১৭/৯. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৫৭৯ - বাণিজ্যিক সম্পদের যাকাত
বাণিজ্যিক সম্পদের যাকাত
বাণিজ্যিক সম্পদের যাকাত: পণ্য, নগদ ও বার্ষিক হিসাব
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৫৭৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৫৭৯
حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ زُرَيْقِ بْنِ حَيَّانَ وَكَانَ زُرَيْقٌ عَلَى جَوَازِ مِصْرَ فِي زَمَانِ الْوَلِيدِ وَسُلَيْمَانَ وَعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ فَذَكَرَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ كَتَبَ إِلَيْهِ أَنْ انْظُرْ مَنْ مَرَّ بِكَ مِنْ الْمُسْلِمِينَ فَخُذْ مِمَّا ظَهَرَ مِنْ أَمْوَالِهِمْ مِمَّا يُدِيرُونَ مِنْ التِّجَارَاتِ مِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ دِينَارًا دِينَارًا فَمَا نَقَصَ فَبِحِسَابِ ذَلِكَ حَتَّى يَبْلُغَ عِشْرِينَ دِينَارًا فَإِنْ نَقَصَتْ ثُلُثَ دِينَارٍ فَدَعْهَا وَلَا تَأْخُذْ مِنْهَا شَيْئًا وَمَنْ مَرَّ بِكَ مِنْ أَهْلِ الذِّمَّةِ فَخُذْ مِمَّا يُدِيرُونَ مِنْ التِّجَارَاتِ مِنْ كُلِّ عِشْرِينَ دِينَارًا دِينَارًا فَمَا نَقَصَ فَبِحِسَابِ ذَلِكَ حَتَّى يَبْلُغَ عَشَرَةَ دَنَانِيرَ فَإِنْ نَقَصَتْ ثُلُثَ دِينَارٍ فَدَعْهَا وَلَا تَأْخُذْ مِنْهَا شَيْئًا وَاكْتُبْ لَهُمْ بِمَا تَأْخُذُ مِنْهُمْ كِتَابًا إِلَى مِثْلِهِ مِنْ الْحَوْلِ.৮৮১-قَالَ مَالِك الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِيمَا يُدَارُ مِنْ الْعُرُوضِ لِلتِّجَارَاتِ أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا صَدَّقَ مَالَهُ ثُمَّ اشْتَرَى بِهِ عَرْضًا بَزًّا أَوْ رَقِيقًا أَوْ مَا أَشْبَهَ ذَلِكَ ثُمَّ بَاعَهُ قَبْلَ أَنْ يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ فَإِنَّهُ لَا يُؤَدِّي مِنْ ذَلِكَ الْمَالِ زَكَاةً حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ مِنْ يَوْمَ صَدَّقَهُ وَأَنَّهُ إِنْ لَمْ يَبِعْ ذَلِكَ الْعَرْضَ سِنِينَ لَمْ يَجِبْ عَلَيْهِ فِي شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ الْعَرْضِ زَكَاةٌ وَإِنْ طَالَ زَمَانُهُ فَإِذَا بَاعَهُ فَلَيْسَ فِيهِ إِلَّا زَكَاةٌ وَاحِدَةٌ৮৮২-قَالَ مَالِك الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِي الرَّجُلِ يَشْتَرِي بِالذَّهَبِ أَوْ الْوَرِقِ حِنْطَةً أَوْ تَمْرًا أَوْ غَيْرَهُمَا لِلتِّجَارَةِ ثُمَّ يُمْسِكُهَا حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهَا الْحَوْلُ ثُمَّ يَبِيعُهَا أَنَّ عَلَيْهِ فِيهَا الزَّكَاةَ حِينَ يَبِيعُهَا إِذَا بَلَغَ ثَمَنُهَا مَا تَجِبُ فِيهِ الزَّكَاةُ وَلَيْسَ ذَلِكَ مِثْلَ الْحَصَادِ يَحْصُدُهُ الرَّجُلُ مِنْ أَرْضِهِ وَلَا مِثْلَ الْجِدَادِ ৮৮৩- قَالَ مَالِك وَمَا كَانَ مِنْ مَالٍ عِنْدَ رَجُلٍ يُدِيرُهُ لِلتِّجَارَةِ وَلَا يَنِضُّ لِصَاحِبِهِ مِنْهُ شَيْءٌ تَجِبُ عَلَيْهِ فِيهِ الزَّكَاةُ فَإِنَّهُ يَجْعَلُ لَهُ شَهْرًا مِنْ السَّنَةِ يُقَوِّمُ فِيهِ مَا كَانَ عِنْدَهُ مِنْ عَرْضٍ لِلتِّجَارَةِ وَيُحْصِي فِيهِ مَا كَانَ عِنْدَهُ مِنْ نَقْدٍ أَوْ عَيْنٍ فَإِذَا بَلَغَ ذَلِكَ كُلُّهُ مَا تَجِبُ فِيهِ الزَّكَاةُ فَإِنَّهُ يُزَكِّيهِ ৮৮৪-و قَالَ مَالِك وَمَنْ تَجَرَ مِنْ الْمُسْلِمِينَ وَمَنْ لَمْ يَتْجُرْ سَوَاءٌ لَيْسَ عَلَيْهِمْ إِلَّا صَدَقَةٌ وَاحِدَةٌ فِي كُلِّ عَامٍ تَجَرُوا فِيهِ أَوْ لَمْ يَتْجُرُوا
যুরায়ক ইবনু হাইয়ান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
