৫৬/১. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৭৮৩ - কাউকে কাফের বলার ভয়াবহতা
অপছন্দনীয় কথাবার্তা প্রসঙ্গে
কাউকে কাফের বলা সম্পর্কে সতর্ক হাদিস
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৭৮৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৭৮৩
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَالَ لِأَخِيهِ كَافِرٌ فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যদি কেউ নিজের কোন ভাইকে কাফের বলে, তবে এতদুভয়ের মধ্যে একজন (নিশ্চয়ই) কাফের হল। [১]
[১] অর্থাৎ কাউকেও কাফের বলে ফতোয়া দিলে ইহা আর ব্যর্থ বা অনর্থ হয় না। সুতরাং যাকে কাফের বলা হয়েছে সে যদি প্রকৃতপক্ষে কাফের হয়, তবে ফতোয়া ঠিক। অন্যথায় কাফের বলে যে ফতোয়া দিয়েছে ফতোয়া তার দিকে ফিরে আসবে। অতএব, কাফের হওয়ার ফতোয়া দিবার বেলায় অত্যধিক সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য। (বুখারী ৬১০৪, মুসলিম ৬০)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৭৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুব কঠিনভাবে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, কেউ যদি নিজের ভাইকে কাফের বলে, তবে দুজনের একজনের উপর তা ফিরে আসে। অর্থাৎ এমন শব্দ খুব সহজে বলা যায় না। কাউকে কাফের বলা শুধু রাগের কথা নয়, এটি অত্যন্ত বড় অভিযোগ। এই হাদিস আমাদের শেখায়, ঈমান ও কুফর নিয়ে কথা বলার সময় জিহ্বা সংযত রাখতে হবে। সাধারণ ঝগড়া, মতবিরোধ বা বিরক্তির কারণে কাউকে এমন কথা বলা ভয়ংকর ভুল। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো—মুসলিম ভাইয়ের ব্যাপারে কঠিন কথা বলার আগে নিজের কথা, নিয়ত এবং ফলাফল নিয়ে ভয় করা। তাই কাউকে কাফের বলা হাদিসের আলোকে খুবই গুরুতর বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কাউকে কাফের বলা অত্যন্ত গুরুতর কথা; এটি হালকাভাবে বলা যায় না।
- রাগের সময় জিহ্বা সংযত রাখা ঈমানদারের জন্য জরুরি।
- মুসলিম ভাইয়ের সম্মান রক্ষা করা ইসলামী আদবের অংশ।
- বড় অভিযোগ করার আগে তার ভয়াবহ পরিণতি মনে রাখা উচিত।
