৫৪/৭. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৭৫৪ - খাবার সামনে এলে তাড়াহুড়া না করার শিক্ষা
ঘীতে ইঁদুর পতিত হলে কি করা হবে, নামাযের সময় খাবার এলে আগে খাবে
খাবার সামনে থাকলে তাড়াহুড়া নয়—ইবনু উমার (রাঃ)-এর আমল
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৭৫৪
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৭৫৪
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ كَانَ يُقَرَّبُ إِلَيْهِ عَشَاؤُهُ فَيَسْمَعُ قِرَاءَةَ الْإِمَامِ وَهُوَ فِي بَيْتِهِ فَلَا يَعْجَلُ عَنْ طَعَامِهِ حَتَّى يَقْضِيَ حَاجَتَهُ مِنْهُ
নাফি’ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইব্নু উমর (রাঃ)-এর কাছে রাতের খাবার পেশ করা হত। তিনি তাঁর ঘরে বসে ইমামের (ইশার নামাজের) কিরাত শ্রবণ করতেন। কিন্তু যতক্ষণ তৃপ্ত হয়ে না খেতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত (নামাজের জন্য) তাড়াহুড়া করতেন না।
(হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৭৫৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু উমার (রাঃ)-এর একটি আমল বর্ণিত হয়েছে। তাঁর কাছে রাতের খাবার পেশ করা হত। তিনি ঘরে বসে ইমামের ইশার নামাজের কিরাত শুনতেন। কিন্তু যতক্ষণ খাবার থেকে নিজের প্রয়োজন পূর্ণ না করতেন, ততক্ষণ নামাজের জন্য তাড়াহুড়া করতেন না। এই বর্ণনা আমাদের শেখায়, নামাজে মনোযোগ খুব গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষুধা বা খাবারের টান থাকলে মন অস্থির হতে পারে। তাই খাবার সামনে থাকলে প্রয়োজনমতো খেয়ে নেওয়া, তারপর স্থির মনে নামাজে যাওয়া—এটি সাহাবির আমলে দেখা যায়। তবে এর মানে নামাজকে অবহেলা করা নয়। বরং হাদিসের ভাষা অনুযায়ী বলা যায়, অযথা তাড়াহুড়া করে মনকে অস্থির না রেখে ইবাদতে মনোযোগ রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খাবার সামনে থাকলে অস্থিরতা নিয়ে নামাজে যাওয়া ঠিক নয়।
- ইবাদতে মনোযোগ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ আগে সেরে নেওয়া যেতে পারে।
- সাহাবিরা নামাজকে গুরুত্ব দিতেন, তবে অযথা তাড়াহুড়া করতেন না।
- এই বর্ণনা খাবারের অজুহাতে নামাজ অবহেলার অনুমতি নয়।