যুরায়ক ছিলেন মিসরের পথে গমনকারী যাত্রীদের নিকট হতে কর আদায়কারী কর্মচারী। উমর ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) তাঁকে লিখেছিলেন, তোমার এই এলাকা দিয়ে কোন মুসলিম ব্যবসায়ী পথ অতিক্রম করলে, তার বাণিজ্যিক সম্পদ হতে প্রতি চল্লিশ দীনারে এক দীনার আদায় করে নিও। চল্লিশ দীনার হতে কম হলে সে অনুপাতে বিশ দীনার পর্যন্ত হতে আদায় করবে। বিশ দীনার হতে এক-তৃতীয়াংশ দীনারও যদি কম হয় তবে তা ছেড়ে দিও। আর কোন যিম্মী বাসিন্দা ঐ পথ অতিক্রম করলে তার বাণিজ্যিক সম্পদ হতে প্রতি বিশ দীনারে এক দীনার উসুল করবে। বিশের কম দশ দীনার পর্যন্ত হতে সে অনুপাতে উসুল করবে। দশ দীনার হতে এক-তৃতীয়াংশ দীনারও কম হলে তা ছেড়ে দিবে। সম্পূর্ণ বৎসরের জন্য উসুলকৃত পরিমাণের একটা রসিদ করদাতাকে লিখে দিবে যাতে এ কর এক বৎসরের মধ্যে তাকে পুনরায় দিতে না হয়। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট হুকুম হল, কোন ব্যবসায়ী একবার যাকাত প্রদান করার পর এটা দ্বারা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে কোন বস্তু অথবা গোলাম অথবা তদ্রুপ কিছু খরিদ করে যাকাত প্রদান করার তারিখ হতে পূর্ণ এক বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বে উহা বিক্রয় করে দিলে, পূর্ণ বৎসর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে না। কয়েক বৎসর পর্যন্ত যদি এই মাল বিক্রয় না করে রেখে দেয় তবে যখন বিক্রয় করবে তখন শুধু এতে এক বৎসরের যাকাত দিতে হবে।মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট মাস’আলা এই কেউ যদি ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ বা রৌপ্য মুদ্রার বিনিময়ে গম বা খেজুর খরিদ করে রেখে দেয় এবং এতে এক বৎসর অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তবে যখন মাল বিক্রয় হবে তখন নিসাব পরিমাণ হলে এতে যাকাত ওয়াজিব হবে। ফল বা ফসলের মত এর হুকুম হবে না। [১]মালিক (রহঃ) বলেন, কোন ব্যবসায়ীর কাছে বাণিজ্যিক মাল আছে বটে কিন্তু নগদ এত পরিমাণ টাকা তার হয় না যাতে যাকাত ধার্য হতে পারে, বাণিজ্যিক মালের মূল্য ও নগদ অর্থ মিলে নিসাব পরিমাণ হলে এতে যাকাত ধার্য হবে নতুবা ধার্য হবে না। মালিক (রহঃ) বলেন, ব্যবসায়ে খাটান হোক বা না হোক সম্পদে বৎসরে একবারই যাকাত ধার্য হয়ে থাকে।
[১] ফসল ঘরে আসা মাত্রই এর এক-দশমাংশ যাকাত হিসেবে দিতে হয়। বৎসরে যে কয়বার ফসল হবে ততবারই তার যাকাত দিতে হবে।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৫৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বাণিজ্যিক সম্পদের যাকাত নিয়ে বিস্তারিত কথা এসেছে। উমার ইবনু আবদুল আযীয (র) কর আদায়কারী যুরায়ককে লিখেছিলেন, মুসলিম ব্যবসায়ীর প্রকাশ্য বাণিজ্যিক সম্পদ থেকে প্রতি চল্লিশ দীনারে এক দীনার আদায় করতে। নিসাবের নিচে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত অনুপাতে হিসাবের কথাও এসেছে। রসিদ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে, যাতে একই বছরে আবার আদায় না করা হয়। পরে মালিক (র) বলেন, ব্যবসায়িক মাল বিক্রি না হলেও বছরে একবার হিসাব করা হবে; পণ্য ও নগদ মিলিয়ে নিসাব হলে যাকাত দিতে হবে। আবার সম্পদ ব্যবসায় থাকুক বা না থাকুক, বছরে একবারই যাকাত ধার্য হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাণিজ্যিক সম্পদের যাকাত বছরে একবার হিসাব করা হয়।
- পণ্য ও নগদ মিলিয়ে নিসাব হলে যাকাতের বিষয় আসে।
- একই বছরে পুনরায় আদায় না করার জন্য রসিদের কথা এসেছে।
- ব্যবসায়িক মাল বিক্রির সময়ও যাকাতের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ।
