৫৬/৮. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৮০৩ - দোমুখো মানুষের নিন্দা
অপব্যয় ও দোমুখো মানুষ প্রসঙ্গে
দোমুখো মানুষ সম্পর্কে হাদিস: কথায় সততা রাখার শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৮০৩
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৮০৩
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مِنْ شَرِّ النَّاسِ ذُو الْوَجْهَيْنِ الَّذِي يَأْتِي هَؤُلَاءِ بِوَجْهٍ وَهَؤُلَاءِ بِوَجْهٍ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, দোমুখো মানুষই নিকৃষ্টতম মানুষ অর্থাৎ যে এক দলের সঙ্গে এক রকম কথা বলে এবং অপর দলের সঙ্গে আরেক রকম কথা বলে।
(সহীহ, মুসলিম ২৫২৬, এই হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমেও বর্ণিত হয়েছে অন্য সনদে আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৮০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দোমুখো মানুষকে নিকৃষ্টতম মানুষের মধ্যে গণ্য করেছেন। দোমুখো মানুষ হলো সে, যে এক দলের সঙ্গে এক রকম কথা বলে এবং আরেক দলের সঙ্গে আরেক রকম কথা বলে। এর মানে হলো, মানুষকে খুশি করার জন্য বা নিজের সুবিধার জন্য কথার রং বদলানো খুব খারাপ চরিত্র। এতে বিশ্বাস নষ্ট হয়, সম্পর্ক দুর্বল হয় এবং মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। হাদিসটি আমাদের শেখায়, কথায় একরকম থাকা, সত্য বলা এবং মানুষকে ধোঁকা না দেওয়া মুমিনের জন্য জরুরি। দোমুখো আচরণ শুধু সামাজিক সমস্যা নয়, এটি চরিত্রের বড় দোষ। তাই মুমিনের উচিত কথায় সততা রাখা এবং যে কথাটি সত্য ও ন্যায়ের, সেটিই বলা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- এক দলের কাছে এক কথা আর অন্য দলের কাছে অন্য কথা বলা নিন্দনীয়।
- কথার মধ্যে সততা ও একরকম থাকা ভালো চরিত্রের অংশ।
- নিজের সুবিধার জন্য মানুষের সামনে কথা বদলানো থেকে বেঁচে থাকা উচিত।
- দোমুখো আচরণ মানুষের আস্থা নষ্ট করে।
