৩/৬. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৭৪ - নামাজে উচ্চস্বরে কিরাআতের আদব
কিরা‘আত সম্পর্কীয় আহকাম
নামাজে কুরআন তিলাওয়াতের আদব: অন্যকে বিরক্ত না করা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৭৪
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৭৪
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِي حَازِمٍ التَّمَّارِ عَنْ الْبَيَاضِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ عَلَى النَّاسِ وَهُمْ يُصَلُّونَ وَقَدْ عَلَتْ أَصْوَاتُهُمْ بِالْقِرَاءَةِ فَقَالَ إِنَّ الْمُصَلِّيَ يُنَاجِي رَبَّهُ فَلْيَنْظُرْ بِمَا يُنَاجِيهِ بِهِ وَلَا يَجْهَرْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ بِالْقُرْآنِ.
আবূ হাযিম তাম্মার (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদল লোকের কাছে আসলেন, সে সময় তারা (ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হয়ে) নামাজ আদায় করছিলেন এবং উচ্চকণ্ঠে কোরআন তিলাওয়াত করছিলেন। এটা দেখে তিনি বললেন, নামাজরত ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সাথে মোনাজাত করে, কাজেই তার খেয়াল রাখা উচিত যে, কিভাবে তার প্রভুর সাথে আলাপ করছে। আর তোমরা সরবে (নামাজে) কোরআন পাঠে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করো না।
(সহীহ, আবূ দাঊদ ১৩৩২ (রহঃ) তিনি আবূ সাঊদ খুদরী (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, আল্লামা আলবানী সহীহ আল জামে ২৬৩৯ গ্রন্থে সহীহ বলেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নামাজে কুরআন তিলাওয়াতের আদব খুব সুন্দরভাবে শেখানো হয়েছে। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল লোকের কাছে এলেন। তারা নামাজ পড়ছিলেন এবং উচ্চস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন। তখন তিনি বললেন, নামাজরত ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সঙ্গে মোনাজাত করে। তাই সে যেন খেয়াল রাখে, কীভাবে সে তার প্রভুর সঙ্গে কথা বলছে। তিনি আরও বললেন, তোমরা সরবে কুরআন পাঠে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করো না। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, নামাজে কণ্ঠ সুন্দর বা জোরে করা মূল উদ্দেশ্য নয়; বিনয়, মনোযোগ এবং অন্যের নামাজের প্রতি খেয়াল রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজরত ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সঙ্গে মোনাজাত করে।
- কুরআন তিলাওয়াতে অন্য মুসল্লিকে বিরক্ত করা উচিত নয়।
- নামাজে কণ্ঠের চেয়ে মনোযোগ ও আদব বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- একসাথে নামাজ পড়লে অন্যের ইবাদতের দিকেও খেয়াল রাখা দরকার।
