সমস্তই এর অন্তর্ভুক্ত। এই সমস্ত খেলার মাধ্যমে পরস্পরের মধ্যে শত্রুতাও পয়দা হয়। এতে মত্ত হয়ে আল্লাহকে ভুলে যায়, নামাজ কাযা হয়ে যায় এবং আরও নানা রকমের পাপাচারে লিপ্ত হয়। এক হাদীসে আছে, যে ব্যক্তি শতরঞ্জ খেলেছে সে নিজের হস্তকে শূকরের গোশত ও রক্তে রঞ্জিত করেছে। এই জন্য আলেমগণ একে হারাম বলেছেন। ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ), ইমাম মালিক (রহঃ) ও আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) এই জাতীয় খেলাকে সম্পূর্ণরূপে হারাম বলেছেন। ইমাম শাফিয়ী (রহঃ) বলেন যে, যদি এই খেলার কারণে আল্লাহর কোন ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় কিংবা ইহা অভ্যাসে পরিণত হয়, তা হলে ইহা হারাম, অন্যথায় মাকরূহ তান্যীহ। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৭২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় খেলাধুলার এমন একটি দিক এসেছে, যা দ্বীনের ক্ষতি ও সময়ের অপচয়ের কারণ হতে পারে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এই ধরনের খেলা খেলল, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করল। একই বর্ণনায় আয়িশা রাঃ-এর একটি ঘটনা এসেছে। তাঁর বাড়ির একটি ঘরে কিছু লোক থাকত। তিনি জানতে পারলেন, তাদের কাছে শতরঞ্জ আছে। তখন তিনি তা দূর করতে বললেন, না হলে তাদের ঘর থেকে বের করে দেওয়ার কথা জানালেন। এতে বোঝা যায়, তিনি এটিকে খুব খারাপ মনে করেছিলেন। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো এমন খেলা থেকে দূরে থাকা, যা মানুষকে আল্লাহর আনুগত্য, সময়ের মূল্য ও ভাল কাজে মনোযোগ থেকে সরিয়ে দেয়। তবে ব্যাখ্যায় হাদিসের ভাষার বাইরে নতুন শর্ত যোগ করা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্বীনের ক্ষতি করে এমন খেলা থেকে দূরে থাকা উচিত।
- সময় নষ্টকারী ও অনর্থক কাজকে সাহাবীরা গুরুত্ব দিয়ে অপছন্দ করতেন।
- ঘরের পরিবেশকে ভাল কাজে সহায়ক রাখা মুসলিম জীবনের অংশ।
