১৫/১. অধ্যায়ঃ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৪৫৪ - পবিত্রতা ছাড়া কুরআন স্পর্শ না করা

কুরআন স্পর্শ করার জন্য ওযূর নির্দেশ

কুরআন স্পর্শের আদব: পবিত্রতা ও সম্মানের শিক্ষা

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৪৫৪

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ أَنَّ فِي الْكِتَابِ الَّذِي كَتَبَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَمْرِو بْنِ حَزْمٍ أَنْ لَا يَمَسَّ الْقُرْآنَ إِلَّا طَاهِرٌ ৬৮১-قَالَ مَالِك وَلَا يَحْمِلُ أَحَدٌ الْمُصْحَفَ بِعِلَاقَتِهِ وَلَا عَلَى وِسَادَةٍ إِلَّا وَهُوَ طَاهِرٌ وَلَوْ جَازَ ذَلِكَ لَحُمِلَ فِي خَبِيئَتِهِ وَلَمْ يُكْرَهْ ذَلِكَ لِأَنْ يَكُونَ فِي يَدَيْ الَّذِي يَحْمِلُهُ شَيْءٌ يُدَنِّسُ بِهِ الْمُصْحَفَ وَلَكِنْ إِنَّمَا كُرِهَ ذَلِكَ لِمَنْ يَحْمِلُهُ وَهُوَ غَيْرُ طَاهِرٍ إِكْرَامًا لِلْقُرْآنِ وَتَعْظِيمًا لَهُ৬৮২قَالَ مَالِك أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي هَذِهِ الْآيَةِ ﴾ لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ } إِنَّمَا هِيَ بِمَنْزِلَةِ هَذِهِ الْآيَةِ الَّتِي فِي عَبَسَ وَتَوَلَّى قَوْلُ اللهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى { كَلَّا إِنَّهَا تَذْكِرَةٌ فَمَنْ شَاءَ ذَكَرَهُ فِي صُحُفٍ مُكَرَّمَةٍ مَرْفُوعَةٍ مُطَهَّرَةٍ بِأَيْدِي سَفَرَةٍ كِرَامٍ بَرَرَةٍ ﴿.

আবদুল্লাহ ইবনু আবূ বাকর ইবনু হাযম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ‘আমর ইবনু হাযমের কাছে যে পত্র লিখেছিলেন তাতে এটাও লিখিত ছিল যে, পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কোরআনকে যেন কেউ স্পর্শ না করে। (‘আমর বিন হাযেম (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি ইমাম হাকেম (রহঃ) বর্ণনা করেছেন। ১/৫৫২, বাইহাকী, কুবরা ১/৮৭, হাদীসটি আল্লামা আলবানী (রহঃ) সহীহ বলেছেন [ইরওয়া ১২২])ইয়াহিয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) বলেছেন, কোরআন শরীফকে জুয্বদান-এর ফিতা ধরে অথবা বালিশের উপর রেখে যেন উত্তোলন না করে, তবে পবিত্রতাবস্থায়। যদি তা (ফিতা ধরে এবং বালিশের উপর কোরআন রেখে ওজু ছাড়া স্পর্শ করা) যায়েজ হত, তবে জিলদকেও পবিত্রতা ছাড়া স্পর্শ করা যেত। আর এটা এই কারণে মাকরূহ করা হয়নি যে, যে ব্যক্তি কোরআন উঠাচ্ছে তার হাতে এমন কোন জিনিস আছে যা দ্বারা এটা অপরিষ্কার হয়ে যাবে। অপবিত্র অবস্থায় উহা উঠান মাকরূহ, এই হুকুম করা হয়েছে কোরআন শরীফের তাযীম ও সম্মানার্থে।ইয়াহিয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) বলেছেন [১], لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ এই আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে সর্বোত্তম যা আমি শুনেছি তা হল যেরূপ সূরা ‘আবাসা’তে ইরশাদ করা হয়েছে كَلاَّ اِنَّهَا تَذْكِرَةٌ فَمَنْ شَاءِ ذَكَرَهُ فِى صُحُفٍ مُكَرَّمَةٍ مَرْفُوعَةٍ مُطَهَّرَةٍ . এই প্রকার আচরণ অনুচিত, ইহা উপদেশবাণী; যে ইচ্ছা করবে সে ইহা স্মরণ রাখিবে। উহা আছে মহান উন্নত মর্যাদাসম্পন্ন পবিত্র গ্রন্থে, মহান, পুতচরিত্র লিপিকারদের হস্তে। (৮০/১১-১৫)

[১] যারা পুত-পবিত্র তারা ব্যতীত অন্য কেহ তা স্পর্শ করে না। (সূরা: ওযাক্বি‘য়াহ, ৭৯)

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৪৫৪-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ‘আমর ইবনু হাযমের কাছে লেখা পত্রের কথা এসেছে। তাতে লেখা ছিল, পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কুরআনকে যেন কেউ স্পর্শ না করে। এরপর ইমাম মালিক (র) কুরআন শরীফ বহন করা, জুয্বদানের ফিতা ধরে বা বালিশের উপর রেখে উঠানো—এসব বিষয়ে পবিত্রতার কথা বলেছেন। তিনি এটিকে কুরআনের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। হাদিস ও ব্যাখ্যার মূল শিক্ষা হলো, কুরআনের সঙ্গে আচরণে সাধারণ বইয়ের মতো ভাব না রেখে বিশেষ সম্মান রাখতে হবে। কুরআন স্পর্শের আদব ও পবিত্রতা এখানে প্রধান বিষয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কুরআন স্পর্শের ক্ষেত্রে পবিত্রতার আদব মানা উচিত।
  • কুরআন বহন বা উঠানোর সময় তার সম্মান মনে রাখতে হবে।
  • কুরআনের সঙ্গে আচরণে অবহেলা না করে শ্রদ্ধা রাখা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন