১৭/১১. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৫৮২ - উট, বকরী ও রৌপ্যের যাকাতের হিসাব
চতুষ্পদ পশুর যাকাত
পশুর যাকাতের নিসাব: উট, বকরী ও রৌপ্যের নিয়ম
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৫৮২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৫৮২
- حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ قَرَأَ كِتَابَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي الصَّدَقَةِ قَالَ فَوَجَدْتُ فِيْهِبِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ كِتَابُ الصَّدَقَةِ فِي أَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ مِنْ الْإِبِلِ فَدُونَهَا الْغَنَمُ فِي كُلِّ خَمْسٍ شَاةٌ وَفِيمَا فَوْقَ ذَلِكَ إِلَى خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ ابْنَةُ مَخَاضٍ فَإِنْ لَمْ تَكُنِ ابْنَةُ مَخَاضٍ فَابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ وَفِيمَا فَوْقَ ذَلِكَ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ بِنْتُ لَبُونٍ وَفِيمَا فَوْقَ ذَلِكَ إِلَى سِتِّينَ حِقَّةٌ طَرُوقَةُ الْفَحْلِ وَفِيمَا فَوْقَ ذَلِكَ إِلَى خَمْسٍ وَسَبْعِينَ جَذَعَةٌ وَفِيمَا فَوْقَ ذَلِكَ إِلَى تِسْعِينَ ابْنَتَا لَبُونٍ وَفِيمَا فَوْقَ ذَلِكَ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ حِقَّتَانِ طَرُوقَتَا الْفَحْلِ فَمَا زَادَ عَلَى ذَلِكَ مِنْ الْإِبِلِ فَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ بِنْتُ لَبُونٍ وَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ وَفِي سَائِمَةِ الْغَنَمِ إِذَا بَلَغَتْ أَرْبَعِينَ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ شَاةٌ وَفِيمَا فَوْقَ ذَلِكَ إِلَى مِائَتَيْنِ شَاتَانِ وَفِيمَا فَوْقَ ذَلِكَ إِلَى ثَلَاثِ مِائَةٍ ثَلَاثُ شِيَاهٍ فَمَا زَادَ عَلَى ذَلِكَ فَفِي كُلِّ مِائَةٍ شَاةٌ وَلَا يُخْرَجُ فِي الصَّدَقَةِ تَيْسٌ وَلَا هَرِمَةٌ وَلَا ذَاتُ عَوَارٍ إِلَّا مَا شَاءَ الْمُصَّدِّقُ وَلَا يُجْمَعُ بَيْنَ مُفْتَرِقٍ وَلَا يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بَيْنَهُمَا بِالسَّوِيَّةِ وَفِي الرِّقَةِ إِذَا بَلَغَتْ خَمْسَ أَوَاقٍ رُبُعُ الْعُشْرِ.
বর্ণনাকারী হতে বর্ণিতঃ
মালিক (রহঃ) উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-এর যাকাত সম্পর্কীয় পত্রটি পাঠ করেছিলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন) এতে নিম্নরূপ বিবরণ লিখিত ছিল বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। যাকাত সম্পর্কে এই পত্রটি লিখিত (পাঁচ হতে) চব্বিশ পর্যন্ত উটে প্রতি পাঁচটিতে একটি ছাগল ধার্য হবে। চব্বিশ হতে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত উটে একটি এক বৎসর বয়সী উষ্ট্রী ধার্য হবে। এক বৎসর বয়সের উষ্ট্রী না থাকলে দুই বৎসর বয়সের একটি উষ্ট্রী গ্রহণ করা যাবে।পঁয়ত্রিশ হতে পঁয়তাল্লিশটি পর্যন্ত দুই বৎসর বয়সের একটি উষ্ট্রী ধার্য হবে। পঁয়তাল্লিশ হতে ষাট পর্যন্ত তিন বৎসর বয়সের একটি উষ্ট্রী ধার্য হবে। ষাট হতে পঁচাত্তর পর্যন্ত সংখ্যায় চার বৎসর বয়সের একটি উষ্ট্রী ধার্য হবে। পঁচাত্তর হতে নব্বই পর্যন্ত সংখ্যায় দুই বছর বয়সের দুটি উষ্ট্রী ধার্য হবে। নব্বই হতে একশত বিশটি পর্যন্ত উটে তিন বৎসর বয়সের দুটি উষ্ট্রী ধার্য হবে। একশত বিশের ঊর্ধ্বে প্রতি চল্লিশটিতে দুই বৎসর বয়সের একটি উষ্ট্রী এবং প্রতি পঞ্চাশটিতে তিন বৎসর বয়সের একটি করে উষ্ট্রী ধার্য হবে।চারণভূমিতে বিচরণরত ছাগলের সংখ্যা চল্লিশটি হলে চল্লিশ হতে একশত বিশ পর্যন্ত একটি বকরী ধার্য হবে। একশত বিশ হতে দুইশত পর্যন্ত দুটি বকরী এবং দুইশত হতে তিনশত পর্যন্ত তিনটি বকরী ধার্য হবে। পরে প্রতি শতে একটি করে বকরী আদায় করতে হবে। যাকাতের ক্ষেত্রে ছাগল গ্রহণ করা হবে না। এমনিভাবে দোষযুক্ত এবং বৃদ্ধ পশুও এতে গ্রহণ করা হবে না। যাকাত উসুলকারী ব্যক্তি যদি ভাল মনে করেন তবে তা নিতে পারেন।যাকাত ধার্য হওয়ার ভয়ে পশুর বিভিন্ন দলকে একত্র বা দলকে বিভক্ত যেন করা না হয়। [১] একদল পশুতে যারা শরীক আছেন তারা যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে বরাবর হিসাব ভাগী হবেন। রৌপ্য পাঁচ উকিয়া পরিমাণ হলে তাতে এক-চত্তারিংশ যাকাত দিতে হবে।
[১] এর উদাহরণ হল, কারো নিকট চল্লিশটি ছাগী ছিল। এতে একটি বকরী ধার্য হয়, কিন্তু সে ব্যক্তি যাকাত যাতে ধার্য না হয় এই অভিপ্রায়ে এগুলোকে দুইভাগে বিভক্ত করে ফেলল। এরূপ করা জায়েয নয়। অথবা দুই ব্যক্তির চল্লিশটি করে আশিটি বকরী ছিল। তাতে দুটি বকরী ওয়াজিব হয়, কিন্তু সে এগুলোকে একত্রিত করে দেখাল, যাতে একটি বকরী ওয়াজিব হয়। এটাও না-জায়েয। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৫৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় উমার ইবনু খাত্তাব (রা)-এর যাকাত সম্পর্কীয় পত্রের বিস্তারিত বিধান এসেছে। এখানে উটের সংখ্যা অনুযায়ী কোন বয়সের উষ্ট্রী বা কোন পরিমাণ পশু যাকাত হিসেবে দিতে হবে, তা ধাপে ধাপে বলা হয়েছে। চারণভূমিতে বিচরণরত বকরীর ক্ষেত্রেও চল্লিশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংখ্যার জন্য নির্দিষ্ট যাকাতের কথা এসেছে। একই সঙ্গে রৌপ্য পাঁচ উকিয়া হলে এক-চল্লিশ ভাগ যাকাত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। হাদিসটির বড় শিক্ষা হলো, যাকাতের হিসাব অনুমান বা ইচ্ছামতো নয়; নির্দিষ্ট নিয়ম ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে তা আদায় করতে হয়। এখানে আরও বলা হয়েছে, যাকাতের ভয়ে আলাদা পশুকে একত্র করা বা একত্র পশুকে আলাদা করা যাবে না। দোষযুক্ত, বৃদ্ধ বা অনুপযুক্ত পশু নেওয়ার কথাও নিষেধ করা হয়েছে। তাই পশুর যাকাতের হিসাব করতে হলে নিসাব, পশুর ধরন, বয়স এবং মালিকানার অবস্থা সতর্কভাবে দেখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পশুর যাকাতে সংখ্যা, বয়স ও ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট হিসাব আছে।
- যাকাত কমানোর জন্য পশুর দল কৃত্রিমভাবে একত্র বা পৃথক করা ঠিক নয়।
- দোষযুক্ত বা অতি বৃদ্ধ পশু যাকাতে নেওয়ার নিয়ম নয়, যদি উসুলকারী তা গ্রহণে সম্মত না হন।
- যাকাত আদায়ে ন্যায় ও স্বচ্ছ হিসাব বজায় রাখা দরকার।
