৫/৫. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ২৩১ - জুমার আহ্বানে ধাবিত হওয়ার অর্থ
জুম‘আর দিন ‘সা‘ঈ’ বা চেষ্টা করা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
জুমার আযান হলে আল্লাহর স্মরণে যাওয়ার অর্থ কী?
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ২৩১
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ২৩১
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنْ قَوْلِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ { يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللهِ } فَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ كَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَقْرَؤُهَا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَامْضُوا إِلَى ذِكْرِ اللهِ قَالَ مَالِك وَإِنَّمَا السَّعْيُ فِي كِتَابِ اللهِ الْعَمَلُ وَالْفِعْلُ يَقُولُ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى { وَإِذَا تَوَلَّى سَعَى فِي الْأَرْضِ } وَقَالَ تَعَالَى { وَأَمَّا مَنْ جَاءَكَ يَسْعَى وَهُوَ يَخْشَى } وَقَالَ { ثُمَّ أَدْبَرَ يَسْعَى } وَقَالَ { إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّى } قَالَ مَالِك فَلَيْسَ السَّعْيُ الَّذِي ذَكَرَ اللهُ فِي كِتَابِهِ بِالسَّعْيِ عَلَى الْأَقْدَامِ وَلَا الْاشْتِدَادَ وَإِنَّمَا عَنَى الْعَمَلَ وَالْفِعْلَ.
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি ইবনু শিহাব (রহঃ)-কে আল্লাহ তা‘আলার এই বাণী সম্পর্কে প্রশ্ন করেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللهِ . ‘হে মু’মিনগণ। জুমার দিনে যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও। (৬২/৯)জবাবে ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেছেন, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) উক্ত আয়াতকে এইরূপ পড়তেন, إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَامْضُوا إِلَى ذِكْرِ اللهِ. ‘যখন জুমার নামাজের আযান দেওয়া হয় তখন খুতবা ও নামাজের জন্য গমন কর।’ (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন তবে সনদে উল্লিখিত রাবী ইবনু শিহাব ইবনু ওমরের সাথে সাক্ষাত হয়নি)ইয়াহিয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) বলেছেন, কিতাবুল্লাহতে উল্লিখিত ‘সা‘ঈ’-এর অর্থ হল আমল ও কাজ (দৃষ্টান্তস্বরূপ তিনি উল্লেখ করেছেন যেমন) আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন [১], وَإِذَا تَوَلَّى سَعَى فِي الْأَرْضِ আরও ইরশাদ করা হয়েছে [২], وَأَمَّا مَنْ جَاءَكَ يَسْعَى وَهُوَ يَخْشَى আরও ইরশাদ করেন, ثُمَّ أَدْبَرَ يَسْعَى – [৩] ইরশাদ করা হয়েছে [৪], إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّى ইয়াহিয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা স্বীয় কিতাবে যে ‘সা’ঈ’ -এর কথা উল্লেখ করেন তা দ্বারা পায়ে দৌড়ান, দ্রুত গমন অথবা হাঁটা উদ্দেশ্য নয়, উদ্দেশ্য হচ্ছে কাজ ও বাস্তবায়ন।
[১] যখন সে প্রস্থান করে তখন সে পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টির এবং শস্যক্ষেত্রে ও জীব-জন্তুর বংশ নিপাতের চেষ্টা করে। (সূরা: আর-বাকারা ২০৫)[২] অন্যপক্ষে যে তোমার কাছে ছুটে আসে, আর সে সশংকচিত্ত। (সূরা: আবাসা, ৮, ৯)[৩] অতঃপর সে পশ্চাত ফিরে প্রতিবিধানে সচেষ্ট হল। (সূরা: নাযিআত, ২২)[৪] অবশ্যই তোমাদের কর্ম-প্রচেষ্টা বিভিন্ন প্রকৃতির। (সূরা: লাইল, ৪)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ২৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় সূরা জুমু’আর আয়াত ‘ফাসআউ ইলা যিকরিল্লাহ’ সম্পর্কে ইবনু শিহাব (র.)-কে প্রশ্ন করা হয়। তিনি জানান, উমার ইবনু খাত্তাব (রা.) আয়াতটি ‘ফামদু ইলা যিকরিল্লাহ’ অর্থে পড়তেন—অর্থাৎ জুমার নামাজের আহ্বান হলে আল্লাহর স্মরণের দিকে গমন কর। ইমাম মালিক (র.) বলেন, কিতাবুল্লাহতে ‘সা‘ঈ’ শব্দের অর্থ এখানে পায়ে দৌড়ানো বা খুব দ্রুত হাঁটা নয়; বরং কাজ, চেষ্টা এবং বাস্তবভাবে এগিয়ে যাওয়া। তিনি কুরআনের কয়েকটি আয়াতের উদাহরণও দেন যেখানে ‘সা‘ঈ’ কাজের অর্থে এসেছে। তাই এই বর্ণনার মূল শিক্ষা হলো, জুমার আযান শুনে অবহেলা না করে নামাজ ও খুতবার দিকে মনোযোগী হওয়া; তবে এর অর্থ হুড়োহুড়ি করে দৌড়ানো নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমার আযান হলে আল্লাহর স্মরণের দিকে গমন করা উচিত।
- ‘সা‘ঈ’ শব্দ এখানে দৌড়ানো নয়, কাজ ও বাস্তব উদ্যোগ অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- জুমার আহ্বানকে অবহেলা না করে নামাজের দিকে মন দেওয়া দরকার।
- ধর্মীয় শব্দ বুঝতে কুরআনের ব্যবহার ও ব্যাখ্যার দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
